ইসির চূড়ান্ত তালিকায় নতুন ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার; ইউনিয়ন থেকে সিটি করপোরেশন—বিস্তৃত স্থানীয় নির্বাচন ব্যবস্থার প্রস্তুতি শুরু
ঢাকা | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। সর্বশেষ তালিকার তুলনায় নতুন করে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৩ জন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। ইসি জানিয়েছে, ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার হওয়া ব্যক্তিরাই আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
সোমবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ। চূড়ান্ত তালিকায় পুরুষ ভোটার রয়েছেন প্রায় ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার, নারী ভোটার প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন। এর আগে ১৪ মে প্রকাশিত তালিকায় মোট ভোটার ছিল প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার।
ইউনিয়ন থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা
ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ। কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই এই ধাপ শুরু হতে পারে।
দেশজুড়ে এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য ভোটকেন্দ্রের একটি সম্ভাব্য তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি প্রায় ২ হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় নির্বাচনে আরও প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র প্রয়োজন হতে পারে বলে আগেই ইসি জানিয়েছিল।
৫ স্তরের স্থানীয় নির্বাচন, হাজারো পদে ভোট
ইসির তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পাঁচটি স্তরে বড় পরিসরে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সম্ভাব্য কাঠামোর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, প্রায় ৫০০টি উপজেলা, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪,৫০০টির বেশি ইউনিয়ন পরিষদ।
এর ফলে নির্বাচন কমিশনের সামনে শুধু ভোটার তালিকা প্রস্তুত করাই নয়, বিপুলসংখ্যক ভোটকেন্দ্র, নির্বাচন কর্মকর্তা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ফলাফল ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতিও নিতে হবে। স্থানীয় নির্বাচনের পরিসর জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন হলেও প্রশাসনিক প্রস্তুতির দিক থেকে এটি একটি বড় কর্মসূচি।
সেপ্টেম্বরে সূচি এলে কিছু ভোট এ বছর হতে পারে
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসীর উদ্দিন জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা করা হলে কিছু নির্বাচন বছরের শেষ দিকে আয়োজন করা সম্ভব হতে পারে, আর কিছু নির্বাচন আগামী বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে। সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর প্রায় দুই মাসের মতো সময় নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজন হয়।
এখন তাই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর কমিশনের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা। কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে এবং কোথায় কীভাবে ধাপে ধাপে ভোট নেওয়া হবে—তা তফসিলেই পরিষ্কার হবে।
জাতিসংঘও প্রস্তুতিতে সহযোগিতা দিতে চায়
ইসি সচিবের সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্টিভেন রদ্রিগেস আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও অংশীদাররা বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সহায়তার বিষয়ে ইসির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
📊 ভোটার তালিকার চিত্র
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট ভোটার | ১২,৮৭,৭৭,৬৪৩ |
| নতুন ভোটার | ৪,৫৪,৪০৩ |
| পুরুষ ভোটার | প্রায় ৬.৫৫ কোটি |
| নারী ভোটার | প্রায় ৬.৩৩ কোটি |
| তৃতীয় লিঙ্গ | ১,২৬৭ |
| সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ | ৪,৫০০+ |
| সম্ভাব্য পৌরসভা | ৩৩০ |
| সম্ভাব্য উপজেলা | প্রায় ৫০০ |
🧭 সামনে মূল নজর তফসিলে
ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ শেষ হলো। এখন নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা, সময়সূচি, নিরাপত্তা এবং পর্যায়ভিত্তিক আয়োজনের ওপর নজর থাকবে। বিশেষ করে এত বড় সংখ্যক স্থানীয় নির্বাচনে একই সঙ্গে শৃঙ্খলা ও ভোটগ্রহণের মান ধরে রাখাই কমিশনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
📌 তথ্যসূত্র
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, bdnews24.com, The Daily Star, UNDP Bangladesh।




