যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ইরান যুদ্ধের নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক ও অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম। তাঁর মতে, ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য কেবল কূটনৈতিক অবস্থান নয়; এটি যুদ্ধের প্রকৃত কেন্দ্রবিন্দু কোথায়, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ বিশ্লেষণে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংঘাতের মূল প্রশ্ন পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ।
ট্রাম্পের বক্তব্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন—
“Iran should publicly announce that the Strait of Hormuz is open to everyone.”
বাংলায় যার অর্থ—ইরানের উচিত প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া যে, হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত।
লেখকের মতে, এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, ওয়াশিংটনের কৌশলগত অগ্রাধিকার এখন হরমুজ প্রণালির অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
হরমুজ প্রণালি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির অন্যতম প্রধান উপাদান।
অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের দাবি, পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারকের (MOU) একটি ধারায় হরমুজে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তায় ইরানের ভূমিকার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। তাঁর ভাষ্যে, যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তীতে ওমান উপকূলঘেঁষা একটি বিকল্প করিডোর চালুর চেষ্টা করে, যাতে ভবিষ্যতে এই পথ ব্যবহার করতে ইরানের ওপর নির্ভর করতে না হয়।
‘করিডোর’ নিয়েই কি সংঘাত?
লেখকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে কয়েকটি আরব দেশের জাহাজ ওই নতুন রুট ব্যবহার করার চেষ্টা করলে ইরান তা প্রতিহত করে। এরপরই সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
তিনি লিখেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ হারালে ইরানের অন্যতম বড় ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা কমে যাবে। সে কারণেই তেহরান এই প্রশ্নে আপস করবে না বলে তাঁর ধারণা।
‘হরমুজই ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত অস্ত্র’
অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম মনে করেন, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি কেবল সামরিক সক্ষমতা নয়; বরং হরমুজ প্রণালির ভূ-কৌশলগত অবস্থান।
তাঁর ভাষায়, এই প্রণালি ইরানের জন্য এমন একটি কৌশলগত সুবিধা, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু কি বদলে গেছে?
লেখকের দাবি, বর্তমান সংঘাতের মূল ইস্যু এখন পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে এসে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্লেষকও এই যুদ্ধকে এখন মূলত জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের নিয়ন্ত্রণের লড়াই হিসেবে দেখছেন।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আশঙ্কা
বিশ্লেষণে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনরায় সক্রিয় করার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর মতে, যদি সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
লেখকের মূল্যায়ন
অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য অবস্থান কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
তিনি মনে করেন, ইরান এই ইস্যুতে সহজে অবস্থান পরিবর্তন করবে না এবং শেষ পর্যন্ত আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরতে হতে পারে।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলামের প্রকাশিত বিশ্লেষণ ও মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে উল্লিখিত বিভিন্ন দাবি, ব্যাখ্যা ও মূল্যায়ন লেখকের নিজস্ব মতামত; নাগরিক দর্পণ স্বাধীনভাবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করেনি। বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাপ্রবাহের মূল্যায়ন ভিন্ন হতে পারে।



