Homeটুডে হেলথডেঙ্গুতে মৃত্যু ৪০০ ছাড়াল, এক দিনে ১১ জনের মৃত্যু এ বছরের সর্বোচ্চ

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৪০০ ছাড়াল, এক দিনে ১১ জনের মৃত্যু এ বছরের সর্বোচ্চ

স্বাস্থ্য প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা এ বছর ৪০০ ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছরের মধ্যে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। একই সময়ে নতুন করে ২ হাজার ৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭।

হাসপাতালে ভর্তি বাড়ার চেয়ে গুরুতর রোগী নিয়ে উদ্বেগ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ২৭ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, ছয় হাজারের বেশি রোগী তখনও চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কিছু রোগী গুরুতর অবস্থায় আসছেন। তাঁদের রক্তচাপ কমে যাওয়া, শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি এবং বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার মতো জটিলতা দেখা যাচ্ছে। ফলে রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ কমে যায়।

রোগ শনাক্তে দেরি হলে বাড়ে ঝুঁকি

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক এইচ এম নাজমুল আহসান বলেছেন, কিছু রোগী শক বা রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন। এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা না গেলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এ বি এম আবদুল্লাহর মতে, আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে পরবর্তী সংক্রমণে জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে চলতি বছরে গুরুতর রোগী ও মৃত্যুর হার বাড়ার পেছনে ভাইরাসের ধরন, পুনঃসংক্রমণ, রোগ শনাক্তের বিলম্ব এবং চিকিৎসা পেতে দেরি—কোনটির কতটা ভূমিকা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা জ্বর, শরীরব্যথা বা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তি, স্থূলতা থাকা মানুষ এবং আগে থেকে অন্য রোগে আক্রান্তদের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

যেসব লক্ষণে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে

ডেঙ্গুর সময় তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা রোগীর আচরণে পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। রোগী পানি বা খাবারজাতীয় তরল পান করতে না পারলে বাড়িতে অপেক্ষা করা নিরাপদ নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।

মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা সহজ করা জরুরি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি সরানো, ফুলের টব ও পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করা, ছাদ ও নির্মাণাধীন ভবনের পানি জমার স্থান পরীক্ষা করা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে কেবল মশা নিধনের ওপর নির্ভর না করে কম খরচে প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা, দ্রুত রোগী শনাক্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কমাতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগী পরিবহনের ব্যবস্থাও উন্নত করতে হবে। সর্বশেষ সংখ্যাগুলো ২৭ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত প্রকাশিত হিসাবের ভিত্তিতে তৈরি; নতুন বুলেটিনে তা পরিবর্তিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments