ট্যারিফের পর আমদানির তালিকা থেকেই কানাডার পণ্য বাদ দেওয়ার পদক্ষেপ; Bombardier-কে ঘিরেও বাড়ছে চাপ
ওয়াশিংটন/অটোয়া | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য সংঘাত নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডীয় পণ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ক্রয় তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটন কিছু কানাডীয় পণ্যের ওপর সরাসরি আমদানি নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। এর পাশাপাশি কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসিয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক অংশীদারদের দুটির মধ্যে এ ধরনের সংঘাত উত্তর আমেরিকার বাইরেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ট্যারিফ থেকে নিষেধাজ্ঞায় কেন গেল যুক্তরাষ্ট্র?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের দাবি, কানাডা মার্কিন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য কানাডার সরকারি ক্রয়বাজারে ন্যায্য প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন General Services Administration বা GSA-কে কানাডীয় পণ্য সরকারি Multiple Award Schedules থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছে।
ওয়াশিংটনের ভাষ্য, কানাডা ‘পূর্ণ ও ন্যায্য পারস্পরিকতা’ নিশ্চিত করলে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হতে পারে।
কানাডার পাল্টা জবাব
কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে।
এসব শুল্কের হার ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
কানাডা এমন পণ্যে শুল্ক বসিয়েছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের শিল্প ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত।
কেন মার্কিন রাজনীতিও জড়িয়ে গেছে?
কানাডা এমন কিছু পণ্য বেছে নিয়েছে যেগুলোর উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ swing states-এ হয়।
Wisconsin-এর dairy ও paper industry, Ohio ও Michigan-এর auto এবং steel sector-এর মতো খাত এতে প্রভাবিত হতে পারে।
ফলে বাণিজ্যযুদ্ধ এখন কেবল অর্থনৈতিক লড়াই নয়; এটি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
Bombardier নিয়ে নতুন চাপ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Bombardier-এর বিমান যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রির ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছেন।
ওয়াশিংটনের দাবি, কানাডীয় কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে চাইলে উৎপাদনের একটি অংশ দেশটির ভেতরে স্থানান্তর করতে হবে।
এই বিরোধ আরও বড় হলে বিমান শিল্প থেকে শুরু করে মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।
ইউরোপ ও এশিয়ায় কেন নজর?
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার এই বাণিজ্যিক লড়াই অন্য দেশগুলোকেও উদ্বিগ্ন করছে।
কারণ ওয়াশিংটন যদি বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ট্যারিফ ও নিষেধাজ্ঞাকে নিয়মিত অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে ইউরোপ ও এশিয়ার সঙ্গে একই ধরনের বিরোধ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
এতে বিশ্ববাণিজ্যের পূর্বানুমানযোগ্যতা কমে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর চাপ
বাণিজ্য বাধা বাড়লে আমদানি পণ্যের দাম বাড়তে পারে। উৎপাদনকারীদের supply chain নতুন করে সাজাতে হয়।
এর ফলে একই পণ্য উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে এবং ভোক্তার ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপতে পারে।
ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দামও ১০০ ডলারের ওপরে ওঠায় বাণিজ্য ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
📊 বাণিজ্যযুদ্ধের বর্তমান চিত্র
- কানাডার পাল্টা শুল্ক: $20 বিলিয়ন পণ্য
- কানাডার শুল্কের হার: ১৫–৫০%
- যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ: সরকারি ক্রয় তালিকা থেকে কানাডীয় পণ্য বাদ
- আলোচিত কোম্পানি: Bombardier
- বড় ঝুঁকি: উৎপাদন ব্যয় ও supply chain
🇧🇩 বাংলাদেশের জন্য কী শিক্ষা?
বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী অর্থনীতির জন্য বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।
বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ বাড়লে ক্রেতারা সরবরাহকারী বদলাতে পারেন। এতে বাংলাদেশের পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি খাতে কখনো নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে, আবার বাজারে চাহিদা কমলে ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
🧭 সামনে কী?
ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো যায় কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
যদি পাল্টাপাল্টি শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ে, তাহলে উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব বৈশ্বিক supply chain-এর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: Reuters, Bloomberg, The Guardian




