প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বিশ্বাসযোগ্য, আধুনিক ও জনআস্থার’ বিটিভির ভাবনা; কাজী জেসিনের নেতৃত্বে পুরোনো প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে গড়ার কঠিন যাত্রা শুরু
কভার স্টোরি | শোবিজ টুডি
বাংলাদেশ টেলিভিশন—সংক্ষেপে বিটিভি। একটি সময় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বিনোদন, সংবাদ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রধান জানালা ছিল এই প্রতিষ্ঠান। নাটক, গান, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, শিশুদের অনুষ্ঠান, খেলাধুলা কিংবা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রচার—বিটিভির পর্দা ঘিরে তৈরি হয়েছিল কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি।
কিন্তু সময় বদলেছে। স্যাটেলাইট টেলিভিশন এসেছে, বেসরকারি চ্যানেল এসেছে, ইউটিউব ও ফেসবুক এসেছে, এসেছে OTT। দর্শকের সামনে এখন শত শত বিকল্প। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারা, অনুষ্ঠান ও সংবাদে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ এবং বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট—সব মিলিয়ে একসময় বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানটি দর্শকের একটি বড় অংশের কাছে তার আগের অবস্থান হারিয়েছে।
২০২৬ সালে এসে সেই বিটিভিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি বড় প্রত্যাশার কথা সামনে আনলেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মহাপরিচালক কাজী জেসিন।
২৫ আগস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিটিভিকে শুধু আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে চান না; তিনি এটিকে ‘বিশ্বাসযোগ্য, আধুনিক ও জনআস্থার চ্যানেল’ হিসেবে দেখতে চান। কাজী জেসিনের ভাষায়, এ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি নিজেও ‘অভিভূত’।
এ বক্তব্যের তাৎপর্য কোথায়? এবং একটি পুরোনো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানকে সত্যিই কি নতুন করে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব?
বিটিভির সংকটটা কোথায় তৈরি হয়েছিল
বিটিভির সমস্যা নতুন নয়। বেসরকারি টেলিভিশন বিস্তারের অনেক আগেই প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ ও সম্প্রচার নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (RSF) দীর্ঘদিন ধরে বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারকে সরকারের প্রভাবাধীন রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে আসছে। ২০২৩ সালের মূল্যায়নেও RSF বলেছিল, বিটিভি ও বেতার সরকারি প্রচারের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছিল এবং বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে সরকারগুলো গণমাধ্যমকে নিজেদের যোগাযোগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
এই অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নয়; দেশের সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণেও বহুবার বিটিভির দর্শক ও বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যাওয়ার কথা এসেছে। ২০১৩ সালের এক বিশ্লেষণে প্রথম আলো লিখেছিল, বিটিভি দর্শক ও রাজস্ব—দুই দিক থেকেই পিছিয়ে পড়ছিল এবং সরকারি প্রচারযন্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
অর্থাৎ কাজী জেসিন যে ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ পুনর্গঠনের কথা বলছেন, সেটি কোনো কৃত্রিম সমস্যা নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংকট।
তবে বিটিভির গল্প কেবল ব্যর্থতার গল্প নয়
এখানেই বিটিভিকে বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য দরকার।
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে সমালোচনা থাকলেও বিটিভির সাংস্কৃতিক অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। গবেষণাতেও উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত সংবাদ সম্প্রচারের পাশাপাশি বিটিভি দীর্ঘ সময় নাটক, সংগীত, শিশুতোষ অনুষ্ঠান, লোকসংস্কৃতি ও জনসচেতনতার নানা প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এমনকি বহু প্রজন্মের শিল্পী ও নির্মাতার বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রেখেছে।
বিটিভি নিজেও নিজেদের একটি Public Service Broadcaster হিসেবে পরিচিত করেছে এবং শিক্ষা, জনসচেতনতা, জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক উন্নয়নে সম্প্রচারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছে।
সুতরাং পুনর্গঠনের অর্থ বিটিভির অতীতকে অস্বীকার করা নয়। বরং যে শক্ত ভিতের ওপর একসময় প্রতিষ্ঠানটি দাঁড়িয়েছিল, সেটিকে নতুন প্রযুক্তি, নতুন দর্শক ও নতুন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত করাই হতে পারে প্রকৃত সংস্কার।
কাজী জেসিনের বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ—‘জনআস্থা’
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বর্ণনা করতে গিয়ে কাজী জেসিন তিনটি শব্দকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন—বিশ্বাসযোগ্য, আধুনিক ও জনআস্থার।
এই তিনটি শব্দ আসলে একটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের পুনর্গঠনের তিনটি আলাদা স্তর।
‘বিশ্বাসযোগ্য’ মানে সংবাদে তথ্যের নির্ভুলতা, ভারসাম্য ও যাচাই।
‘আধুনিক’ মানে শুধু নতুন ক্যামেরা বা স্টুডিও নয়; বরং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, দ্রুত কনটেন্ট উৎপাদন, আধুনিক ভিজ্যুয়াল, ডেটা-চালিত সাংবাদিকতা, অন-ডিমান্ড ভিডিও এবং তরুণ দর্শকের নতুন মিডিয়া অভ্যাস বোঝা।
আর ‘জনআস্থা’ মানে দর্শক যেন মনে করেন—এই চ্যানেলটি কেবল সরকারের কথা বলার জায়গা নয়, জনগণের কথাও বলার জায়গা।
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা সম্পর্কে কাজী জেসিনের বক্তব্যে এই তৃতীয় বিষয়টিই সম্ভবত সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ।
‘নয়া বন্দোবস্ত’ নয়, প্রতিষ্ঠান বদলের কথা
কাজী জেসিন তাঁর পোস্টে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ‘নয়া বন্দোবস্ত’ প্রসঙ্গও টেনেছেন। তিনি লিখেছেন, অনেকেই ‘নয়া বন্দোবস্ত’ নিয়ে দীর্ঘদিন কথা বললেও বাস্তবে কী হয়েছে, তা দেশবাসী জানেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী বড় কোনো স্লোগান না তুলে বিটিভির মতো একটি পুরোনো প্রতিষ্ঠানকে নীরবে বদলের কাজ করছেন।
এখানে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্নও আছে।
একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বদলানোর সবচেয়ে কঠিন জায়গা হলো—শুধু সরকার বদলালেই কি প্রতিষ্ঠান বদলায়?
বিটিভির ক্ষেত্রে উত্তরটি সহজ নয়। ২০২৬ সালের মিডিয়া পর্যবেক্ষণেও দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এখনও রাষ্ট্রের হাতে, মহাপরিচালক সরকার নিয়োগ করে এবং একটি কার্যকর স্বাধীন editorial firewall বা সম্পাদনাগত সুরক্ষা কাঠামো এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
অতএব, শুধু ভালো উদ্দেশ্য যথেষ্ট নয়। সংস্কারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।
‘ক্রেডিবল বিটিভি’ মানে কী?
কাজী জেসিনের বক্তব্যকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’কে কয়েকটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
প্রথমত, সংবাদ।
বিটিভির সংবাদে সরকারি বক্তব্য যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে বিরোধী মত, নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ, মাঠপর্যায়ের মানুষের বক্তব্য। অভিযোগ ও তথ্যকে আলাদা করা, সংশোধনের সংস্কৃতি তৈরি করা এবং ভুল হলে প্রকাশ্যে তা স্বীকার করা—এসবই credibility-এর ভিত্তি।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা।
সরকারের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের স্বাভাবিক দায়িত্ব হতে পারে। কিন্তু সরকারি কার্যক্রমের সংবাদ আর সরকারি প্রচারণা এক বিষয় নয়। এই সীমারেখাটি স্পষ্ট করতে হবে।
তৃতীয়ত, দর্শকের সঙ্গে সম্পর্ক।
দর্শক কী দেখতে চান—এই প্রশ্নকে গবেষণার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। শুধু কর্তৃপক্ষ কী প্রচার করতে চান, তা দিয়ে আধুনিক টেলিভিশন টিকে থাকে না।
আধুনিক বিটিভি মানে শুধু HD সম্প্রচার নয়
বিটিভির আধুনিকায়ন নিয়ে কথা বললে প্রযুক্তির বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই আসে। কিন্তু আধুনিক একটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলতে কেবল HD ক্যামেরা, নতুন গ্রাফিক্স কিংবা ডিজিটাল স্টুডিও বোঝায় না।
বরং প্রয়োজন হতে পারে—
ডিজিটাল-ফার্স্ট নিউজরুম, যেখানে টেলিভিশন, ওয়েব, ইউটিউব ও সামাজিকমাধ্যমের জন্য একই কনটেন্ট ভিন্ন ফরম্যাটে দ্রুত তৈরি হবে।
ভিডিও অন ডিমান্ড, যাতে দর্শক অনুষ্ঠান মিস করলে পরে দেখতে পারেন।
আর্কাইভ ডিজিটাইজেশন, কারণ বিটিভির কয়েক দশকের অনুষ্ঠান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
তরুণ দর্শকের জন্য কনটেন্ট, যেখানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইতিহাস, সংস্কৃতি, চাকরি, শিক্ষা, উদ্যোক্তা ও জীবনধারার বিষয় থাকবে।
ডেটা ও গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামিং, যাতে ধারণার বদলে দর্শকের আচরণ ও পছন্দ বিশ্লেষণ করে অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করা যায়।
কাজী জেসিনের সাংবাদিকতা ও টেলিভিশন অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে এই রূপান্তরের নেতৃত্ব দেওয়ার একটি বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে।
বিটিভির পুরোনো শক্তিকে ফিরিয়ে আনতে হবে নতুন ভাষায়
বাংলাদেশের বহু কিংবদন্তি শিল্পী, নির্মাতা, লেখক, সংগীতশিল্পী ও অভিনেতার ক্যারিয়ারের সঙ্গে বিটিভির ইতিহাস জড়িয়ে আছে।
এই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি বড় সুযোগ রয়েছে। পুরোনো নাটক, গান, শিশুতোষ অনুষ্ঠান, ঐতিহাসিক ভাষণ, সাক্ষাৎকার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাইজ করে নতুন প্রজন্মের কাছে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।
একই সঙ্গে নতুন নির্মাতাদের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে রাষ্ট্রীয় এই প্ল্যাটফর্ম।
বিটিভির সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়তো তার ভবন নয়, তার আর্কাইভ।
বিটিভির ভবিষ্যৎ একটি ‘জাতীয় প্ল্যাটফর্ম’ হতে পারে
বেসরকারি চ্যানেল সাধারণত বাজার ও দর্শকচাহিদার ওপর পরিচালিত হয়। বিটিভির দায়িত্ব তার চেয়ে বড়।
এখানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কণ্ঠ শোনা যেতে পারে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, গ্রামীণ শিল্পী, লোকসংগীত, আঞ্চলিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের দলিল, ভাষা ও সাহিত্য—সবকিছুর একটি জাতীয় আর্কাইভ হতে পারে বিটিভি।
অর্থাৎ ভবিষ্যতের বিটিভি কেবল একটি টেলিভিশন চ্যানেল নয়; বরং বাংলাদেশের অডিও-ভিজ্যুয়াল স্মৃতির জাতীয় ভাণ্ডার হতে পারে।
কাজী জেসিনের সামনে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা
কাজী জেসিন নিজেই বলেছেন, পুরোনো প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে গড়ে তোলা কঠিন। তাঁর এই স্বীকারোক্তিই সম্ভবত বাস্তবতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।
কারণ বিটিভির পরিবর্তন মানে শুধু কয়েকটি অনুষ্ঠান বদলে দেওয়া নয়। এটি একটি প্রশাসনিক সংস্কৃতি, প্রযোজনা কাঠামো, সংবাদপ্রক্রিয়া, প্রযুক্তি, জনবল, প্রশিক্ষণ এবং দর্শক-সম্পর্ক—সবকিছু একসঙ্গে পুনর্বিবেচনার বিষয়।
আর সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি থাকবে রাজনৈতিক।
বিটিভি কি সরকারের টেলিভিশন থাকবে, নাকি সত্যিই জনগণের টেলিভিশন হয়ে উঠবে?
এই প্রশ্নের উত্তর বক্তৃতায় নয়, সময়ের সঙ্গে দর্শকই দেবেন।
‘প্রথমে বিশ্বাসযোগ্যতা, তারপর জনপ্রিয়তা’
বিটিভির পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক বিষয় মনে রাখা জরুরি—শুধু দর্শকসংখ্যা বাড়ানোই সাফল্য নয়।
একটি অবিশ্বাস্য অনুষ্ঠান হয়তো অনেক মানুষ দেখতে পারেন; কিন্তু জনআস্থা তৈরি করতে হলে দর্শককে বিশ্বাস করাতে হবে যে এই প্রতিষ্ঠানটি সত্য, সংস্কৃতি ও জনস্বার্থের প্রতি দায়িত্বশীল।
তাই নতুন বিটিভির সাফল্যের মাপকাঠি হওয়া উচিত তিনটি বিষয়—
বিশ্বাসযোগ্যতা।
মানসম্মত কনটেন্ট।
জনসম্পৃক্ততা।
দর্শক তখনই ফিরবেন, যখন তাঁরা মনে করবেন—এই পর্দায় যা বলা হচ্ছে, তা বিশ্বাস করা যায়।
নতুন বিটিভির যাত্রা শুরু, ফলাফল এখন সময়ের অপেক্ষা
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর কাজী জেসিন যে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী। তিনি বলেছেন, বিটিভি শুধু তার আগের জায়গায় ফিরবে না; বরং আরও অনন্য, আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ জায়গায় যেতে পারে।
তবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ দীর্ঘ।
প্রথমে প্রয়োজন একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ। তারপর প্রয়োজন দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, সংবাদে স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বের নিশ্চয়তা, মানসম্মত অনুষ্ঠান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—দর্শকের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি।
বিটিভির ইতিহাসে একসময় এমন দিন ছিল, যখন একটি নতুন নাটক প্রচারের সময় সারা দেশে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যেত। সেই সামাজিক প্রভাব হয়তো আগের অর্থে আর ফিরে আসবে না—কারণ মিডিয়ার পৃথিবী বদলে গেছে।
কিন্তু নতুন বিটিভি অন্যভাবে আরও বড় কিছু করতে পারে।
মানুষের সময় দখল করার বদলে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে।
আর যদি সেটি সত্যিই সম্ভব হয়, তাহলে বিটিভির পুনর্জন্ম শুধু একটি টেলিভিশন চ্যানেলের পুনরুত্থান হবে না; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারের ধারণাটিকেই নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।
কাজী জেসিন বলেছেন, “কাজটা কঠিন। তবে কাজটা আনন্দেরও। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ শুরু করেছি।”
এখন বাংলাদেশের দর্শকের অপেক্ষা—এই কথার পর্দার বাস্তব রূপ কবে দেখা যায়।
তথ্যসূত্র: কাজী জেসিনের ২৫ আগস্ট ২০২৬-এর প্রকাশিত বক্তব্য; The Daily Star, প্রথম আলো, RSF এবং State Media Monitor-এর প্রকাশিত তথ্য ও বিশ্লেষণ।




