২৫টি চুরির ঘটনায় আবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার, ২৩টি এফআইআর না হওয়ায় আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ
মতলব উত্তর, চাঁদপুর | TODAY TV BD
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় মামলা রুজুর আবেদন পাওয়ার পরও ২৩টি অভিযোগ এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত না করার ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে আদেশ দেন বলে আজকের পত্রিকা ও অন্যান্য স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর করা একাধিক মামলার আবেদনে। আদালত সূত্রে বলা হয়েছে, সমিতির পক্ষ থেকে মতলব উত্তর থানায় ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পৃথকভাবে মামলা করার আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৩টি আবেদন এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি।
ওসির ব্যাখ্যা ছিল অন্যরকম
আদালতের নথি অনুযায়ী, ওসি আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দেন। সেখানে তিনি স্বীকার করেন যে মামলার আবেদনের বিষয়টি তাঁর কাছে এসেছিল।
তবে তাঁর বক্তব্য ছিল, আবেদনগুলোতে বাদীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর না থাকায় মামলা রুজু করা সম্ভব হয়নি। এই কারণ দেখিয়ে তিনি আদালতের কাছে অব্যাহতি চান।
আদালত অবশ্য এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি।
আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আবেদনগুলোতে ঘটনার স্থান, তারিখ এবং চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল। ফলে অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা নথিভুক্ত না করার বিষয়টি আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
আদালতের নির্দেশ কী
আদালত ২৩টি অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ওসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা না করার বিষয়ে দায়িত্ব পালনে ওসির নিষ্ক্রিয়তা ছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের বিষয়টি প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
ট্রান্সফরমার চুরি কেন বড় সমস্যা
একটি ট্রান্সফরমার চুরি হলে শুধু বিদ্যুৎ বিভাগের সম্পদের ক্ষতি হয় না; সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হতে পারে। একটি এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এমন ঘটনা ঘটলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন, মেরামত ও নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
মতলব উত্তরে সাড়ে তিন মাসে ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি আদালতের আদেশে উঠে আসায় এখন মূল প্রশ্ন শুধু মামলা না হওয়ার বিষয় নয়। একই সঙ্গে এই চুরিগুলোতে কারা জড়িত, চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ কোথায় যাচ্ছে এবং পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—সেগুলোও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।
আইনি অবস্থান স্পষ্ট করে:
এই প্রতিবেদনে ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা চক্রকে অভিযুক্ত করা হয়নি, কারণ আদালতের চূড়ান্ত রায় বা তদন্তের ফল এখানে নেই। প্রতিবেদনের আলোচ্য হলো মামলা নথিভুক্ত না হওয়ার বিষয়ে আদালতের নির্দেশ এবং পরবর্তী আইনি-প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা, Focus Mohona; আদালত সূত্র ও চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-সংক্রান্ত তথ্য।




