Homeটুডে বাংলাদশ দিন পর ডোপ টেস্ট নেগেটিভ: তাহলে কি ঘটনার আগে মাদক সেবনের...

দশ দিন পর ডোপ টেস্ট নেগেটিভ: তাহলে কি ঘটনার আগে মাদক সেবনের দাবিই ভুল?

রংপুরের চার খুনে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মূত্র পরীক্ষায় মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি; অথচ পুলিশি বয়ানে হত্যার আগে ইয়াবা সেবনের কথা বলা হয়েছিল—বিজ্ঞানের ভাষায় ১০ দিন পর করা ইউরিন ডোপ টেস্ট আসলে কতটা বলতে পারে?

টুডে টিভি বিডি | বিশেষ অনুসন্ধান

রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে। রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্টের মাধ্যমে কারাগারে তাঁদের মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর জানানো হয়েছে, শরীরে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এই ফল প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ যে প্রাথমিক ব্যাখ্যা দিয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল—সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ইয়াবা সেবনের জন্য গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন এবং সেখানে মাদক সেবন করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে তাঁদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি নিয়েও একই ধরনের বর্ণনা সংবাদমাধ্যমে এসেছে; একটি প্রতিবেদনে তাঁদের বক্তব্য হিসেবে মোট নয়টি ইয়াবা সেবনের কথাও প্রকাশ করা হয়েছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—

হত্যার প্রায় ১০ দিন পরে করা একটি মূত্রের ডোপ টেস্ট নেগেটিভ আসা কি প্রমাণ করে যে তাঁরা হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেননি?

বিজ্ঞানের উত্তর—না, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।

প্রথমেই জানা দরকার: ডোপ টেস্ট কী খোঁজে?

ডোপ টেস্ট কোনো মানুষের জীবনের দীর্ঘ সময়ের মাদক ব্যবহারের ইতিহাস খুঁজে বের করে না। কোন ধরনের biological sample নেওয়া হয়েছে এবং কোন drug বা metabolite খোঁজা হচ্ছে, তার ওপর পরীক্ষার “detection window” নির্ভর করে। মূত্রের পরীক্ষা সাধারণত সাম্প্রতিক মাদক ব্যবহারের চিহ্ন শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় amphetamine-type stimulant-এর জন্য মূত্রে সাধারণত কয়েক দিনের detection window-এর কথা বলা হয়েছে। গবেষণাগারভেদে ও পরিস্থিতিভেদে এই সময় কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

বিশেষ করে methamphetamine-এর ক্ষেত্রে একটি বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় মূত্রে সাধারণত প্রায় ২ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। Mayo Clinic Laboratories amphetamine-type stimulant-এর ক্ষেত্রে সাধারণত প্রায় ২ থেকে ৩ দিনের detection interval উল্লেখ করে, যদিও dose, frequency ও individual metabolism অনুযায়ী সময় পরিবর্তিত হতে পারে। SAMHSA-র guidance-এও amphetamine ও methamphetamine-এর জন্য সাধারণভাবে ২–৪ দিন detectability-এর কথা বলা হয়েছে এবং hydration, metabolism, route ও frequency-এর মতো বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ একজন ব্যক্তি কয়েক দিন আগে methamphetamine-type stimulant গ্রহণ করে থাকলেও, তার অনেক পরে করা urine test নেগেটিভ আসা একেবারেই সম্ভব।


১০ দিন পরে পরীক্ষা: সময়ের ব্যবধানটাই কি এখানে মূল বিষয়?

সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন পর আসামিদের ডোপ টেস্টের জন্য মূত্রের নমুনা নেওয়া হয়।

এই সময়ের ব্যবধানটিই পুরো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

যদি পুলিশি বয়ান অনুযায়ী তাঁরা হত্যাকাণ্ডের রাতে ইয়াবা সেবন করে থাকেন, আর সেই ঘটনার প্রায় ১০ দিন পরে urine test করা হয়, তাহলে সাধারণ urine detection window-এর বাইরে চলে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। ফলে সেই পরীক্ষার নেগেটিভ ফল হত্যার ১০ দিন আগের মাদক সেবনকে বাতিল করে না।

সহজ উদাহরণে বিষয়টি বোঝা যায়।

ধরুন, কোনো ব্যক্তি শনিবার methamphetamine গ্রহণ করলেন। তাঁর urine test যদি সোমবার বা মঙ্গলবার করা হয়, তখন শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। কিন্তু একই ব্যক্তির urine test যদি পরের সপ্তাহের অনেক পরে করা হয়, তখন আগের মাদক ব্যবহারের চিহ্ন আর নাও থাকতে পারে।

সুতরাং—

“ডোপ টেস্ট নেগেটিভ” মানে হলো নমুনা নেওয়ার সময় পরীক্ষায় নির্ধারিত সীমার ওপরে মাদক বা তার metabolite পাওয়া যায়নি।

এটি “গত ১০ দিনেও তিনি মাদক নেননি”—এমন সার্টিফিকেট নয়।


তাহলে এই নেগেটিভ ফলের গুরুত্ব কোথায়?

নেগেটিভ ফল একেবারেই মূল্যহীন নয়। এটি বলে যে নমুনা সংগ্রহের সময় পরীক্ষায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় সংশ্লিষ্ট মাদক পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে যদি কোনো ব্যক্তি নিয়মিত বা সাম্প্রতিক সময়েও মাদক গ্রহণ করে থাকেন, পরীক্ষার timing অনুযায়ী positive হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

কিন্তু একটি পুরোনো ঘটনার আগে তিনি মাদক নিয়েছিলেন কি না, সেটি জানতে ১০ দিন পরে করা urine test-এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। Toxicology interpretation-এ তাই last-use time অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Dose, chronicity, metabolism, urine dilution, urine pH এবং laboratory cutoff—সবকিছু ফলাফলে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ কারণে তদন্তকারীদের এখন শুধু “positive না negative”—এই দুই শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পরীক্ষার method, panel, cutoff, detection limit এবং collection date-ও সামনে আনতে হবে।


‘ইয়াবা’ আর ‘ডোপ টেস্ট’—দুটিকে এক করে দেখা যাবে না

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাধারণভাবে “ডোপ টেস্ট” বলা হলেও সব পরীক্ষায় সব ধরনের মাদক খোঁজা হয় না। কোন panel ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি জানা জরুরি। কিছু standard immunoassay amphetamine-class drugs শনাক্ত করতে পারে, আবার নির্দিষ্ট compound বা confirmatory testing-এর জন্য আলাদা পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে screening-এর পর chromatography/mass spectrometry-ভিত্তিক confirmatory test করা হয়।

সুতরাং এই মামলায় পরীক্ষার রিপোর্টে কোন কোন drug class বা analyte খোঁজা হয়েছিল, তা প্রকাশ না হলে “মাদক নেই”—এই বক্তব্যের বৈজ্ঞানিক পরিসরও পরিষ্কার হয় না।

যদি প্রশ্নটি বিশেষভাবে হয়—“সেদিন ইয়াবা সেবন করেছিলেন কি না?”—তাহলে তদন্তের জন্য পরীক্ষার সময়কাল এবং পরীক্ষার ধরন দুটোই বিবেচনায় নিতে হবে।


রক্ত পরীক্ষা করলে কি এখন উত্তর মিলত?

ঘটনার এতদিন পর রক্ত পরীক্ষা করে সেই রাতের মাদক সেবনের সরাসরি প্রমাণ পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। Blood testing সাধারণত খুব ছোট detection window-এর জন্য বেশি কার্যকর; urine তুলনামূলক দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। Oral fluid-ও সাধারণত অল্প সময়ের ব্যবহার নির্দেশ করে।

ফলে ১০ দিন আগের কোনো নির্দিষ্ট রাতের intoxication পুনর্গঠনের জন্য এখন blood বা oral-fluid testing বাস্তবসম্মত উত্তর নাও দিতে পারে।


চুলের পরীক্ষায় কি সত্য বের হতে পারে?

এখানে বিষয়টি আরও জটিল।

Hair testing মাদক ব্যবহারের অনেক দীর্ঘ সময়ের history দেখাতে পারে; বিভিন্ন গবেষণায় amphetamine ও methamphetamine-এর ক্ষেত্রে ৯০ দিন পর্যন্ত বা তারও বেশি সময়ের detection window-এর কথা বলা হয়েছে।

তবে hair test-এরও সীমাবদ্ধতা আছে।

চুলে মাদক পাওয়া গেলে সেটি কোনো ব্যক্তির কোনো সময়ে exposure বা use-এর সম্ভাবনা দেখাতে পারে; কিন্তু একবারের নির্দিষ্ট রাতের ঠিক কতক্ষণ আগে তিনি মাদক নিয়েছিলেন, কিংবা হত্যার মুহূর্তে তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না—সেটি নির্ভুলভাবে প্রমাণ করা অনেক বেশি কঠিন। চুলের growth ও sample length-এর কারণেও সময় নির্ধারণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

অতএব hair test positive হলেও তা একাই “হত্যার রাতে ইয়াবা সেবন করেছিলেন”—এই বক্তব্য প্রমাণ করবে না।


ডোপ টেস্ট কি বলে, আর কী বলে না?

প্রশ্ন১০ দিন পর urine test-এর উত্তর
নমুনা নেওয়ার সময় detectable drug ছিল কি?✅ কিছুটা বলতে পারে
গত কয়েক দিনে stimulant ব্যবহার হয়েছিল কি?⚠️ timing ও assay-এর ওপর নির্ভর করে
১০ দিন আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন কি?❌ নেগেটিভ ফল দিয়ে বাতিল করা যায় না
হত্যার রাতে ইয়াবা সেবন করেছিলেন কি?❌ এই urine test একা তা নির্ধারণ করতে পারে না
ঘটনার সময় তিনি intoxicated ছিলেন কি?❌ এই পরীক্ষায় বলা যায় না
তিনি নিয়মিত মাদকসেবী কি না❌ শুধু এই urine test দিয়ে বলা যায় না
দীর্ঘ সময়ের use history⚠️ hair বা অন্য পরীক্ষা বেশি উপযোগী হতে পারে

তাহলে পুলিশের ‘ইয়াবা সেবন’ তত্ত্ব এখন কোথায় দাঁড়ায়?

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ডোপ টেস্টের নেগেটিভ ফল পুলিশের পুরো হত্যাতত্ত্বকে নিজে থেকেই মিথ্যা প্রমাণ করে না।

কারণ পুলিশ যদি আরও evidence দেখাতে পারে—যেমন ঘটনাস্থলে মাদক সেবনের উপকরণ, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য, CCTV, আসামিদের location data, ফোনের যোগাযোগ, জবানবন্দি এবং অন্যান্য forensic evidence—তাহলে তদন্তের মোট picture আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

অন্যদিকে যদি পুলিশের প্রধান মোটিভই হয়—**“ওরা ইয়াবা খেতে গিয়েছিল, ইয়াবা সেবন করেছিল, সেখান থেকেই হত্যাকাণ্ড”—**তাহলে urine test-এর সময়কাল ও নেগেটিভ ফল অবশ্যই সেই তত্ত্বকে নতুন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়।

অর্থাৎ এখন সবচেয়ে যুক্তিসংগত অবস্থান—

ডোপ টেস্ট পুলিশের তত্ত্বকে বাতিল করেনি; আবার পুলিশের তত্ত্বকেও নিশ্চিত করেনি।

এটি শুধু দেখিয়েছে যে পরীক্ষার দিন তাঁদের মূত্রে শনাক্তযোগ্য মাদক পাওয়া যায়নি।


১৬৪ ধারার জবানবন্দির সঙ্গে নেগেটিভ ডোপ টেস্ট কীভাবে মিলবে?

এখানেই তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং তাঁদের বক্তব্যে ইয়াবা সেবনের কথাও এসেছে।

এখন তদন্তকারীদের উচিত জবানবন্দির প্রতিটি অংশের সঙ্গে স্বাধীন evidence মিলিয়ে দেখা।

যেমন—

তাঁরা কোথা থেকে ইয়াবা পেয়েছিলেন?

কার কাছ থেকে কিনেছিলেন?

কতক্ষণ আগে সেবন করেছিলেন?

কোথায় সেবন করেছিলেন?

ঘটনাস্থলে সেই মাদকের কোনো residue বা ব্যবহারের সরঞ্জাম ছিল কি?

মোবাইল location কি তাঁদের অবস্থানের সঙ্গে মেলে?

কোনো CCTV তাঁদের চলাচল দেখেছে কি?

ঘটনার সময় তাঁদের আচরণের সঙ্গে সাক্ষীদের বক্তব্য মেলে কি?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর থাকলে urine test নেগেটিভ হওয়া সত্ত্বেও তদন্তের একটি সুসংহত ব্যাখ্যা দাঁড়াতে পারে।


আরেকটি প্রশ্ন: ডোপ টেস্ট এত দেরিতে কেন?

এটি এই মামলার তদন্ত-ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

যদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান একটি মোটিভই হয়ে থাকে মাদক সেবন, তাহলে কেন ঘটনার পরপরই toxicology sample নেওয়া হলো না?

প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর আসামিদের urine sample সংগ্রহ করা হয়েছে।

এখন তদন্ত সংস্থার কাছে যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন হলো—

গ্রেপ্তারের পরপরই কি তাঁদের toxicology sample নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হয়েছিল?

না হয়ে থাকলে কেন?

কোন ধরনের sample নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল?

এত দেরির কারণ কী?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলে মানুষের সন্দেহ ও বিভ্রান্তি অনেকটাই কমবে।


ডোপ টেস্টের চেয়ে ঘটনাস্থলের forensic evidence কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

এই মামলায় শেষ পর্যন্ত সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

কারণ একটি বহুদিন আগের homicide case-এ আসামির কয়েক দিন পরের urine test থেকে হত্যার রাতের intoxication প্রমাণ করা কঠিন। তার চেয়ে বেশি মূল্যবান হতে পারে—

ঘটনাস্থলের DNA, fingerprint, biological material, CCTV, mobile location, call records, ব্যবহৃত গামছা বা অন্য কোনো বস্তুতে forensic trace এবং জবানবন্দির সঙ্গে crime-scene reconstruction-এর মিল।

একটি urine test একটি নির্দিষ্ট সময়ের toxicological snapshot।

অন্যদিকে crime-scene forensic evidence পুরো ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।


পরিবারের প্রশ্নের গুরুত্বও এখানেই

নিহত পরিবারের স্বজনেরা শুরু থেকেই পুলিশের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা জানতে চেয়েছেন, কম বয়সী দুই তরুণের পক্ষে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা কীভাবে সম্ভব এবং ঘটনাটির পেছনে অন্য কেউ ছিল কি না।

ডোপ টেস্টের নেগেটিভ ফল সেই সন্দেহকে প্রমাণ করে না। কিন্তু এটি পরিবারের তোলা প্রশ্নগুলোর সঙ্গে আরও একটি যাচাইযোগ্য বিষয় যোগ করেছে।

এখন তদন্তের দায়িত্ব হলো—সন্দেহকে প্রমাণে এবং পুলিশের দাবিকে evidence-এ রূপান্তর করা।


দাবি বনাম বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা

দাবি: আসামিরা হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

বর্তমান অবস্থা: এটি পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং আসামিদের জবানবন্দিতে এমন তথ্য থাকার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

দাবি: ডোপ টেস্ট নেগেটিভ হওয়ায় তাঁরা ইয়াবা সেবন করেননি।

বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা: ১০ দিন পরের urine test সাধারণত এত পুরোনো exposure বাতিল করার মতো উপযুক্ত পরীক্ষা নয়। methamphetamine/amphetamine-type stimulant-এর urine detection সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে সীমিত থাকে।

দাবি: নেগেটিভ ডোপ টেস্ট পুলিশের ইয়াবা তত্ত্ব সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ করেছে।

বাস্তবতা: না। এটি শুধু দেখায়, পরীক্ষার সময় urine-এ শনাক্তযোগ্য মাত্রায় মাদক পাওয়া যায়নি।

দাবি: নেগেটিভ রিপোর্ট পুলিশের তত্ত্বের কোনো গুরুত্ব নেই।

বাস্তবতা: এটিও ঠিক নয়। যদি ইয়াবা সেবনকে হত্যার মূল motive হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে toxicology-এর timing, method ও অন্যান্য evidence দিয়ে সেটিকে আরও শক্তভাবে corroborate করতে হবে।


এখন তদন্তকারীদের কী করা উচিত?

প্রথমত, দুই আসামির ডোপ টেস্ট রিপোর্টের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ বা অন্তত আদালতের নথিতে থাকা ফলাফল অনুযায়ী কোন কোন substance পরীক্ষা করা হয়েছে তা পরিষ্কার করা দরকার। দ্বিতীয়ত, ঘটনার দিন ও তার আগের কয়েক দিনের আসামিদের মোবাইল location, call detail, যোগাযোগ ও চলাচল যাচাই করতে হবে। তৃতীয়ত, ঘটনাস্থলে পাওয়া মাদক-সংশ্লিষ্ট আলামতের forensic examination এবং DNA/fingerprint testing-এর ফল মিলিয়ে দেখতে হবে। চতুর্থত, ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে বর্ণিত সময়, স্থান, পথ ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে CCTV ও অন্যান্য evidence মিলিয়ে reconstruction করতে হবে। আর পঞ্চমত, যদি মাদককে হত্যার প্রধান মোটিভ হিসেবে রাখা হয়, তাহলে toxicology expert-এর ব্যাখ্যাও তদন্ত নথিতে থাকা উচিত।

শেষ কথা: একটি নেগেটিভ রিপোর্টে রহস্যের সমাধানও হয়নি, পুলিশের গল্পও শেষ হয়নি

রংপুরের চার খুনের মামলায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্ট নেগেটিভ এসেছে—এটি এখন মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য।

কিন্তু এই ফলকে দুই বিপরীত শিবিরের কেউই নিজের মতো করে ব্যবহার করতে পারে না।

যারা বলছেন, “নেগেটিভ মানেই পুলিশ মিথ্যা বলেছে”—তাঁদের বক্তব্যও বৈজ্ঞানিকভাবে পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ হত্যার প্রায় ১০ দিন পর urine test করা হলে আগের মাদক সেবনের চিহ্ন না পাওয়াই স্বাভাবিক হতে পারে।

আবার যারা বলছেন, “ডোপ টেস্ট নেগেটিভ হলেও কোনো সমস্যা নেই”—তাঁদেরও প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। কারণ পুলিশ যখন হত্যার অন্যতম প্রাথমিক ব্যাখ্যা হিসেবে ইয়াবা সেবনের কথা বলেছে, তখন সেই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য evidence সামনে আনা জরুরি।

এই মামলায় তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে একটি বিষয়—

১০ দিন পরের urine test নয়, বরং হত্যার রাতের ঘটনাকে পুনর্গঠন করার মতো সমন্বিত forensic evidence।

যদি আসামিদের জবানবন্দি সত্য হয়, তবে সেই সত্যের ছাপ থাকা উচিত ঘটনাস্থলে।

যদি তাঁরা সত্যিই ইয়াবা সেবন করে থাকেন, তবে তদন্তে তার পারিপার্শ্বিক ও forensic প্রমাণ থাকার কথা।

আর যদি পুলিশের প্রাথমিক ব্যাখ্যা অসম্পূর্ণ হয়, তাহলে সেই অসঙ্গতিও প্রমাণের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসতে হবে।

চারটি প্রাণহানির এই মামলায় তাই এখন আর শুধু একটি প্রশ্ন নয়—

“খুনি কে?”

তার সঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন যুক্ত হয়েছে—

“পুলিশের বলা প্রতিটি তথ্যের পেছনে প্রমাণ কোথায়?”

সেই প্রমাণের উত্তরই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে—রংপুরের মাছুয়াপাড়ার চার হত্যাকাণ্ড আসলে কীভাবে ঘটেছিল, এবং কেন ঘটেছিল।

—টুডে টিভি বিডি | বিশেষ অনুসন্ধান

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments