বিদ্যুৎ ঘাটতি কমানো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ টানতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন; বাস্তবায়নে অপেক্ষা প্রজ্ঞাপনের
ঢাকা | ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ছয় মাসের জন্য শুল্ক-কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবারের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের লক্ষ্য একদিকে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলা করা, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের প্রাথমিক ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।
কেন এই ছাড় এখন?
বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে। শিল্প, বাণিজ্য ও সাধারণ গ্রাহক—সব ক্ষেত্রেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস বাড়ানোর কথা বলছে।
সৌরবিদ্যুৎ সেই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কোন যন্ত্রপাতি সুবিধা পাবে?
সরকারের সিদ্ধান্তটি মূলত সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের আমদানি ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
আমদানির ওপর কর ও শুল্ক কমলে প্রকল্পের প্রাথমিক মূলধনী ব্যয় কমবে। এর ফলে নতুন বিনিয়োগকারীরা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে আগ্রহী হতে পারেন।
তবে কোন কোন পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক-কর ছাড় কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর আরও স্পষ্ট হবে।
বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে সৌরবিদ্যুৎ কতটা কার্যকর?
সৌরবিদ্যুৎ দেশের বিদ্যুৎ মিশ্রণে অতিরিক্ত সরবরাহ যোগ করতে পারে। বিশেষ করে দিনের বেলায় শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।
তবে সৌরবিদ্যুৎ রাতের সময় সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে না। তাই বড় পরিসরে battery storage বা অন্যান্য backup ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।
অর্থাৎ শুধু সৌর প্যানেল আমদানি বাড়ালেই বিদ্যুৎ সমস্যার পুরো সমাধান হবে না।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা
সরকারের এই সিদ্ধান্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগবান্ধব সংকেত দিতে পারে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের যন্ত্রপাতি, প্রকৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজও বাড়তে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয়ভাবে সৌরযন্ত্রের কিছু উপাদান উৎপাদনের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
আমদানিনির্ভরতার প্রশ্নও আছে
সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতিতে করছাড়ের অর্থ হলো আমদানির খরচ সাময়িকভাবে কমানো। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে যদি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির জন্য অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা তৈরি হয়, তাহলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
তাই ভবিষ্যতে স্থানীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার সঙ্গে আমদানি সুবিধাকে সমন্বয় করা গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি নিরাপত্তায় সম্ভাব্য প্রভাব
বাংলাদেশের গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর চাপ রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম বাড়লে LNG ও অন্যান্য আমদানির ব্যয়ও বাড়ে।
সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস ও আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে কত দ্রুত নতুন প্রকল্প স্থাপিত হয় এবং সেগুলোর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে কার্যকরভাবে যুক্ত করা যায় তার ওপর।
📊 সিদ্ধান্তের মূল বিষয়
- কর-শুল্ক ছাড়: ৬ মাস
- সুবিধার ক্ষেত্র: সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্টের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ
- সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী: মন্ত্রিসভা
- প্রধান লক্ষ্য: বিদ্যুৎ ঘাটতি কমানো
- দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য: নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানো
🧭 এরপর কী?
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি হলে ছাড়ের সুনির্দিষ্ট কাঠামো কার্যকর হবে।
এরপর প্রকল্প অনুমোদন, অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি আমদানি ও নির্মাণের গতি দেখেই বোঝা যাবে সিদ্ধান্তটি বাস্তবে কতটা নতুন সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা তৈরি করতে পারে।
তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, BSS, Jugantor, Dhaka Post




