পাঁচ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি; সিপাই কান্দির বাড়িতে এখন স্বজনদের আহাজারি
মতলব উত্তর, চাঁদপুর | TODAY TV BD
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাই কান্দি গ্রামের জামাল হোসেন জীবিকার সন্ধানে প্রায় পাঁচ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখানে নিজের একটি ভ্যারাইটি সুপারশপও গড়ে তুলেছিলেন তিনি। সেই কর্মস্থলেই গুলিতে নিহত হয়েছেন এই বাংলাদেশি যুবক।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, স্থানীয় সময় ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি নিহত হন।
জামাল হোসেন ছিলেন তিন সন্তানের বাবা। স্থানীয় প্রতিবেদনে তাঁর বড় ছেলে বায়েজিদের বয়স আট বছর, মেয়ে সিনথিয়ার বয়স তিন বছর এবং ছোট মেয়ে সামিরা আক্তারের বয়স দুই বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদেশে যাওয়ার পর নিজের ব্যবসা
জামাল প্রায় পাঁচ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। প্রবাসজীবনে পরিশ্রম করে তিনি একটি ভ্যারাইটি সুপারশপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরিবারের আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলতে তাঁর বিদেশে যাওয়া—এমন তথ্য স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে।
কিন্তু বিদেশের মাটিতে একটি সহিংস হামলায় তাঁর মৃত্যুতে সেই পরিবারের ওপর নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।
স্ত্রী মাজেদা বেগম ও তিন সন্তানকে রেখে জামালের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উপার্জনক্ষম একজন মানুষকে হারিয়ে পরিবারটি এখন অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছে।
একটি পরিবারের আয়ের পথও বন্ধ
প্রবাসে থাকা একজন শ্রমজীবী বা ব্যবসায়ীর মৃত্যু অনেক সময় শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা হয়ে থাকে না। পেছনে থাকা পরিবারের নিয়মিত আয়, সন্তানদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন জীবনও এর সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
জামালের ক্ষেত্রেও তাঁর তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে মরদেহ কখন দেশে পৌঁছাবে—সে বিষয়ে কোনো অনুমান করা হচ্ছে না।
ঘটনার সময়রেখা:
প্রায় ৫ বছর আগে: জীবিকার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় যান জামাল হোসেন।
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় হামলার ঘটনা।
১০ সেপ্টেম্বর: মতলব উত্তরের পরিবার ও তাঁর মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
বর্তমান: মরদেহ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও সরকারি তথ্যের অপেক্ষা।
ফ্যাক্ট চেক:
- নিহতের বাড়ি: সিপাই কান্দি গ্রাম, ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন, মতলব উত্তর, চাঁদপুর।
- পেশা: দক্ষিণ আফ্রিকায় ভ্যারাইটি সুপারশপ পরিচালনা করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ।
- নিহতের তিন সন্তান রয়েছে—স্থানীয় প্রতিবেদনে এই তথ্য রয়েছে।
- হামলার বিস্তারিত উদ্দেশ্য বা হত্যাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত নিশ্চিত পুলিশি তথ্য পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, আজকের পত্রিকা, ঢাকা টাইমস; পরিবার ও স্থানীয় সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদন।




