Homeটুডে হেলথডেঙ্গুতে এক দিনে ২ হাজার ২৪৯ রোগী হাসপাতালে, চলতি বছর মৃত্যু ৩৮৪

ডেঙ্গুতে এক দিনে ২ হাজার ২৪৯ রোগী হাসপাতালে, চলতি বছর মৃত্যু ৩৮৪

স্বাস্থ্য প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ২৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সাতজনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি বছরে মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৮ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৩৮৪।

এক দিনে এ বছরের সর্বোচ্চ রোগী

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২ হাজার ২৪৯ জন রোগীর সংখ্যা ২০২৬ সালের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ। অক্টোবর মাসেও নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মাসটিতে ৪৪ হাজার ২২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা সেপ্টেম্বরে নথিভুক্ত ৪৩ হাজার ৭৭৪ জনের চেয়ে বেশি। সর্বশেষ সাত মৃত্যুর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় দুজন, ময়মনসিংহ বিভাগে দুজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন, খুলনা বিভাগে একজন এবং রাজশাহী বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রকাশিত স্বাস্থ্যতথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

কেন সংক্রমণ বাড়ছে

ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। বৃষ্টির পানি ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন, ড্রেন ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকলে মশার প্রজনন বাড়তে পারে। ফলে শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিধনের ওপর নির্ভর না করে এসব প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বরের শুরুতে চিকিৎসা না নেওয়া, রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ার পর হাসপাতালে যাওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের যথাযথ নজরদারির ঘাটতি মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই দ্রুত রোগ শনাক্ত, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

কোন লক্ষণে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে

জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা রোগীর আচরণে পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিটি বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি অপসারণ জরুরি। হাসপাতালগুলোতে রোগী সামলানোর প্রস্তুতিও জোরদার করতে হবে। সর্বশেষ পরিসংখ্যানটি ২৫ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। নতুন বুলেটিন প্রকাশিত হলে দৈনিক রোগী, মৃত্যু ও মোট আক্রান্তের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিডিনিউজ২৪, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য ডেইলি স্টার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments