Homeনাগরিক দর্পণ৫৫ বছর পর বন্ধুকে খুঁজছেন পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান

৫৫ বছর পর বন্ধুকে খুঁজছেন পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পুরোনো এক বন্ধুর ঋণ শোধ করতে চান ৮৪ বছরের এই শিল্পপতি; বৃহত্তর যশোরের মানুষের কাছে আমিনের সন্ধান চেয়েছেন তিনি

নাগরিক দর্পণ

জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসে মানুষ যখন পেছনে ফিরে তাকান, তখন অনেক বড় অর্জনের চেয়েও কখনো কখনো একটি ছোট স্মৃতি সবচেয়ে বেশি আলো দেয়। ৮৪ বছর বয়সে এসে পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তেমনই এক স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। কর্মজীবনের একেবারে শুরুর দিকে যে বন্ধুর কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছিলেন, প্রায় ৫৫ বছর ধরে সেই মানুষটিকেই খুঁজছেন তিনি। কিন্তু এত বছরেও বন্ধুটির সন্ধান পাননি।

এখন তাঁর একটাই ইচ্ছা—জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে বহু পুরোনো সেই বন্ধুকে একবার খুঁজে বের করা এবং তার প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতার ঋণ শোধ করে যাওয়া। এজন্য বৃহত্তর যশোরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

বন্ধুটির নাম আমিন

সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সেই পুরোনো বন্ধুর নাম আমিন। তরুণ বয়সে কর্মজীবনের শুরুর দিকে আমিনের কাছ থেকে তিনি সহযোগিতা পেয়েছিলেন। সেই সহযোগিতা তাঁর জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও বন্ধুটিকে খুঁজে ফেরার মধ্যেই যেন প্রকাশ পায়।

মানুষ জীবনের প্রয়োজনে বহু মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়। সময়ের সঙ্গে অনেক মুখ হারিয়ে যায়, অনেক সম্পর্ক দূরে সরে যায়। কিন্তু কিছু মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা সময় পেরিয়েও মুছে যায় না। আমিনও তেমনই একজন, যাঁকে সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এত বছর পরও ভুলে যেতে পারেননি।

আমিনের পরিবার খুঁজে পাওয়ার সূত্র হতে পারেন একজন চিকিৎসক

সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর বন্ধু আমিন ছিলেন বৃহত্তর যশোরের সন্তান। আমিনের বড় ভাই ডা. আলাউদ্দিন তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরের জেনারেল হাসপাতাল, যা পরে ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল নামে পরিচিত ছিল, সেখানে প্রধান চিকিৎসক ও সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মিজানুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডা. আলাউদ্দিন ১৯৬৮ বা ১৯৬৯ সালের দিকে চাকরি থেকে অবসর নেন। তিনি বর্তমানে বেঁচে নেই বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে তাঁর ভাই আমিন এবং ডা. আলাউদ্দিনের সন্তানরা জীবিত থাকলে তাঁদের মাধ্যমেই হয়তো সেই বহু প্রতীক্ষিত বন্ধুর সন্ধান মিলতে পারে।

এই কারণেই বৃহত্তর যশোরের মানুষের পাশাপাশি ১৯৭০-৭১ সালের দিকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে কর্মরত চিকিৎসকদের কাছেও বিশেষভাবে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

একজন বন্ধুকে খুঁজে পাওয়ার জন্য ৫৫ বছরের অপেক্ষা

সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বয়স এখন ৮৪ বছর। জীবনের এই পর্যায়ে এসে তাঁর বহু পুরোনো এক বন্ধুর কথা আবারও সামনে এসেছে।

এখানে অর্থ, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত সাফল্যের কোনো হিসাব নেই। আছে শুধু কৃতজ্ঞতা।

একজন মানুষ হয়তো জীবনের শুরুতে কারও কাছ থেকে সামান্য সহযোগিতা পেয়েছিলেন। সেই সাহায্য হয়তো সাহায্যদাতার কাছে ছিল স্বাভাবিক একটি মানবিক আচরণ। কিন্তু যিনি সহযোগিতাটি পেয়েছিলেন, তাঁর কাছে সেটি হয়ে উঠেছিল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্মৃতি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও সেই স্মৃতি যদি মনে থাকে, তাহলে বোঝা যায় মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা কত গভীরে জায়গা করে নিতে পারে।

বৃহত্তর যশোরের মানুষ কি এই অনুসন্ধানের উত্তর দিতে পারবেন?

সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের আবেদন মূলত বৃহত্তর যশোরের মানুষের কাছেই। তাঁর আশা, এলাকার প্রবীণ মানুষ, চিকিৎসক, সাবেক সহকর্মী কিংবা আমিন পরিবারের পরিচিত কেউ হয়তো এই সূত্রটি ধরিয়ে দিতে পারবেন।

বিশেষ করে ১৯৭০ বা ১৯৭১ সালের দিকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন—এমন কেউ যদি ডা. আলাউদ্দিনের পরিবার, কর্মজীবন বা পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে তথ্য জানেন, তাহলে সেই তথ্যের সূত্র ধরে আমিনের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

পাঁচ দশকের পুরোনো একটি সম্পর্কের দরজা হয়তো খুলতে পারে একটি ছোট তথ্যের মাধ্যমে—একটি নাম, একটি ঠিকানা, একটি পুরোনো কর্মস্থল, কিংবা পরিবারের কারও পরিচয়।

এ গল্পের মূল্য খোঁজার মানুষের কাছে নয়, কৃতজ্ঞতার কাছে

আজকের সময়ে সম্পর্ক অনেক দ্রুত তৈরি হয়, আবার দ্রুত হারিয়েও যায়। মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম বেড়েছে, কিন্তু দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ধরে রাখার গল্প যেন কমে গেছে।

সেই বাস্তবতায় ৮৪ বছরের একজন মানুষ যখন তাঁর যৌবনের বন্ধুকে খুঁজতে ৫৫ বছর পরও চেষ্টা চালিয়ে যান, তখন ঘটনাটি নিছক ব্যক্তিগত অনুসন্ধান থাকে না। এটি মনে করিয়ে দেয়, মানুষের জীবনে কিছু সম্পর্কের মূল্য অর্থ দিয়ে মাপা যায় না।

একজন শিল্পপতি, একজন সফল ব্যবসায়ী কিংবা একজন জনপরিচিত মানুষ হিসেবে সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের পরিচয় হয়তো অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ঘটনায় তাঁর পরিচয় আরও সরল—তিনি একজন পুরোনো বন্ধুকে খুঁজছেন।

আর সেই খোঁজের কারণও খুব সাধারণ—একটি পুরোনো ঋণ শোধ করা।

হয়তো আমিনও কোথাও এই বন্ধুর অপেক্ষায় আছেন

আমরা জানি না আমিন এখন কোথায় আছেন। তিনি জীবিত কি না, কোথায় বসবাস করছেন, তাঁর পরিবার কোথায়—সেসবও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

হয়তো তিনিও কোনো একসময় ভেবেছেন, পুরোনো সেই বন্ধুর সঙ্গে আর কখনো দেখা হবে না।

হয়তো তাঁর কাছে সেই সময়ের স্মৃতিও এখন ধূসর হয়ে গেছে।

কিংবা হয়তো এখনও তিনি মনে রেখেছেন সেই তরুণ বয়সের বন্ধুত্ব।

আর তাই এই অনুসন্ধানের ফলাফল শুধু একটি ঠিকানা খুঁজে পাওয়া নয়। এটি হতে পারে দুই বৃদ্ধ মানুষের জীবনের একটি অসমাপ্ত অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠা লেখা।

আপনার কাছে কি আছে সেই হারানো ঠিকানা?

বৃহত্তর যশোরের কোনো ব্যক্তি যদি আমিন সম্পর্কে তথ্য জানেন, ডা. আলাউদ্দিনের পরিবারের কাউকে চেনেন, কিংবা ১৯৭০-৭১ সালের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের চিকিৎসকদের মধ্যে কেউ যদি এই পরিবারের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেন, তাহলে তাঁদের কাছে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একটি ফোনকল হয়তো ৫৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারে।

একটি তথ্য হয়তো একজন বৃদ্ধ মানুষের বহুদিনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ এনে দিতে পারে।

যোগাযোগ: 01973149381


শেষ কথা

মানুষ জীবনে অনেক ঋণ নেয়। সব ঋণ টাকা দিয়ে শোধ করা যায় না। কিছু ঋণ থাকে কৃতজ্ঞতার, কিছু ঋণ থাকে ভালোবাসার, কিছু ঋণ থাকে একটি কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর।

সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের এই অনুসন্ধান তেমনই এক ঋণের গল্প।

৮৪ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি সম্পদের হিসাব করছেন না; খুঁজছেন একজন পুরোনো বন্ধুকে।

৫৫ বছর আগে পাওয়া একটি সহযোগিতার কথা ভুলে যাননি তিনি।

হয়তো এই দৌড়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে একদিন তাঁর সামনে দাঁড়াবে সেই বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত মানুষটি। হয়তো তিনি শুধু বলবেন—

“আমিন, তোমাকে খুঁজতে আমার ৫৫ বছর লেগে গেল।”

আর সেই মুহূর্তেই হয়তো একটি অসমাপ্ত কৃতজ্ঞতার গল্প পূর্ণতা পাবে।

নাগরিক দর্পণ | মানবিক অনুসন্ধান

তথ্যসূত্র: পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের প্রকাশিত বক্তব্য ও তাঁর আহ্বানের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্য। ডা. আলাউদ্দিন ও তাঁর ভাই আমিনের পারিবারিক তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি; অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments