Homeটুডে ওয়ার্ল্ডরাশিয়ার ৫ লাখের বেশি সেনা নিহত? নতুন হিসাব ঘিরে তীব্র যুদ্ধের চিত্র

রাশিয়ার ৫ লাখের বেশি সেনা নিহত? নতুন হিসাব ঘিরে তীব্র যুদ্ধের চিত্র

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধানের দাবি, রুশ সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ১৫ লাখ; একই সময়ে কিয়েভে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা

কিয়েভ/মস্কো | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে নতুন একটি বড় হিসাব সামনে এসেছে। ব্রিটিশ চিফ অব দ্য ডিফেন্স স্টাফ এয়ার চিফ মার্শাল রিচার্ড নাইটন বলেছেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৫ লাখের বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছেন এবং মোট রুশ সামরিক casualty প্রায় ১৫ লাখ। তবে রাশিয়া এই হিসাব স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি।

একই সময়ে ইউক্রেনের শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর রুশ ড্রোন হামলা এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনীয় পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।

রুশ ক্ষয়ক্ষতির নতুন হিসাব

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধানের হিসাবে রুশ সামরিক বাহিনীর মোট casualty প্রায় ১৫ লাখ।

এর মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি সেনা নিহত এবং বিপুলসংখ্যক সেনা আহত বা যুদ্ধের বাইরে রয়েছে বলে তাঁর দাবি।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধে রাশিয়ার ১০ হাজারের বেশি সামরিক যান, প্রায় ৩ হাজার আকাশ প্রতিরক্ষা ও আর্টিলারি সিস্টেম এবং প্রায় ৩৭০টি বিমান ও হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

তবে এসব সংখ্যা যুদ্ধক্ষেত্রের স্বাধীনভাবে যাচাই করা চূড়ান্ত হিসাব নয়।

কিয়েভে আবারও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা

রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়া কিয়েভের দুটি petrol station লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

হামলায় দুইজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলাগুলোকে ক্রমেই আরও সন্ত্রাসী ধরনের বলে সমালোচনা করেছেন।

ইউক্রেনের পাল্টা হামলা

ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

তুলা অঞ্চলে দুইজন এবং কুরস্কে একজন নিহত হওয়ার খবর এসেছে।

রাশিয়ার সারাতভ ও ভলগোগ্রাদ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোও ইউক্রেনীয় হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জ্বালানি অবকাঠামোই কেন লক্ষ্য

উভয় পক্ষই এখন জ্বালানি ও লজিস্টিক অবকাঠামোকে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।

ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শীতকালে বেসামরিক জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।

অন্যদিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে যুদ্ধের জন্য রুশ বাহিনীর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

যুদ্ধের কূটনৈতিক পথ কোথায়

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ চলছে।

তবে ভূখণ্ড, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ সামরিক অবস্থান নিয়ে বড় মতপার্থক্য এখনো রয়েছে।

ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে একদিকে হামলা বাড়ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

ইউরোপের সতর্কতা

পোল্যান্ডসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী এলাকায় রাশিয়ার সম্ভাব্য নতুন উসকানি নিয়ে সতর্ক করেছে।

পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, আগামী মাসগুলোতে সীমান্ত চেকপয়েন্ট ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে।

ইউক্রেনের যুদ্ধ তাই শুধু দুই দেশের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপের নিরাপত্তা হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের জন্য কী অর্থ?

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘ হলে খাদ্যশস্য, সার, জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক শিপিং ব্যয়ের ওপর চাপ থাকতে পারে।

যুদ্ধের তীব্রতা কমলে কৃষ্ণসাগরীয় রপ্তানি রুটে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে, যা বাংলাদেশের আমদানির জন্যও সহায়ক হতে পারে।

📊 যুদ্ধের বর্তমান চিত্র

  • রুশ নিহতের ব্রিটিশ হিসাব: ৫ লাখ+
  • মোট রুশ military casualty-এর হিসাব: প্রায় ১৫ লাখ
  • কিয়েভে সর্বশেষ হামলায় নিহত:
  • আহত: ১২
  • রাশিয়ার সামরিক যান ক্ষতি: ১০,০০০+
  • ইউক্রেনের পাল্টা হামলা: রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য

🧭 সামনে কী?

শীত যত ঘনিয়ে আসবে, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের হামলা বাড়লে মস্কোর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপও বাড়তে পারে।

যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি শান্তি আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি আসে কি না—সেটিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: Associated Press, Reuters, The Guardian, Xinhua

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments