সমকালের সাবেক বরিশাল ব্যুরো প্রধানের মরদেহ উদ্ধার, পাশে পাঁচটি চিরকুট; পাওনা টাকা পরিশোধ এবং স্ত্রী-সন্তানের প্রতি শেষবারের মতো দায়িত্বের কথা—একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ পেশাজীবনের শেষ অধ্যায়ে জমে থাকা না-পাওয়ার বেদনা
বরিশাল | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একজন সাংবাদিকের জীবনে সংবাদই যেন সবকিছু। দিনের পর দিন অন্যের সুখ-দুঃখ, রাষ্ট্রের অনিয়ম, মানুষের দাবি, সমাজের গল্প—সব লিখতে লিখতে নিজের গল্পটিই অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক সমকালের সাবেক ব্যুরো প্রধান পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া চিরকুটগুলো ঘিরে সেই আড়ালে পড়ে থাকা জীবনের কিছু বেদনাদায়ক অধ্যায় সামনে এসেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর প্যারারা রোডে দৈনিক সমকালের ব্যুরো অফিস থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ, তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর নিশ্চিত হবে।
পুলক চ্যাটার্জির বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক সমকালে কাজ করেছেন এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকসহ সাংবাদিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও ছিলেন। সমকাল থেকে চাকরি হারানোর পরও তাঁর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি। অফিসের একটি চাবি তাঁর কাছে থাকত এবং বর্তমান সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায়ই দিনে কিংবা রাতে সাবেক কর্মস্থলে এসে কিছু সময় কাটাতেন। সেই অফিসেই শুক্রবার তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
চাকরি চলে যাওয়ার পরও কেন ফিরতেন সেই অফিসে?
একজন মানুষের দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে কর্মস্থলের সম্পর্ক শুধু বেতন-ভাতার হিসাব দিয়ে শেষ হয় না। বিশেষ করে সাংবাদিকতার মতো পেশায়, যেখানে দিনের পর দিন একই সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে হয়, একই ডেস্কে খবর লিখতে হয়, একই শহরের অসংখ্য মানুষের গল্প সংগ্রহ করতে হয়, সেখানে অফিস অনেক সময় দ্বিতীয় ঘরের মতো হয়ে ওঠে। পুলক চ্যাটার্জিও চাকরি হারানোর পর প্রায় তিন বছর সেই পুরোনো অফিসে আসতেন বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন। তিনি সেখানে চা খেতেন, বসে থাকতেন, সময় কাটাতেন। হয়তো পেশাটি ছেড়ে দেওয়া তাঁর পক্ষে যতটা সহজ ছিল, সাংবাদিকতার সেই পরিচিত পৃথিবী থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া ততটা সহজ ছিল না।
বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পর পুলক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে সহকর্মীদের ধারণা ছিল। তাঁর ভাষ্য, তাঁকে আবার সাংবাদিকতায় ফেরার জন্য বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করা হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। তবে এসব বক্তব্য সহকর্মীদের মূল্যায়ন; তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তের আগে দেওয়া যায় না।
পাশে পাওয়া পাঁচটি চিরকুটে যে মানুষটিকে দেখা যায়
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলক চ্যাটার্জির মরদেহের পাশে পাঁচটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেগুলোর কয়েকটিতে স্ত্রী, মেয়ে, ভাই, সহকর্মী এবং প্রশাসনের উদ্দেশে লেখা কথা ছিল। একটি চিরকুটে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করতে বলেছেন এবং অসুস্থতা ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আরেকটিতে দীর্ঘদিনের সহকর্মী সুমন চৌধুরীকে অনুরোধ করা হয়েছে, সমকালের কাছে তাঁর পাওনা টাকা আদায় করে যেন তাঁর স্ত্রীর হাতে দেওয়া হয়। স্ত্রীকে লেখা চিঠিতে মেয়ের যত্ন নেওয়া এবং তার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার কথাও ছিল।
চিরকুটগুলোর এই অংশগুলো যেন সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয়। কারণ মৃত্যুর আগে একজন মানুষ নিজের জন্য কী রেখে যেতে চান, তা হয়তো তাঁর শেষ লেখাগুলোতেই সবচেয়ে নির্মোহভাবে প্রকাশ পায়। নিজের পাওনা টাকা পর্যন্ত পরিবারের কাছে পৌঁছানোর অনুরোধ, স্ত্রী ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং ভাইকে পরিবারের পাশে থাকার কথা বলা—এসবের মধ্যে একজন সাংবাদিকের পরিচয়ের বাইরে একজন স্বামী, একজন বাবা ও একজন ভাইকে দেখা যায়।
এখানে একটি বিষয়ও মনে রাখা প্রয়োজন: মৃত্যুর আগে লেখা কোনো চিঠি বা নোট কোনো ব্যক্তির মানসিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা নয়। আত্মহত্যার মতো ঘটনার পেছনে সাধারণত একাধিক ব্যক্তিগত, সামাজিক, আর্থিক ও মানসিক কারণ থাকতে পারে। পুলক চ্যাটার্জির ক্ষেত্রেও তাঁর লেখা নোটগুলো গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর একক কারণ হিসেবে সেগুলোকে চূড়ান্ত প্রমাণ বলা যায় না।
একটি পাওনা টাকার গল্প কেন এত বেদনাদায়ক?
সাংবাদিকতার পেশায় কাজের মূল্য সবসময় শুধু মাসিক বেতন দিয়ে নির্ধারিত হয় না। একজন সাংবাদিক বহু বছর একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়লে তার সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে নিয়মিত আয়, সামাজিক পরিচয়, পেশাগত যোগাযোগ এবং নিজের প্রয়োজনীয়তার অনুভূতি। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে নতুন করে পেশায় দাঁড়ানো অনেকের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। পুলক চ্যাটার্জির চিরকুটে সমকালের কাছে পাওনা টাকা পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধটি তাই নিছক একটি আর্থিক দাবির চেয়ে অনেক বেশি বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।
একজন মানুষ তাঁর কর্মজীবনের শেষ দিকে এসে নিজের প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা টাকার কথা মৃত্যুর আগে লিখে রেখে গেলেন—এটি আমাদের সাংবাদিকতা পেশার শ্রমমূল্য, চাকরির নিরাপত্তা এবং প্রবীণ সংবাদকর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে পুলক চ্যাটার্জির পাওনা টাকার প্রকৃতি ও পরিমাণ কী ছিল, সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
‘অসুস্থতার’ কথাও লিখেছিলেন তিনি
পুলকের একটি চিরকুটে অসুস্থতার কারণে সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ার কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু সহকর্মী এস এম জাকির হোসেন বলেছেন, তাঁর বড় কোনো রোগ ছিল বলে তাঁরা জানতেন না; ঠান্ডাজনিত সমস্যা ও পিঠে ব্যথার জন্য তিনি ভারতে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। অর্থাৎ তাঁর নিজের লেখা এবং সহকর্মীদের জানা তথ্যের মধ্যে একটি পার্থক্য রয়েছে। এই অসঙ্গতিরও উত্তর তদন্ত ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি থেকেই পাওয়া সম্ভব।
এখানেই আমাদের থামা উচিত। একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর অসুস্থতা নিয়ে অনুমান, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গল্প কিংবা অজানা কারণকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নয়। বরং তাঁর পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সম্মান দেখিয়ে যাচাইযোগ্য তথ্যের মধ্যেই থাকা প্রয়োজন।
বরিশাল প্রেসক্লাবে শেষ বিদায়
শনিবার পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বরিশাল প্রেসক্লাবে নেওয়া হয়। সেখানে প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সাংবাদিকরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং প্রেসক্লাবে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আকতার জাহান শিরীনও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, পুলক ছিলেন সৎ, নিষ্ঠাবান ও কর্মপরায়ণ সাংবাদিক এবং তাঁর ভেতরে এতটা চাপা কষ্ট ছিল, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি।
পরে মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর বাসভবনে। স্বজনদের কান্নার মধ্য দিয়ে শেষবারের মতো বিদায় জানানো হয় তাঁকে। শনিবার বেলা পৌনে ২টার দিকে বরিশাল নগরীর কাউনিয়ার মহাশ্মশানে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
একজন সাংবাদিকের জীবনে ‘চাকরি’ আর ‘পেশা’ এক জিনিস নয়
পুলক চ্যাটার্জির জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় গভীরভাবে চোখে পড়ে। চাকরি চলে গেছে, কিন্তু সাংবাদিক পরিচয়টি যেন তাঁর সঙ্গে থেকে গেছে। তিনি সাবেক অফিসে ফিরতেন। সহকর্মীদের সঙ্গে বসতেন। সময় কাটাতেন। হয়তো সংবাদমাধ্যমের সেই শব্দ, ডেস্ক, চায়ের কাপ আর পরিচিত মুখগুলো তাঁর জীবনের দীর্ঘ অভ্যাসের অংশ হয়ে গিয়েছিল।
এখানেই সাংবাদিকতার আরেকটি কঠিন বাস্তবতা আছে। বহু বছর একটি পেশায় কাটানোর পর একজন সাংবাদিক যখন কর্মহীন হয়ে পড়েন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কতটা আছে? প্রবীণ সাংবাদিকদের পুনর্নিয়োগ, দক্ষতা কাজে লাগানো, স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সহায়তা কিংবা অবসরের পর নিরাপত্তা—এসব নিয়ে আমরা কতটা ভাবি?
একজন সাংবাদিককে আমরা প্রায়ই তখনই মনে রাখি, যখন তিনি কোনো বড় খবর করেন। কিন্তু তাঁর দীর্ঘ পেশাজীবনে কত রাত জেগেছেন, কত দূরের ঘটনায় ছুটেছেন, কত প্রতিকূলতার মধ্যে খবর করেছেন, কতবার নিজের পরিবারের সময় বাদ দিয়েছেন—এসবের হিসাব সংবাদে থাকে না।
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু আমাদের সেই অদৃশ্য হিসাবটির দিকে তাকাতে বাধ্য করে।
‘আহা জীবন’—এই কথাটির ভেতরে যে দায় আছে
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুকে শুধু একজন সাংবাদিকের আত্মহত্যা হিসেবে দেখলে তাঁর গল্পের একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। আবার শুধু চাকরি হারানো বা আর্থিক অস্বস্তিকে তাঁর মৃত্যুর একমাত্র কারণ বললেও আমরা ভুল করব। তাঁর নিজের লেখা, পরিবারের তথ্য, সহকর্মীদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্ত—সবকিছু মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরি হওয়ার অপেক্ষা আছে।
কিন্তু এর মধ্যেই যে প্রশ্নটি আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে, তা হলো—একজন মানুষ ভেতরে ভেতরে কতটা ভেঙে পড়লে তাঁর চারপাশের মানুষও তা টের পান না?
একজন সহকর্মী প্রতিদিন হাসিমুখে অফিসে আসতে পারেন। আড্ডা দিতে পারেন। চা খেতে পারেন। খবর নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। অথচ তাঁর ভেতরে হয়তো এমন এক লড়াই চলতে পারে, যার খবর বাইরে কেউ জানে না।
তাই পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুকে ঘিরে সবচেয়ে মানবিক শিক্ষা হয়তো এটিই—কর্মস্থলে, পরিবারে কিংবা বন্ধুমহলে কেউ অস্বাভাবিকভাবে চুপ হয়ে গেলে, দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকলে, নিজের মূল্যহীনতার কথা বললে কিংবা গভীর হতাশার লক্ষণ দেখালে সেটিকে হালকা করে দেখা উচিত নয়। কথাটা শুনতে হবে। পাশে বসতে হবে। প্রয়োজন হলে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
একজন মানুষকে বাঁচাতে অনেক সময় টাকা লাগে না; লাগে একজন মানুষের পাশে বসে সত্যি করে জিজ্ঞেস করা—‘তুমি কেমন আছ?’
পুলক চ্যাটার্জি তাঁর রেখে যাওয়া চিরকুটে স্ত্রী, সন্তান, ভাই ও সহকর্মীদের জন্য কিছু শেষ কথা লিখে গেছেন। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় অসমাপ্ত কথাটি হয়তো ছিল তাঁর নিজের জীবন নিয়ে। সেই কথার পুরো উত্তর আমরা আর কোনোদিন জানতে পারব না।
শুধু এটুকু মনে রাখা যায়—একজন সাংবাদিকের কলম থেমে গেলে একটি পেশাজীবনের সমাপ্তি হয়; কিন্তু একজন মানুষের জীবন থেমে গেলে একটি পরিবার, একটি বন্ধুমহল এবং অসংখ্য অসমাপ্ত সম্পর্ক সারাজীবনের জন্য বদলে যায়।
পুলক চ্যাটার্জির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা।
জরুরি সহায়তার প্রয়োজন হলে: নিজের ক্ষতি করার চিন্তা বা তীব্র মানসিক সংকট তৈরি হলে একা না থেকে কাছের মানুষকে জানান এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নিন। বাংলাদেশে জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যায়।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বিডিনিউজ২৪সহ ১১–১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত পুলিশ, পরিবার ও সহকর্মীদের বক্তব্যভিত্তিক প্রতিবেদন।




