Homeটুডে নেশনলিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, ৪১ জন অসুস্থ; মানবপাচারের অভিযোগ

লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, ৪১ জন অসুস্থ; মানবপাচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ১৭৪ জন বাংলাদেশি। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাঁদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ। বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬ জনকে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় আটক করে ত্রিপোলির তাজৌরা আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। বাকি ১৩৮ জন লিবিয়ার অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে লিবিয়ায় যাত্রা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা অনেকেই মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে অনিয়মিত পথে ইউরোপে প্রবেশ করা। কয়েকজন দেশে ফেরার আগে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, লিবিয়ায় থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) একসঙ্গে কাজ করছে। লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

অসুস্থদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহায়তা

দেশে ফেরা ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা। আইওএম তাঁদের যাতায়াত সহায়তা, খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন হলে অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করেছে। অসুস্থ ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হবে। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়ার মিসরাতা থেকে আরও ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে ২৮ অক্টোবর মানবিক সহায়তায় দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে এই দ্বিতীয় দলের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে সর্বশেষ প্রকাশ্য তথ্য নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁদের দেশে পৌঁছানোর বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ। দালালদের মাধ্যমে বিদেশে কাজ বা ইউরোপে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেককে অনিরাপদ পথে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছে কেউ কেউ আটকে পড়েন, অপহরণ, নির্যাতন কিংবা মুক্তিপণ দাবির মুখে পড়েন। সাগরপথে বিপজ্জনক যাত্রায় প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়ার আগে নিয়োগকর্তা, ভিসা, কাজের অনুমতি এবং নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি। বিদেশে যাওয়ার নামে কোনো দালালকে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে সরকারি অভিবাসনসেবা ও বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জরুরি

দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। তবে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত দালালচক্রকে শনাক্ত, তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং অভিবাসনসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজ প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments