১৬ মাসে অন্তত ১,৫০০ ভুয়া শিরোনাম ও ৩০০ মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরির দাবি Anthropic-এর
ঢাকা | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় ভুয়া সংবাদ তৈরির একটি স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও বন্ধ করার কথা জানিয়েছে AI প্রতিষ্ঠান Anthropic। প্রতিষ্ঠানটির সেপ্টেম্বর ২০২৬ Threat Intelligence প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাইবান্ধাভিত্তিক একজন ব্যক্তি প্রায় ১৬ মাস ধরে ২৯টি Claude অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি করছিলেন।
কী পরিমাণ কনটেন্ট তৈরি হয়েছিল
Anthropic-এর হিসাবে, ওই নেটওয়ার্ক অন্তত—
- ১,৫০০টি ভুয়া শিরোনাম
- ৩০০টি মিথ্যা সংবাদধর্মী লেখা
- ১,৫০০টি image-generation prompt
তৈরি করেছে।
এসব কনটেন্ট Facebook Live, YouTube ও TikTok-এ ছড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
শুধু একজন কীভাবে এত কনটেন্ট তৈরি করল
Anthropic জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি ২৯টি Claude অ্যাকাউন্ট ঘুরিয়ে ব্যবহার করতেন।
একটি automation programme-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যাচে কনটেন্ট তৈরি করা হতো।
প্রতিটি ব্যাচে ১৫টি headline, তিনটি বিস্তারিত মিথ্যা প্রতিবেদন এবং ১৫টি ছবি তৈরির prompt থাকত।
এরপর আলাদা automation system ব্যবহার করে ভিডিও আপলোড ও প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা হতো।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কী ছিল
Anthropic-এর তদন্ত অনুযায়ী, নেটওয়ার্কটির কনটেন্ট আওয়ামী লীগকে সমর্থন করত এবং BNP, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক কমিটি, অন্তর্বর্তী সরকার ও ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য ছড়াত।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—Anthropic বলেছে, তারা আওয়ামী লীগ দলটি এই কার্যক্রম পরিচালনা বা অর্থায়ন করেছে এমন কোনো প্রমাণ পায়নি।
কিছু কনটেন্ট pro-Indian geopolitical interests-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থা এই কার্যক্রম পরিচালনা বা অর্থায়ন করেছে—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
AI-এর নতুন ঝুঁকি কোথায়
আগে বড় আকারের disinformation campaign চালাতে অনেক মানুষ, সময় ও অর্থ প্রয়োজন হতো।
AI সেই খরচ dramatically কমিয়ে দিয়েছে।
একজন ব্যক্তি এখন অল্প সময়ে শত শত headline, article, video script ও image prompt তৈরি করতে পারেন।
এতে misinformation-এর পরিমাণ যেমন বাড়তে পারে, তেমনি সত্যিকারের সংবাদ আর AI-তৈরি মিথ্যা কনটেন্টের পার্থক্য করা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
গ্রামাঞ্চলকেও লক্ষ্য করা হয়েছিল
Anthropic-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনটেন্টগুলো এমন ভাষায় তৈরি করার নির্দেশনা ছিল যাতে কম শিক্ষিত বা গ্রামীণ দর্শকরাও সহজে বুঝতে পারেন।
এখানেই বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
কারণ misinformation campaign যদি নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর ভাষা ও তথ্যগ্রহণের অভ্যাস অনুযায়ী তৈরি করা হয়, তাহলে তা বেশি কার্যকর হতে পারে।
Anthropic কী করেছে
প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট Claude অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করেছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ও অংশীদারদের কাছে technical indicators পাঠানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের activity শনাক্ত করতে নতুন detection ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের জন্য সতর্কবার্তা
AI-generated content এখন শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়—এটি সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতারও বিষয়।
কোনো ভিডিও, ছবি, screenshot বা তথাকথিত “breaking news” social media-তে দেখা গেলেই সেটিকে সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা নিরাপদ নয়।
বিশেষ করে রাজনৈতিক কনটেন্টে source verification, reverse image search, original video source এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
AI এখন সংবাদ তৈরির গতি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে মিথ্যা সংবাদ তৈরির গতিও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: Anthropic Threat Intelligence Report, The Daily Star, The Print।




