Homeনাগরিক দর্পণসাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজির অভিযোগ? মাস্তুল ফাউন্ডেশন বনাম ‘ফেস দ্যা পিপল’ বিতর্ক

সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজির অভিযোগ? মাস্তুল ফাউন্ডেশন বনাম ‘ফেস দ্যা পিপল’ বিতর্ক

দেশের পরিচিত মানবিক ও দাতব্য সংস্থা মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ‘ফেস দ্যা পিপল’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাইফুর রহমান সাগর তাদের কাছে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা দাবি করেছিলেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের দাবি অনুযায়ী, তাদের কাছে মাসিক ৫০ হাজার টাকা, অর্থাৎ বছরে প্রায় ৬ লাখ টাকা প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একটি দাতব্য ও অনুদাননির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা এই আর্থিক দাবি পূরণে অপারগতা প্রকাশ করে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নেতিবাচক কনটেন্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত প্রচারণা শুরু হয়।

অভিযোগের ধরন কী?

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে যে অভিযোগগুলো সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে—

  • নিয়মিত আর্থিক সুবিধা বা চাঁদা দাবির অভিযোগ
  • নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের হুমকি
  • বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট প্রচার
  • সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিতভাবে নেতিবাচক রিভিউ ছড়ানোর অভিযোগ

তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানের জনআস্থা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি অনুদাননির্ভর মানবিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে সাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়ে

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের “চতুর্থ স্তম্ভ” বলা হয়। সমাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যেমন সাংবাদিকতার দায়িত্ব, তেমনি সেই পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগও অতীতে নানা সময়ে আলোচনায় এসেছে।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোনো ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেন, তাহলে তা কেবল ব্যক্তি পর্যায়ের অনৈতিকতা নয়; পুরো পেশার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও আঘাত হানতে পারে।

অপর পক্ষের বক্তব্য কী?

এই অভিযোগের বিষয়ে ‘ফেস দ্যা পিপল’ বা সাইফুর রহমান সাগরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

মানবিক কার্যক্রমে সম্ভাব্য প্রভাব

মাস্তুল ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলে জানা যায়।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কোনো সংগঠিত অপপ্রচার যদি মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে, তাহলে তার প্রভাব সরাসরি অনুদান সংগ্রহ ও মানবিক কার্যক্রমের ওপর পড়তে পারে।

উপসংহার

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক চাপ সৃষ্টির ঘটনা নয়, বরং সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। আবার অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কাউকে দায়ী করাও সমানভাবে অনুচিত।

তাই অভিযোগ, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তই এই বিতর্কের প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে পারে।

তথ্যসূত্র: মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর ফেসবুক পোস্ট

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments