এ বছর আক্রান্ত ৪৯ হাজার ছাড়িয়েছে, মৃত্যু ১৪১; সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের সংক্রমণ ঠেকাতে আজ থেকে দেশব্যাপী তিন মাসের অভিযান
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনো বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবে ৭৯০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৪১ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ হাজার ২২০ জনে দাঁড়িয়েছে।
আজ শনিবার থেকেই সরকার দেশব্যাপী তিন মাসের ‘Dengue Prevention and Cleanliness Campaign’ শুরু করছে।
কোথায় রোগীর চাপ বেশি
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ২৪৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬, খুলনায় ৬০, ময়মনসিংহে ৭৩, রাজশাহীতে ৩৩, রংপুরে ৩৮ এবং বরিশালে ১৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাতেও নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
অর্থাৎ সংক্রমণ রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে আছে এবং আঞ্চলিক হাসপাতালগুলোর ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
গত বছরের তুলনায় কোথায় দাঁড়িয়েছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গুতে ৪১৩ জন মারা গিয়েছিলেন এবং আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন।
২০২৪ সালে মৃত্যু ছিল ৫৭৫ এবং আক্রান্ত ১ লাখ ১ হাজার ২১৪।
চলতি বছরের সংখ্যা এখনো পুরো বছরের নয়। ফলে সরাসরি বার্ষিক তুলনা করা যাবে না। তবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই ১৪১ মৃত্যু ও প্রায় ৫০ হাজার আক্রান্ত হওয়া পরিস্থিতির গুরুত্ব দেখাচ্ছে।
কেন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ার ঝুঁকি বেশি।
বৃষ্টি, জমে থাকা পানি এবং উষ্ণ আবহাওয়া মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
এই কারণেই চলতি তিন মাসে পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ থেকে তিন মাসের অভিযান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে এই অভিযান উদ্বোধন করবেন।
১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
দেশের ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলা এই কার্যক্রমে যুক্ত হবে বলে স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে।
শুধু ফগিং কি যথেষ্ট
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক মশা মারার ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।
এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস এবং বংশবিস্তারস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করাই বড় কাজ।
ফুলের টব, ফেলে দেওয়া পাত্র, নির্মাণস্থল, ছাদ, ড্রেন ও বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানি দ্রুত সরাতে না পারলে মশার সংখ্যা কমানো কঠিন।
হাসপাতালের চাপের আরেক দিক
ডেঙ্গুর সঙ্গে দেশে হাম পরিস্থিতিও চলছে।
ফলে হাসপাতালগুলোকে একই সময়ে শিশুদের হামসদৃশ অসুস্থতা এবং ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা করতে হচ্ছে।
এই দ্বৈত চাপের মধ্যে শয্যা, চিকিৎসক, নার্স, পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
📊 সর্বশেষ ডেঙ্গু চিত্র
- গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি: ৭৯০
- গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ২
- ২০২৬ সালে মোট আক্রান্ত: ৪৯,২২০
- ২০২৬ সালে মোট মৃত্যু: ১৪১
- ২০২৫ সালে মৃত্যু: ৪১৩
- তিন মাসের অভিযান: ১২ সেপ্টেম্বর–১২ ডিসেম্বর
- অংশগ্রহণ: ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলা
এবার সাফল্য কীভাবে বোঝা যাবে
কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর নতুন রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে কি না, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা—এই তিনটি ক্ষেত্রেই ফল দেখা গেলে অভিযান কার্যকর হয়েছে বলা যাবে।
তথ্যসূত্র: DGHS, BSS, স্থানীয় সরকার বিভাগ, The Business Standard




