পাইলটে ১ লাখ ১০ হাজার ৩৬৪ কৃষক; ধাপে ধাপে দেশের ২ কোটি কৃষককে আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের
ঢাকা | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্পে ১ লাখ ১০ হাজার ৩৬৪ জন নিবন্ধিত কৃষককে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানিয়েছেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর কর্মসূচিটির উদ্বোধন হবে। পরে ধাপে ধাপে দেশের সব উপজেলা, ইউনিয়ন ও ব্লকে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো—দেশের ২ কোটির বেশি কৃষককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা।
কার্ডে শুধু টাকা নয়
সরকার বলছে, Farmer Card শুধু নগদ সহায়তার মাধ্যম হবে না।
এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের কাছে সার, বীজ ও অন্যান্য সরকারি কৃষি সহায়তা আরও সংগঠিত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে।
প্রথম ধাপে কারা পাচ্ছেন
পাইলট পর্যায়ে দেশজুড়ে ১ লাখ ১০ হাজার ৩৬৪ জন নিবন্ধিত কৃষককে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
শুধু ফেনী জেলায় ৭ হাজার ৬৪৩ কৃষক এই কার্ড পাবেন বলে কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন।
সরকার বলছে, বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কৃষকের আকার বা জমির পরিমাণকে একমাত্র মানদণ্ড করা হবে না।
প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, ভূমিহীন, মাঝারি ও বড়—সব শ্রেণির প্রকৃত কৃষককে পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সারসংকটের সঙ্গে নতুন কর্মসূচির যোগ
কৃষকদের একটি বড় অভিযোগ এখন সার নিয়ে।
বিভিন্ন জেলায় সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি, ডিলারের গুদামে মজুত এবং স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, দেশে জাতীয় পর্যায়ে সারসংকট নেই। তবে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরই মধ্যে সার সরবরাহের অনিয়ম পর্যবেক্ষণে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
কেন এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশে কৃষি সহায়তার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সরকারি সুবিধার প্রকৃত প্রাপক শনাক্ত করা।
কাগজে কৃষকের সংখ্যা যতই থাকুক, মাঠে কার জমি আছে, কে ভূমিহীন কৃষক, কে প্রকৃত উৎপাদক এবং কে শুধু কাগজে কৃষক—এগুলো নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সহজ নয়।
একটি কার্যকর ও যাচাই করা Farmer Card ব্যবস্থা এই জায়গায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার দিকে অগ্রগতি?
সরকার যদি কার্ডের সঙ্গে কৃষকের জমি, ফসল, উৎপাদন, সার-বীজ সহায়তা ও সরকারি ভর্তুকির তথ্য যুক্ত করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে কৃষি ব্যবস্থাপনায় বড় ডেটাবেজ তৈরি হতে পারে।
এর মাধ্যমে কোন অঞ্চলে কোন ফসলের চাহিদা বেশি, কোথায় সার প্রয়োজন এবং কোথায় দুর্যোগের কারণে দ্রুত সহায়তা দরকার—এসব তথ্যও দ্রুত পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
কিন্তু সামনে ঝুঁকিও আছে
কার্ড থাকলেই কৃষকের সমস্যা শেষ হবে না।
ভুল তালিকা, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রকৃত কৃষক বাদ পড়া, ডিলার পর্যায়ে অনিয়ম এবং তথ্য হালনাগাদ না থাকলে কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।
তাই স্থানীয় পর্যায়ে তালিকা যাচাই এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
📊 কর্মসূচির প্রথম ধাপ
- প্রথম ধাপে কৃষক: ১,১০,৩৬৪ জন
- প্রত্যেকে প্রণোদনা: ২,৫০০ টাকা
- মোট পাইলট প্রণোদনা: প্রায় ২৭.৬ কোটি টাকা
- উদ্বোধন: ১৭ সেপ্টেম্বর
- ফেনীতে প্রথম ধাপের কৃষক: ৭,৬৪৩
- দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য: ২ কোটির বেশি কৃষক
কৃষকের কাছে আসল পরীক্ষা কোথায়?
কৃষক কত টাকা পেলেন—এটি গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তিনি সময়মতো সার-বীজ পেলেন কি না, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পেলেন কি না এবং সরকারি সহায়তা পেতে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভর করতে হলো কি না।
Farmer Card সফল হবে তখনই, যখন এটি শুধু একটি কার্ড না থেকে কৃষকের সঙ্গে সরকারের সরাসরি সেবা-সংযোগে পরিণত হবে।
তথ্যসূত্র: The Business Standard, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন।




