Homeটুডে বাংলাচট্টগ্রামে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ৬৩ বিদেশি আটক, জব্দ ১৯০-এর বেশি ডিভাইস

চট্টগ্রামে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ৬৩ বিদেশি আটক, জব্দ ১৯০-এর বেশি ডিভাইস

আটকদের মধ্যে লাওস, পাকিস্তান, চীন, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক; পাসপোর্ট না থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ

চট্টগ্রামের খুলশীতে একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ বলছে, ভবনটিতে অনলাইন প্রতারণা, জুয়া ও অন্যান্য ডিজিটাল অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিযানে বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, বিদেশি মুদ্রা ও ক্যাসিনো-সংক্রান্ত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিরা ঠিক কী ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন, তা তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

কারা আটক হয়েছেন

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটক ৬৩ জনের মধ্যে ৩৫ জন লাওসের, ২১ জন পাকিস্তানের, পাঁচজন চীনের এবং একজন করে নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক

তাদের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ, ২১ জন নারী এবং একজন শিশু রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কারও কাছে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তাঁরা কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাঁদের ভিসার বৈধতা কী ছিল, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

ভবনটিতে কী পাওয়া গেছে

অভিযানে ১৩৪টি মোবাইল ফোন এবং ৫৭টি ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে বলে চট্টগ্রাম পুলিশ জানিয়েছে।

এর সঙ্গে একটি Apple tablet, CPU, monitor, keyboard, mouse, printer, pen drive এবং SIM cardও উদ্ধারের তথ্য এসেছে।

পুলিশ এসব ডিভাইস থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের পর ভবনটিতে পরিচালিত কার্যক্রমের প্রকৃতি আরও পরিষ্কার হতে পারে।

কেন বাড়িটিকে সন্দেহ করা হয়েছিল

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় এক মাস ধরে ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত তারা লক্ষ্য করেছিলেন।

২৭ আগস্ট ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে স্থানীয়রা তখন সেখানে কী ধরনের কাজ চলছিল, তা জানতেন না।

আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের আশঙ্কা

বাংলাদেশে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নতুন নয়।

পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে বিদেশে থাকা কোনো সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের যোগাযোগ আছে কি না।

এ ছাড়া বাংলাদেশকে কেন এসব নেটওয়ার্ক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও তদন্তের বিষয়।

আইনি অবস্থান

আটক ব্যক্তিরা সন্দেহভাজন বা মামলার আসামি হতে পারেন, কিন্তু আদালতে দোষ প্রমাণের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না।

পুলিশকে তদন্তে প্রত্যেক ব্যক্তির আলাদা ভূমিকা, ডিভাইসের ব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করতে হবে।

বিশেষ করে যদি অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে এর সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।

কেন ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ

একটি আটতলা ভবন থেকে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক এবং এত বেশি ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

ডিজিটাল প্রতারণা সীমান্ত মানে না। ভুক্তভোগী এক দেশে থাকতে পারেন, অপরাধী অন্য দেশে এবং অর্থ স্থানান্তর হতে পারে তৃতীয় কোনো দেশে।

এই কারণে এমন ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতারও প্রয়োজন হতে পারে।

📊 অভিযানের তথ্য

  • আটক: ৬৩ বিদেশি
  • লাওস: ৩৫
  • পাকিস্তান: ২১
  • চীন:
  • নেপাল:
  • ভিয়েতনাম:
  • মোবাইল ফোন: ১৩৪
  • ল্যাপটপ: ৫৭
  • স্থান: খুলশী, চট্টগ্রাম

তদন্ত এখন কোথায়

পুলিশ আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং জব্দ করা ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করছে।

তদন্তে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, অর্থ লেনদেন, যোগাযোগের রেকর্ড এবং বাংলাদেশে তাঁদের অবস্থানের বৈধতা যাচাই করা হবে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে একটি অনলাইন প্রতারণার সন্দেহভিত্তিক অভিযান হিসেবেই বর্ণনা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: The Business Standard, The Daily Star, CMP

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments