Bab el-Mandeb-এর কাছে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় নতুন উদ্বেগ; যুদ্ধ এখন শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্যেরও ঝুঁকি
সানা/তাইজ | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর নতুন সামরিক অগ্রযাত্রায় দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে সংঘাতের কারণে ৮২ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে International Organization for Migration-এর তথ্য উদ্ধৃত করে Reuters জানিয়েছে।
একই সঙ্গে Red Sea উপকূল এবং Bab el-Mandeb প্রণালির কাছাকাছি কৌশলগত অবস্থানগুলোতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের নতুন কেন্দ্র কোথায়
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে হুথি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সংঘাত চলছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা দেশটির পশ্চিমাঞ্চল ও Red Sea উপকূলের দিকে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
Bab el-Mandeb এমন একটি সামুদ্রিক chokepoint, যার মধ্য দিয়ে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন হয়।
৮২ হাজার মানুষ কেন ঘরছাড়া
নতুন সংঘাতের কারণে বহু পরিবার আবারও ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
অনেক ইয়েমেনি পরিবার গত এক দশকে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ফলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি মানে শুধু নতুন একটি আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া নয়—বরং খাবার, পানি, চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা।
মানবিক সংকটের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনীতি
ইয়েমেন ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ।
দীর্ঘ সংঘাতের কারণে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা, খাদ্য সরবরাহ ও অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে।
নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনও বাড়বে।
কিন্তু একই সময়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর খরচও বাড়তে পারে।
কেন বিশ্ববাজারে এর প্রভাব
Bab el-Mandeb-এর আশপাশে সংঘাত বাড়লে জাহাজ কোম্পানিগুলোকে Red Sea এড়িয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথ বেছে নিতে হতে পারে।
এর অর্থ হলো—
- পণ্য পরিবহনে বেশি সময়
- জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি
- insurance cost বৃদ্ধি
- ইউরোপ-এশিয়া বাণিজ্যে অতিরিক্ত খরচ
ফলে ইয়েমেনের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব দেশটির সীমান্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সৌদি আরবের ওপর চাপ
হুথিদের হামলার অন্যতম লক্ষ্য সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো।
সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর সৌদি East-West pipeline বন্ধ হওয়ার ঘটনা দেখিয়েছে, দেশটির তেল রপ্তানির বিকল্প ব্যবস্থাও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়।
ইরানের ভূমিকা
হুথিরা ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
ইরান হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে।
তেহরান অবশ্য আঞ্চলিক সংঘাতে নিজের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে।
বর্তমান সংঘাতে হুথিদের অগ্রগতি তাই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের বৃহত্তর ভূরাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে।
যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে কারা?
ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ।
যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সামরিক সাফল্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ হয়। কিন্তু বাস্তবে হাজার হাজার পরিবার খাবার, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ হারিয়ে আবারও স্থানান্তরিত হচ্ছে।
এখন সামনে দুই সংকট
ইয়েমেনে একই সঙ্গে দুটি সংকট তৈরি হচ্ছে—
এক. মানবিক সংকট। দুই. বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের সংকট।
একটি দীর্ঘ হলে অন্যটির ওপরও চাপ বাড়বে।
তাই ইয়েমেনের বর্তমান সংঘাতকে শুধু আঞ্চলিক যুদ্ধ হিসেবে দেখলে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না।
Bab el-Mandeb-এর নিরাপত্তা এখন বিশ্ব অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
তথ্যসূত্র: Reuters, AP, Al Jazeera, International Organization for Migration।




