দৌলতপুরে মহাসড়কের পাশে হামলা, হাসপাতালে নেওয়ার পর নিহতের ফোনে কল করে মৃত্যুর খবর জানতে চাওয়ার অভিযোগ
খুলনা | TODAY TV BD | ক্রাইম ডেস্ক
খুলনা মহানগরের দৌলতপুরে জলিল মুনশি (৪৫) নামে এক পাটকল শ্রমিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে কুলিবাগান মোড়ের অদূরে খুলনা-যশোর মহাসড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, জলিল পাটকলে কাজ করার পাশাপাশি কুলিবাগান মোড়ে তাঁর বাবার পানের দোকানেও সময় দিতেন। শনিবার সকালে তিনি বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন।
সকাল ৮টার দিকে মোবাইল ফোনে কল করে তাঁকে বাইরে ডেকে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরে দুটি মোটরসাইকেলে করে একদল ব্যক্তি এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
মহাসড়কের পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা জলিলকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ফোনে কল, ছেলেকে হুমকির অভিযোগ
জলিলকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একটি কল আসে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফোনটি ধরেন তাঁর ছেলে মোহাম্মদ রাফি।
রাফির ভাষ্য অনুযায়ী, অপর প্রান্তের ব্যক্তি তাঁর বাবার মৃত্যুর বিষয়টি জানতে চান। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করার পর তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন।
হত্যার কারণ নিয়ে নানা অভিযোগ
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, এর আগে জলিলের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। চাঁদা না দেওয়া কিংবা পূর্বশত্রুতার জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
দৌলতপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এ এফ এম জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গুলির শব্দ শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছ থেকেই হামলাকারীদের ধাওয়া করেছিল। তবে তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর, NTV Online।




