জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানালেন সংসদের চিফ হুইপ; চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাও পর্যালোচনায়
ঢাকা | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ সরকার। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি শুক্রবার সংসদ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। তবে প্রতিটি চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কেন ১০১ চুক্তি এখন আলোচনায়
চিফ হুইপের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের সরকারের সময়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে ১০১টি MoU ও চুক্তি করা হয়েছিল।
এসব চুক্তির কোনটি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কোনটির সংশোধন প্রয়োজন এবং কোন ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার—তা যাচাই করছে সরকার।
তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি বাতিল বা সংশোধনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাও আলোচনায়
চিফ হুইপ চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরেছেন।
তাঁর দাবি, কোনো কোনো পরিস্থিতিতে একই সময়ে বাংলাদেশের ও একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জাহাজ বন্দরে এলে বিদেশি জাহাজকে খালাসের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
সরকার এমন ব্যবস্থা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পর্যালোচনা করছে বলে তিনি জানান।
তবে এই বক্তব্যকে সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে; সংশ্লিষ্ট চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত ও আইনি কাঠামো প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।
ঋণ নিয়ে নির্মিত সড়ক নিয়েও প্রশ্ন
চিফ হুইপ আরও একটি সড়ক প্রকল্পের উদাহরণ দেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য নেওয়া ঋণ বাংলাদেশকে সুদসহ পরিশোধ করতে হচ্ছে, অথচ বাংলাদেশের যানবাহন ওই সড়ক ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে না।
সরকার এ ধরনের ব্যবস্থাগুলো পুনর্বিবেচনা করতে চায় বলে তিনি জানান।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কি নতুন পর্যায়ে?
সরকারের এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
ঢাকার বক্তব্য হলো—ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার; কিন্তু বন্ধুত্বের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এ অবস্থান ভবিষ্যতে বন্দর, বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো সহযোগিতার আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কী হলো
চিফ হুইপ জানান, ১৩তম জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন নয় কার্যদিবস চলেছে।
এই সময়ে ছয়টি বিল পাস হয়েছে এবং সংসদ সদস্যদের করা ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
সামনে কী
১০১টি চুক্তির পর্যালোচনার ফল এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার যদি কোনো চুক্তি সংশোধন, বাতিল বা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে অধিকাংশ চুক্তি বহাল রেখে শুধু বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হলে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।
এখন পর্যন্ত সরকার কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয়নি।
তথ্যসূত্র: UNB, Jago News, Bangladesh Post, The Business Standard।




