Homeটুডে স্পোর্টসমালয়েশিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের মেয়েরা

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের মেয়েরা

জুনিয়র এশিয়া কাপে পঞ্চম বাংলাদেশ; শারিকা রিমনের পেনাল্টি স্ট্রোক ও কোনার গোলে ২–১ জয়

হুলুনবুইর, চীন | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেষ ম্যাচে জয়ের আনন্দ দিয়ে নারী জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি অভিযান শেষ করেছে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়াকে ২–১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল। চীনের হুলুনবুইরে অনুষ্ঠিত পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অধিনায়ক শারিকা সাফা রিমনের পেনাল্টি স্ট্রোক ও কোনার ফিল্ড গোল বাংলাদেশকে এই ঐতিহাসিক জয় এনে দেয়।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে।

বাংলাদেশ একাধিকবার মালয়েশিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি।

মালয়েশিয়াও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেছে। ফলে ম্যাচের প্রথম দুই কোয়ার্টার ছিল সমানে সমান।

তৃতীয় কোয়ার্টারে এগিয়ে বাংলাদেশ

ম্যাচের তৃতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশ পায় পেনাল্টি স্ট্রোক।

অধিনায়ক শারিকা সাফা রিমন সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দলকে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

গোলের পর বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় এবং আক্রমণের পরিমাণ বাড়াতে থাকে।

কোনার গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ

চতুর্থ কোয়ার্টারে বাংলাদেশ আবারও গোল পায়।

কোনা ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ২–০ করেন।

এরপর ম্যাচের শেষ দিকে মালয়েশিয়া একটি গোল শোধ করে।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ আর ভুল করেনি। গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় জয় নিশ্চিত হয়।

ম্যাচসেরার পুরস্কার অধিনায়কের

অধিনায়ক শারিকা সাফা রিমন ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন।

একই সঙ্গে পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ধারাবাহিক প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্সও প্রশংসা পেয়েছে।

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

পঞ্চম স্থান কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের নারী জুনিয়র হকি এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত শক্তি নয়।

তাই এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পঞ্চম স্থান অর্জন তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।

এটি ভবিষ্যৎ জাতীয় দল গঠনের ক্ষেত্রেও কাজে আসতে পারে।

হার থেকে শেখার জায়গাও আছে

টুর্নামেন্টে শুধু জয় নয়, বড় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়েছে।

পেনাল্টি কর্নার কাজে লাগানো, circle penetration এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করা—এসব ক্ষেত্রে আরও উন্নতি প্রয়োজন।

বিশেষ করে এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচের গতি ধরে রাখতে fitness এবং tactical discipline আরও বাড়াতে হবে।

সামনে বাংলাদেশের হকির পরিকল্পনা

বাংলাদেশের হকিতে বয়সভিত্তিক দলকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাঠানো হলে এই প্রজন্মের খেলোয়াড়েরা আরও দ্রুত পরিণত হতে পারে।

কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্ত ধরে রাখার অভিজ্ঞতা ঘরোয়া ক্রিকেট বা লীগ দিয়ে পুরোপুরি তৈরি হয় না।

🏑 ম্যাচের স্কোর

বাংলাদেশ ২–১ মালয়েশিয়া

বাংলাদেশের গোল:

  • শারিকা সাফা রিমন — পেনাল্টি স্ট্রোক
  • কোনা — ফিল্ড গোল

ফল:
বাংলাদেশ — পঞ্চম স্থান

ম্যাচসেরা:
শারিকা সাফা রিমন

এই জয় হয়তো একটি টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচের ফল। কিন্তু বাংলাদেশের নারী জুনিয়র হকির জন্য এটি বড় একটি বার্তা—তরুণ দলটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো জায়গায় পৌঁছাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: The Business Standard, BSS, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments