Homeটুডে বাংলাহাটহাজারীতে ট্যাংক ফায়ারিং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ

হাটহাজারীতে ট্যাংক ফায়ারিং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ

প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংকের ভেতরে গোলা বিস্ফোরণ; দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

৯ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনাটি ঘটে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর—আইএসপিআর দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কীভাবে দুর্ঘটনা

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করা হচ্ছিল।

সেই সময় দুর্ঘটনা ঘটে এবং দুই সেনাসদস্য নিহত হন।

আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নিহত দুই সেনাসদস্য

নিহতদের একজন আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস এবং অন্যজন তাসনিম রিফায়াত।

তাসনিম রিফায়াত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোরের সদস্য ছিলেন।

রাজশাহীতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন। পরে সামরিক মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

অন্য নিহত সেনাসদস্য পিয়াসকেও সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।

পরিবারে নেমে এসেছে শোক

রিফায়াতের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামে।

পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষও তাঁর মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন।

তিনি স্ত্রী ও একটি ছোট মেয়েকে রেখে গেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ এখনো চূড়ান্ত নয়

দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।

অর্থাৎ দুর্ঘটনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, গোলাবারুদের সমস্যা বা প্রশিক্ষণগত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি।

এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি বা অনুমানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

ফিল্ড ফায়ারিং কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণে live-fire exercise অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কার্যক্রম।

ট্যাংক, কামান ও অন্যান্য ভারী অস্ত্র ব্যবহারের সময় সামান্য যান্ত্রিক বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটিও প্রাণঘাতী হতে পারে।

এ কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনার পর সাধারণত সরঞ্জাম, গোলাবারুদ, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও নিরাপত্তা প্রটোকল—সবকিছু পর্যালোচনা করা হয়।

তদন্তের ফলই এখন গুরুত্বপূর্ণ

দুই সেনাসদস্যের মৃত্যুর পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তদন্তে যদি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা পাওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণে তা প্রতিরোধে পরিবর্তন আনা হতে পারে।

নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা এবং আহত কর্মকর্তার চিকিৎসা এখন তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার।

তথ্যসূত্র: ISPR, The Business Standard, The Daily Star।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments