উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে এক সপ্তাহে নদীর পানি বেড়েছে ৮৮ সেন্টিমিটার; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ঢুকেছে পানি
কুষ্টিয়া | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উজানের ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নদীবেষ্টিত রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি গ্রামের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
সড়ক ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। কোথাও বাড়ির উঠান পর্যন্ত পানি উঠেছে, আবার কোথাও বসতঘরও পানিতে ডুবে গেছে।
এক সপ্তাহে ৮৮ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি
পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে পদ্মা নদীর পানি প্রায় ৮৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। গত তিন বছরের মধ্যে এত দ্রুত পানি বৃদ্ধির ঘটনা এবারই সবচেয়ে বেশি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে। প্রথমে চর ও কৃষিজমি প্লাবিত হলেও পরে বসতবাড়ি, রাস্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করে।
যোগাযোগব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত
পানির নিচে চলে যাওয়ায় বিভিন্ন গ্রামের অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক মানুষ নৌকা ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বাজার, চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পানি
প্লাবিত এলাকার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ব্যাহত হচ্ছে।
যেসব বিদ্যালয়ের আশপাশে পানি জমেছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কৃষিতেও বাড়ছে ক্ষতির আশঙ্কা
পদ্মার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় এসব জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে সবজি, আমন ধান ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ক্ষতি হতে পারে।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদীর পরবর্তী আচরণ
স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—পদ্মার পানি আর কতটা বাড়বে এবং কতদিন স্থায়ী হবে।
উজান থেকে নতুন করে পানি নামলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আবার পানি দ্রুত কমে গেলে অনেক এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে এরই মধ্যে প্রায় ৪০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের জন্য ত্রাণ, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জলাবদ্ধতার সঙ্গে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি
দীর্ঘ সময় বন্যার পানি জমে থাকলে নিরাপদ পানির সংকট, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ ছাড়া সাপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর উপদ্রবও বাড়তে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।
পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
- সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর
- প্লাবিত ইউনিয়ন: রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী
- আক্রান্ত গ্রামের সংখ্যা: প্রায় ৪০
- জলাবদ্ধ মানুষ: প্রায় ৮০ হাজার
- এক সপ্তাহে পদ্মার পানি বৃদ্ধি: ৮৮ সেন্টিমিটার
- প্রধান কারণ: উজানের পানি ও টানা বৃষ্টি
পদ্মার পানি আরও বাড়ে কি না, সেটিই এখন কুষ্টিয়ার নদীতীরবর্তী মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য, Daily Sun, বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।




