২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডার নির্বাচিত পণ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা; অটোয়ার পাল্টা শুল্ক ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যে
ওয়াশিংটন/অটোয়া | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য সংঘাত এখন শুল্কের সীমা ছাড়িয়ে সরাসরি সরকারি ক্রয় ও নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কানাডার কিছু dairy product, motorcycle ও alcohol পণ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কানাডা এর জবাবে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের নতুন পদক্ষেপ
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডার কিছু পণ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন বড় সরকারি চুক্তিতে কানাডীয় পণ্য বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, কানাডা মার্কিন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য কানাডার সরকারি ক্রয়বাজারে পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না।
অটোয়ার জবাব
কানাডা পাল্টা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছে।
শুল্কের হার পণ্যের ধরন অনুযায়ী ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের steel, aluminium, farm equipment এবং কিছু আঞ্চলিক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পণ্য রয়েছে।
কেন যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক এত গুরুত্বপূর্ণ
দুই দেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তঃনির্ভরশীল অর্থনৈতিক অংশীদার।
কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ তেল, গ্যাস, ধাতু, কৃষিপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ করে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার।
ফলে এক দেশের শুল্ক অন্য দেশের উৎপাদন ব্যয় এবং ভোক্তা দামে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন ভোক্তার ওপরও চাপ
কানাডীয় পণ্যে শুল্ক বাড়লে শুধু কানাডীয় ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
মার্কিন আমদানিকারকরা অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধ করে সেই খরচ পণ্যের দামে যোগ করতে পারেন।
ফলে খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল বা অন্যান্য পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে।
কানাডায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির বিরুদ্ধে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন সামনে এনেছেন।
মার্কিন পণ্যের বদলে কানাডীয় পণ্য কেনা এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর আহ্বানও দেশটিতে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
ফলে বাণিজ্য সংঘাত দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেও প্রভাবিত করছে।
Bombardier-কে ঘিরেও চাপ
কানাডার বিমান নির্মাতা Bombardier-ও মার্কিন প্রশাসনের চাপের মুখে রয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি বাড়াতে চাইলে কোম্পানিকে উৎপাদনের আরও অংশ মার্কিন ভূখণ্ডে নিয়ে আসতে হবে।
এটি শুধু একটি কোম্পানির বিষয় নয়; উত্তর আমেরিকার aerospace supply chain-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
বিশ্ববাণিজ্যের ওপর প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শুল্কযুদ্ধ হলে অন্য দেশগুলোর ব্যবসায়ীরাও সতর্ক হয়ে ওঠেন।
উৎপাদনকারীরা নতুন supplier খুঁজতে পারেন, কিন্তু supply chain পরিবর্তনের খরচও থাকে।
বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় নতুন বাণিজ্য বাধা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
🇧🇩 বাংলাদেশের জন্য কী শিক্ষা
বাংলাদেশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধের পক্ষ নয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি কঠোর হলে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও শুল্কনীতির পরিবর্তন আসতে পারে। বাংলাদেশের পোশাকসহ রপ্তানি খাতের জন্য তাই মার্কিন বাজারের policy changes পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
📊 বর্তমান বাণিজ্য সংঘাত
- কানাডার পাল্টা শুল্কের আওতায় পণ্য: প্রায় $20 বিলিয়ন
- কানাডার শুল্ক: ১৫–৫০%
- নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর: ২৯ সেপ্টেম্বর
- আলোচিত কানাডীয় খাত: dairy, motorcycle, alcohol
- আলোচিত কোম্পানি: Bombardier
🧭 সামনে কী
দুই দেশের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু হলে শুল্ক কমানো বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কিন্তু রাজনৈতিক অবস্থান কঠোর থাকলে বাণিজ্য সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং উত্তর আমেরিকার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: Associated Press, Reuters, Bloomberg, The Guardian




