স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
বাংলাদেশে হাম ও ডেঙ্গু—দুই সংক্রমণেই স্বাস্থ্যঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ২১৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সংক্রমণ ও হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
হাম-উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২৩৩
বিডিনিউজ২৪-এর ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাতে জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মোট ১ হাজার ২৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ থাকা অবস্থায় এবং ১০৪ জনের মৃত্যু পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ৩৮৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে ৭৮ জনের সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২৯৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ের মধ্যে ঢাকা বিভাগে তিনজন, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরে ২ লাখ ২২ হাজার ৫৫২ জনের মধ্যে হামসদৃশ উপসর্গ দেখা গেছে এবং তাঁদের মধ্যে ২৩ হাজার ৪৭৮ জনের সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। তবে সব রোগীর পরীক্ষা হয় না বলে প্রকৃত সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে।
ডেঙ্গুতে এক দিনে ২ হাজার ২১৮ রোগী ভর্তি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ২৬ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২ হাজার ২১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮৯। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৬। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৩ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
নতুন রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৯৪২ জন ভর্তি হয়েছেন, যা দেশের অন্য বিভাগগুলোর তুলনায় বেশি। খুলনায় ২৮৪, রাজশাহীতে ২৪৬, চট্টগ্রামে ২৪০, বরিশালে ২৩২, ময়মনসিংহে ১২১, রংপুরে ১১৩ এবং সিলেটে ৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন, প্রতিরোধে সমন্বয়ের প্রয়োজন
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি জরুরি। তবে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করার আগেই এসব কার্যক্রম জোরদার করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে যায়। স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় এবং হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
হামের ক্ষেত্রে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখার বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে।
তথ্যের নিয়মিত হালনাগাদ প্রয়োজন
হাম ও ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে প্রকাশিত সংখ্যা বিভিন্ন দিনের হিসাবের ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা আলাদা। একইভাবে ডেঙ্গুর মোট সংক্রমণ ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক নাও হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুসরণ করে তথ্য হালনাগাদ করা জরুরি।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিডিনিউজ২৪, ঢাকা ট্রিবিউন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।




