Homeশোবিজ টুডেঅনাহার থেকে আলোয়: মারজুক রাসেলের হয়ে ওঠার গল্প

অনাহার থেকে আলোয়: মারজুক রাসেলের হয়ে ওঠার গল্প

কবি, গীতিকার, অভিনেতা—তিন পরিচয়ের আড়ালে এক দীর্ঘ সংগ্রাম; ১৫ আগস্টের জন্মদিনে ফিরে দেখা ‘অনেক-কিছুই-ছাইড়া-আসা-লোক’-এর পথচলা

শোবিজ টুডে ডেস্ক

বাংলা সংস্কৃতিতে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের পরিচয় একটিতে আটকে থাকে না। তাঁরা একসঙ্গে কবি, গীতিকার, অভিনেতা, মডেল—আবার কখনো হয়ে ওঠেন একটি প্রজন্মের ভাষার অংশ। মারজুক রাসেল তেমনই একজন।

১৯৭৩ সালের ১৫ আগস্ট গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী বেড়ে উঠেছেন খুলনার দৌলতপুরে। ২০২৬ সালে তাঁর বয়স ৫৩। শৈশবের আর্থিক অনটন, কৈশোরের কবিতা, টিকে থাকার জন্য নানা কাজ, ঢাকায় এসে অনিশ্চিত দিন, সাহিত্যপাড়ায় ঘোরাফেরা, সংবাদমাধ্যমে কাজ, সঞ্জীব চৌধুরীর হাত ধরে জেমসের কাছে পৌঁছানো—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন যেন নিজেই একটি দীর্ঘ গল্প।

আজকের জনপ্রিয় ‘পাশা ভাই’কে দেখে সেই ছেলেটিকে কল্পনা করা কঠিন, যে একসময় ঢাকায় এসে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সিনেমার টিকিট বিক্রি করেছে, ফুটপাতে হকারি করেছে এবং গাড়ির গ্যারেজে থেকেছে। কিন্তু সেই কষ্টের ভেতর দিয়েই তৈরি হয়েছিল এমন এক সৃষ্টিশীল মন, যা পরবর্তীতে বাংলা গানের অসংখ্য স্মরণীয় পঙ্‌ক্তি লিখেছে।

পাটকলকর্মীর ঘর থেকে কবিতার প্রথম দরজা

মারজুকের বাবা ছিলেন খুলনার একটি পাটকলের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। জন্ম গোপালগঞ্জে হলেও বাবার চাকরির কারণে পরিবার থাকত দৌলতপুরের নির্ধারিত কোয়ার্টারে।

কৈশোরেই লেখালেখির প্রতি তাঁর ঝোঁক তৈরি হয়। মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় খুলনার স্থানীয় পত্রিকা ‘জনবার্তা’য়। তখনও তিনি জানতেন না, এই ছোট্ট প্রকাশনাই একদিন তাঁকে বাংলা কবিতার ভুবনে আলাদা পরিচয় দেবে।

সেই কিশোরের সামনে তখনও কোনো নির্ধারিত পথ ছিল না। কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট ছিল—লেখা তাঁর ভেতরে বাসা বেঁধেছে।

১৯৯৩: খুলনা থেকে ঢাকার পথে

১৯৯৩ সালে জীবনের মোড় ঘোরানোর সিদ্ধান্ত নেন মারজুক। খুলনা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন। রাজধানীতে এসে তাঁর সামনে ছিল না নিশ্চিত চাকরি, বাসস্থান কিংবা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা।

বরং ছিল টিকে থাকার কঠিন বাস্তবতা।

কখনো সিনেমার টিকিট বিক্রি করেছেন, কখনো ফুটপাতে হকারি করেছেন। তোপখানা রোডের একটি গাড়ির গ্যারেজেও থেকেছেন। পরে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ পাওয়ার সুযোগ হয়। জীবনযুদ্ধের এই সময়গুলোই তাঁর সৃজনশীল জেদকে আরও শক্ত করে।

এক দরজায় দাঁড়িয়ে উচ্চারণ: ‘আমি অনাহারী’

মারজুকের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত স্মৃতিগুলোর একটি জড়িয়ে আছে কবি শামসুর রাহমানের সঙ্গে।

ঢাকায় এসে তিনি একসময় কবির বাড়িতে যান। ডোরবেল বাজালে দরজা খুলতে নিজেই বেরিয়ে আসেন শামসুর রাহমান। তরুণ মারজুক তাঁকে বলেন মাত্র দুটি শব্দ—‘আমি অনাহারী।’

এটি নিছক একটি বাক্য ছিল না। ‘অনাহারী’ শামসুর রাহমানের একটি বইয়ের নামও। কিন্তু তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণটির চেহারায় যে অনটনের ছাপ ছিল, সেটি হয়তো আরও বড় সত্যি হয়ে ধরা দিয়েছিল কবির কাছে। স্মৃতিচারণে বলা হয়, শামসুর রাহমান তাঁকে ঘরে নিয়ে যান এবং খাবারের টেবিলে নানা পদ সাজিয়ে দেন।

একজন কবির কাছে অন্য এক তরুণ কবির এই পৌঁছে যাওয়া—বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে হয়তো ছোট ঘটনা। কিন্তু মারজুকের জীবনে এটি ছিল বড় প্রেরণা।

আজিজ মার্কেট: সাহিত্যের আরেক বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকার সাহিত্যপাড়া আজিজ মার্কেট হয়ে ওঠে তাঁর আরেক গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা। নবীন-তরুণ কবি, লেখক ও শিল্পীদের সঙ্গে পরিচয় বাড়তে থাকে। কবিতা ও গল্প লেখার পাশাপাশি তখন গান লেখাও শুরু করেন।

গানের সংখ্যা বাড়লেও প্রথম দিকে সেগুলো শিল্পীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পর ফল মিলত না। পরিচিত সুরকারদের কাছে যেতেন, গান দেখাতেন, আশ্বাস পেতেন—কিন্তু সুযোগ আসত না।

এই অপেক্ষা অনেকের জন্য থেমে যাওয়ার কারণ হতে পারত। মারজুক থামেননি।

ফারুক মাহমুদ থেকে সঞ্জীব—তারপর জেমস

সাংবাদিক ও লেখক ফারুক মাহমুদের সঙ্গে পরিচয় তাঁর জীবনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তাঁর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পান এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা শুরু করেন।

এরপর আসে আরেক গুরুত্বপূর্ণ নাম—সঞ্জীব চৌধুরী।

সঞ্জীব তাঁর লেখা পড়ে তাঁকে নগরবাউল জেমসের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। তখন জেমসের ‘লেইস ফিতা লেইস’ অ্যালবামের কাজ চলছিল। মারজুকের লেখা পছন্দ হয় এবং জেমসের সঙ্গে তাঁর সৃষ্টিশীল সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর গান লেখা তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান পরিচয়ে পরিণত হয়।

এখান থেকেই যেন মারজুকের জীবনের আরেক অধ্যায় শুরু।

জেমসের কণ্ঠে বদলে গেল পরিচয়

নগরবাউল জেমসের জন্য মারজুক রাসেলের লেখা বহু গান শ্রোতাপ্রিয় হয়েছে। ‘মীরা বাঈ’, ‘পত্র দিও’, ‘শরাবে শরাব’, ‘হা ডু ডু’সহ বেশ কিছু গান তাঁর গীতিকবিতার স্বতন্ত্র ভাষাকে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেয়। তাঁর লেখা ‘পত্র দিও’ ও ‘মীরা বাঈ’-এর গীতিকথাও বিভিন্ন গীতিসংকলনে সংরক্ষিত হয়েছে।

তবে মারজুকের গীতিকবিতা শুধু জেমসেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।

আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি, প্রেম আমার উপরে পড়েছে’, পান্থ কানাইয়ের ‘গোল্লা’, আসিফ আকবরের বিভিন্ন গান এবং হাবিব ওয়াহিদ-ন্যান্সির ‘দ্বিধা’ তাঁর গীতিকার পরিচয়কে আরও বিস্তৃত করে। ‘দ্বিধা’ গানটির গীতিকার হিসেবে মারজুকের নাম নথিভুক্ত আছে এবং গানটি থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

কেন তাঁর গান আলাদা?

মারজুক রাসেলের গানের ভাষায় শহর, মানুষ, শরীর, প্রেম, একাকিত্ব, হাস্যরস ও অদ্ভুত কল্পনার এক মিশ্র জগৎ তৈরি হয়।

তিনি প্রচলিত অলংকারে আটকে থাকেন না। বরং কথ্য ভাষা, রাস্তার শব্দ, ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং অপ্রত্যাশিত উপমাকে একসঙ্গে এনে এমন গীতিকবিতা তৈরি করেন, যা একদিকে সরল মনে হয়, অন্যদিকে বারবার শুনলে নতুন অর্থ খুলে দেয়।

এ কারণেই তাঁর গান শুধু জনপ্রিয় হয়নি; একটি নির্দিষ্ট সময়ের যুব-সংস্কৃতির ভাষাকেও ধারণ করেছে।

কবিতায় ফিরে ফিরে নিজের কাছে

গান তাঁকে পরিচিত করেছে বিপুল শ্রোতার কাছে, কিন্তু কবিতা তাঁর প্রথম আশ্রয়।

২০০০ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘শান্টিং ছাড়া সংযোগ নিষিদ্ধ’। এরপর ‘চাঁদের বুড়ির বয়স যখন ষোলো’, ‘বাঈজি বাড়ি রোড’ এবং ‘ছোট্ট কোথায় টেনিস বল’ প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২০ সালে আসে ‘দেহবণ্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর’ এবং ২০২২ সালে ‘হাওয়া দেখি, বাতাস খাই’।

এই বইগুলোর নামই অনেকটা বলে দেয় তাঁর কবিতার স্বর সম্পর্কে। প্রচলিত সৌন্দর্যের বদলে সেখানে আছে ব্যতিক্রমী শব্দবিন্যাস, নগরজীবনের অভিঘাত, তির্যক হাস্যরস এবং এক ধরনের নিজস্ব কাব্যিক অস্থিরতা।

কবিতা থেকে ক্যামেরার সামনে

লেখক হিসেবে পরিচিতির পর অভিনয়েও আসেন মারজুক রাসেল।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘আয়না মহল’ দিয়ে টেলিভিশনে অভিনয়ের শুরু। এরপর ২০০৪ সালে ফারুকীর চলচ্চিত্র ‘ব্যাচেলর’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। প্রথম ছবিতেই তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে। পরে মেড ইন বাংলাদেশ, রাত্রির যাত্রীসাপলুডুসহ একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটক, বিজ্ঞাপন ও মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেছেন তিনি।

‘পাশা ভাই’: নতুন প্রজন্মের আবিষ্কার

অনেক শিল্পীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, একটি প্রজন্মের পরে তাঁদের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে আসে। মারজুক রাসেলের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো।

কাজল আরেফিন অমির ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকে ‘পাশা’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে নতুন করে আবিষ্কৃত হন।

চরিত্রটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে ‘পাশা ভাই’ তাঁর নিজের নামের সঙ্গে মিশে যায়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর মধ্যে পাশার নামও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু একটি চরিত্র নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর কথাবার্তা, লেখালেখি ও নিজস্ব ভঙ্গি তাঁকে তরুণদের কাছে আলাদা আকর্ষণের মানুষ করে তুলেছে।

খ্যাতি এসেছে, বদলায়নি মানুষটি

মারজুক রাসেলের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত এখানেই।

তিনি জনপ্রিয় হয়েছেন বহুবার—কবি হিসেবে, গীতিকার হিসেবে, অভিনেতা হিসেবে। তবু তাঁর প্রকাশভঙ্গিতে এখনো সেই পুরোনো অস্থিরতা, কৌতুকবোধ ও নিজের মতো থাকার প্রবণতা দেখা যায়।

তাঁর জীবনযাপন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লেখালেখিতে অতিরিক্ত তারকাসুলভ আড়ম্বরের চেয়ে বরং দেখা যায় এক ধরনের স্বতন্ত্র ব্যক্তিসত্তা।

সম্ভবত এ কারণেই ‘মারজুক রাসেল’ নামটি শুধু একটি তারকার নাম নয়; এটি একটি আলাদা স্টাইল।

একজন শিল্পীর ভেতরে বহু শিল্পী

মারজুক রাসেলের জীবনকে শুধু অভিনয় দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। তাঁকে শুধু কবি বললেও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

তিনি বাংলা গানের এক গুরুত্বপূর্ণ গীতিকার, যাঁর লেখা গান গেয়েছেন জেমস, আইয়ুব বাচ্চু, হাবিব ওয়াহিদ, ন্যান্সি, আসিফ আকবরসহ জনপ্রিয় শিল্পীরা।

তিনি কবি, যাঁর বইয়ের নামই পাঠককে থমকে দেয়।

তিনি অভিনেতা, যাঁর ‘ব্যাচেলর’-এর পর ‘পাশা ভাই’ পর্যন্ত বিস্তৃত অভিনয়যাত্রা।

আর তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি নিজের ভাষা তৈরি করতে পেরেছেন।

সংগ্রামের গল্পই তাঁর আসল পরিচয়

আজকের জনপ্রিয়তার আলোয় দাঁড়িয়ে মারজুক রাসেলের শুরুর দিনগুলো মনে করলে সাফল্যের অর্থটা আরও পরিষ্কার হয়।

পাটকলকর্মীর সন্তান থেকে কবি। মাদ্রাসার ছাত্র থেকে সংবাদপত্রের লেখক। অনাহারী তরুণ থেকে পরিচিত গীতিকার। ফুটপাত, গ্যারেজ আর অনিশ্চিত জীবন থেকে চলচ্চিত্রের পর্দা। আজিজ মার্কেট থেকে জেমসের স্টুডিও। আর সেখান থেকে বাংলা গানের ইতিহাসের এক পরিচিত নাম।

এই যাত্রায় কোনো শর্টকাট ছিল না। ছিল ক্ষুধা, প্রত্যাখ্যান, অপেক্ষা এবং অবশেষে নিজের প্রতিভাকে জায়গা করে নেওয়ার একরোখা চেষ্টা।

৫৩-এও শেষ হয়নি গল্প

১৫ আগস্টের জন্মদিনে মারজুক রাসেল ৫৩ বছরে পা দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর সৃষ্টিশীলতার বয়স যেন এখনও অনেক কম।

তিনি লিখছেন, অভিনয় করছেন, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করছেন এবং নিজের মতো করে বাংলা সংস্কৃতিতে জায়গা করে আছেন।

বাংলাদেশের আধুনিক বিনোদন ও সাহিত্যজগতে এমন শিল্পীর সংখ্যা খুব বেশি নয়, যাঁর পরিচয় একসঙ্গে এতগুলো স্রোতকে ধারণ করে।

মারজুক রাসেল সেই বিরল শিল্পী, যাঁর জীবন প্রমাণ করে—কখনো কখনো শিল্পীর সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তাঁর অভাব, ক্ষুধা, প্রত্যাখ্যান আর না-পাওয়ার অভিজ্ঞতা।

কারণ সেখান থেকেই জন্ম নেয় ভাষা। আর সেই ভাষা একদিন গান হয়ে মানুষের মুখে মুখে ফেরে। কবিতা হয়ে বইয়ের পাতায় থেকে যায়। আর চরিত্র হয়ে প্রজন্মের স্মৃতিতে বেঁচে থাকে।

জন্মদিনে কবি, গীতিকার ও অভিনয়শিল্পী মারজুক রাসেলের প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।


তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ, আমাদের সময়, ঢাকা পোস্ট, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি পোস্ট, ইত্তেফাক এবং প্রকাশিত বই ও গীতিসংকলনভিত্তিক তথ্য

RELATED ARTICLES

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments