সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার; হাসপাতালগুলোতে এখনো চাপ অব্যাহত
ঢাকা | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে চলমান ভয়াবহ হাম পরিস্থিতিতে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১২-তে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৭৭টি নতুন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
মৃত্যুর সংখ্যায় কী রয়েছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, মোট ১ হাজার ১২টি মৃত্যুর মধ্যে ১০০টি নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু।
বাকি ৯১২টি মৃত্যু সন্দেহভাজন হাম-সংশ্লিষ্ট হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
অর্থাৎ মোট সংখ্যাটিকে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এই পার্থক্যটি বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৭৭টি নতুন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এতে চলতি বছরে সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২।
একই সময়ে ৩৪টি নতুন laboratory-confirmed measles case শনাক্ত হয়েছে। এতে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার ৯৬৭।
হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দেড় লাখ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন।
তবে রোগীর বিপুল চাপের কারণে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল এখনো চাপে রয়েছে।
কেন পরিস্থিতি এত গুরুতর
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাত ও টিকাদানের ঘাটতি হাম সংক্রমণের বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদান কভারেজ একসময় খুব শক্তিশালী ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন কারণে routine immunisation ব্যাহত হয়েছে।
এর ফলে এমন শিশুদের একটি অংশ তৈরি হয়েছে যারা হাম ভাইরাসের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সুরক্ষা পায়নি।
জরুরি টিকাদান কর্মসূচি
সরকার ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা ইতোমধ্যে জরুরি measles-rubella vaccination campaign চালিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, UNICEF এবং Gavi-এর সহায়তায় লাখ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবারের emergency campaign যথেষ্ট নয়।
নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে আবার শক্তিশালী করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
হাম কেন বিপজ্জনক
হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ।
শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা, অপুষ্টি ও মস্তিষ্কের জটিলতার মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে অপুষ্ট শিশুদের ঝুঁকি বেশি।
একই সময়ে ডেঙ্গুর চাপ
হামের সঙ্গে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়ছে।
ফলে হাসপাতালগুলো একই সময়ে শিশুদের হাম এবং ডেঙ্গু রোগী—দুই ধরনের চাপ সামলাচ্ছে।
এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এখন সবচেয়ে জরুরি কী
হাম নিয়ন্ত্রণে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
প্রথমত, টিকাদানের ঘাটতি পূরণ করা।
দ্বিতীয়ত, সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা দেওয়া।
তৃতীয়ত, হাসপাতালগুলোতে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অক্সিজেন এবং পর্যাপ্ত শয্যা নিশ্চিত করা।
বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, টিকাদান কর্মসূচিতে সামান্য দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতিও কয়েক বছর পর বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: DGHS, Reuters, AP, WHO, UNICEF, বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম।




