নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় নিখোঁজ হিসেবে থাকা এক নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ১৭ অক্টোবর সকালে পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লেগে এই প্রাণহানি ঘটে।
ডিএনএ পরীক্ষায় দুই পরিবারের সদস্যদের শনাক্ত
সিআইডির পরীক্ষায় শনাক্ত ১০ জনের মধ্যে ঢাকার দুটি পরিবারের ছয় ও চার সদস্য রয়েছেন। একটি পরিবারের সদস্য ছিলেন মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান, তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন এবং তাঁদের দুই মেয়ে। অপর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি, লায়লা জাহান নাবিলা, ইসরাত জাহান মালিহা, ফারিয়া কবির, তাঁর ছয় বছরের ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি।
আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় শুধু দৃশ্যমান চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে স্বজনদের কাছ থেকে নমুনা নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় মিলিয়ে দেখা হয়।
কীভাবে আগুন ছড়াল, তদন্তে সেই প্রশ্ন
রিসোর্টটিতে আগুন লাগার পর কাঠের তৈরি ভবনের বিভিন্ন অংশ দ্রুত পুড়ে যায়। আগুনের সময় কয়েকজন পর্যটক ভবনের ভেতরে আটকে পড়েছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ও বাথরুম থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন।
পুলিশ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করেছে। রিসোর্টের মালিক ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোন ধরনের ঘাটতি ছিল, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
অবৈধ রিসোর্টের বিরুদ্ধে অভিযান
অগ্নিকাণ্ডের পর মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অনুমোদনহীন রিসোর্ট ও হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবারের আগের দিন সোমবার উখিয়ার ইনানীতে একটি চারতলা অনুমোদনহীন রিসোর্ট ভবন ভেঙে দিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অভিযান। কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবনটির মালিককে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে মালিকের দাবি, নির্মাণের অনুমতি তাঁর ছিল এবং তিনি নোটিশের জবাবও দিয়েছিলেন।
এটি আগুনে পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্ট থেকে পৃথক একটি স্থাপনা। মেরিন ড্রাইভের দুপাশে অনুমোদনহীন স্থাপনা রয়েছে কি না, তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পর্যটন ব্যবসায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি
পর্যটনকেন্দ্রিক আবাসিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র, কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বের হওয়ার পথ এবং অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। শুধু দুর্ঘটনার পর অভিযান বা মামলা নয়, নিয়মিত পরিদর্শন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা বন্ধ রাখাও জরুরি।
ইনানীর ঘটনায় ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হলেও এক নারী নিখোঁজ রয়েছেন। তদন্তের অগ্রগতি, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং রিসোর্টটির নিরাপত্তা তদারকিতে কোনো অবহেলা ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো বাকি।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, বিডিনিউজ২৪, সিআইডি, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।




