আবাসিক ভবনে হামলায় শিশুসহ ৯ জন নিহত; পৃথক ড্রোন হামলায় দুই চিকিৎসক নিহত—ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত ফের তীব্র
বেইরুট | ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সরকারি সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নাবাতিয়েহ জেলার কাফর রুম্মান এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলায় নয়জন নিহত হন। পৃথক একটি ড্রোন হামলায় আরও দুই চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি আবারও বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
আবাসিক ভবনে হামলায় প্রাণহানি
লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, কাফর রুম্মানে একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।
হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হন এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে নিহতদের মধ্যে শিশু এবং মাত্র দুই মাস বয়সী একটি শিশুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছে কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারীরা রাতভর কাজ করেছেন।
নিহত দুই চিকিৎসকও
একই এলাকায় একটি ড্রোন হামলায় একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
গাড়িতে থাকা দুই চিকিৎসক নিহত হন বলে লেবানিজ সূত্র জানিয়েছে।
এতে সংঘাতের মানবিক দিকটি আরও স্পষ্ট হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু সশস্ত্র গোষ্ঠী নয়, চিকিৎসাকর্মী ও সাধারণ নাগরিকরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
কেন আবার উত্তেজনা বাড়ছে?
ইসরায়েল বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর দুটি ড্রোন উৎক্ষেপণের জবাবে তাদের বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলাগুলোকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে লেবানন ও হিজবুল্লাহ এসব হামলার নিন্দা করেছে।
হিজবুল্লাহ বলছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান যুদ্ধবিরতির পরও অব্যাহত রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি থাকলেও শান্তি ফিরছে না
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জুন মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল।
কিন্তু এরপরও দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান বন্ধ হয়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে, মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৪,৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে লেবানিজ কর্তৃপক্ষের হিসাব।
ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্তের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর একটি ‘security zone’-এ অবস্থান করছে।
কৌশলগত Ali al-Taher ridge
দক্ষিণ লেবাননের Ali al-Taher ridge বর্তমানে সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েল দাবি করছে, তারা এই কৌশলগত উচ্চভূমির ওপর operational control প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সেখানে হিজবুল্লাহর টানেল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করেছে।
হিজবুল্লাহ এখনো ইসরায়েলের এই দাবির আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।
এই উচ্চভূমি নিয়ন্ত্রণে থাকলে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তৃত এলাকা পর্যবেক্ষণ ও সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
লেবাননের জন্য মানবিক সংকট
দক্ষিণাঞ্চলের বহু গ্রাম থেকে মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বাড়িঘর, কৃষিজমি, সড়ক ও স্থানীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু পরিবার আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
কাতারসহ কয়েকটি দেশ নতুন করে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
🇧🇩 বাংলাদেশের সঙ্গে কোথায় সম্পর্ক?
বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত। লেবাননে বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি দীর্ঘদিনের উপস্থিতিও রয়েছে।
তাই সংঘাতের বিস্তার হলে প্রথম উদ্বেগ হবে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর অস্থিতিশীলতা জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক শ্রমবাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
📊 হামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- মোট নিহত: অন্তত ১১
- আবাসিক ভবনে নিহত: ৯
- ড্রোন হামলায় নিহত চিকিৎসক: ২
- আহত: অন্তত ৫
- যুদ্ধবিরতি: জুন ২০২৬
- মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত: ৪,৩০০+
🧭 সামনে কী?
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত এখন এমন পর্যায়ে যেখানে যুদ্ধবিরতি কাগজে থাকলেও মাঠে সহিংসতা থামছে না।
নতুন কোনো বড় হামলায় বেসামরিক প্রাণহানি বাড়লে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ আবারও ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হবে।
দক্ষিণ লেবাননের মানুষের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যুদ্ধবিরতি কি সত্যিই নিরাপত্তা আনবে, নাকি নতুন করে দীর্ঘ সংঘাত শুরু হবে?
তথ্যসূত্র: Reuters, Associated Press, Al Jazeera, AFP




