একসঙ্গে মূল জমা তোলা যাবে, তবে তোলা অর্থে মুনাফা মিলবে না; ব্যাংকের শাখাগুলো ১ সেপ্টেম্বর থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু করবে
ঢাকা | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যক্তিগত হিসাবধারীরা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের জমার মূল অর্থ তুলে নিতে পারবেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহক চাইলে একবারে পুরো মূল জমা নগদায়ন বা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে যে অর্থ তুলে নেওয়া হবে, তার ওপর মুনাফা দেওয়া হবে না। আজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে শাখাগুলো এ জন্য গ্রাহকদের আবেদন গ্রহণ শুরু করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত গ্রাহকদের জন্য স্বাভাবিক লেনদেন পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক জানিয়েছে, নগদ চাহিদা, শাখাগুলোতে অর্থ সরবরাহ এবং নিরাপদ cash management ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে তাদের আরও কয়েক দিন সময় প্রয়োজন হচ্ছে। তাই কার্যকর অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে ৭ সেপ্টেম্বর।
কোন কোন হিসাব থেকে অর্থ তোলা যাবে
ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আল-ওয়াদিয়া চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং বিভিন্ন মেয়াদি আমানত—যেমন MTDR ও DPS—থেকেও মূল অর্থ তোলার সুযোগ থাকবে। যারা টাকা না তুলে হিসাব চালু রাখবেন, তারা আগের চুক্তিভিত্তিক হারে মুনাফা পেতে থাকবেন। ব্যাংকের সামগ্রিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে গ্রাহকদের জমা ও উত্তোলনের পরিমাণে আর এই বিশেষ সীমাবদ্ধতা থাকবে না।
এই ব্যবস্থা মূলত দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক করার একটি অংশ। তবে সব গ্রাহক একই সময়ে অর্থ তুলতে চাইলে ব্যাংকের তারল্য ও নগদ ব্যবস্থাপনায় বড় চাপ তৈরি হতে পারে।
পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে EXIM Bank, Social Islami Bank, First Security Islami Bank, Global Islami Bank এবং Union Bank একীভূত করে। Financial Express-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় আমানত ফেরত দিতে না পারা এবং আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এসব ব্যাংককে একীভূত করা হয়েছিল।
পাঁচটি ব্যাংকের সম্মিলিত আমানত প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা, যা প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর অর্থ। এর মধ্যে ব্যক্তিগত সঞ্চয় হিসাবে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর মোট প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকার ঋণের ৮৬ শতাংশ খেলাপি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
বিশ্বাস ফেরানোই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ১ সেপ্টেম্বরকে গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোর বিশেষ দিন হিসেবে পালনের নির্দেশ দিয়েছে। শাখাগুলোতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, গ্রাহকসেবা এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক সহায়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রবীণ, নারী ও প্রতিবন্ধী গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সেবা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু গ্রাহকের আস্থা শুধু শাখায় ভালো সেবা দিয়ে ফেরানো সম্ভব হবে না। মূল প্রশ্ন হবে—গ্রাহক প্রতিশ্রুত সময়ে কতটা নির্বিঘ্নে অর্থ তুলতে পারেন এবং ব্যাংকটি দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।
ব্যাংকের হাতে কতটা রাষ্ট্রীয় সহায়তা আছে
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হিসেবে গত বছরের নভেম্বর থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে; বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
📊 সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• মোট আমানত: প্রায় ১.৪২ লাখ কোটি টাকা
• আমানতকারী: প্রায় ৭৬ লাখ
• ব্যক্তিগত সঞ্চয় হিসাব: প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা
• মোট ঋণ: প্রায় ১.৯২ লাখ কোটি টাকা
• খেলাপি ঋণ: প্রায় ৮৬%
• পরিশোধিত মূলধন: ৩৫,০০০ কোটি টাকা
• অর্থ ফেরত শুরু: ৭ সেপ্টেম্বর
🧭 এখন নজর থাকবে ৭ সেপ্টেম্বরের দিকে
অর্থ ফেরতের প্রথম দিন ব্যাংকের তারল্য, নগদ সরবরাহ ও গ্রাহক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার বড় পরীক্ষা হবে। সেই পরীক্ষার ফলই দেখাবে একীভূত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বাস্তবে কতটা এগিয়েছে।
📌 তথ্যসূত্র
বাংলাদেশ ব্যাংক, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, The Financial Express।




