ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন ধাপ তৈরি হয়েছে। তেহরানের সাত দিনের আস্থাবর্ধক পরিকল্পনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব কাতারের মাধ্যমে ইরানের কাছে পৌঁছেছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। আলোচনায় মূল মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে কোন পদক্ষেপ আগে নেওয়া হবে, অর্থাৎ সময় ও ধাপ নির্ধারণ নিয়ে।
কাতারের মাধ্যমে মার্কিন বার্তা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। মঙ্গলবার দোহায় এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। বুধবার তেহরানে ফিরে বিষয়টি নিয়ে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা করার কথা ছিল আরাকচির।
ইরান গত সপ্তাহে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তাতে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর কথা বলা হয়। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তবে কাতারের মধ্যস্থতায় পরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা বিনিময় শুরু হয়।
কোথায় আটকে আছে সমঝোতা
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবের বিভিন্ন অংশ নিয়ে বড় ধরনের মতবিরোধের চেয়ে কোন পদক্ষেপ কোন ক্রমে বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন। আলোচনার খসড়ায় সাত দিনের একটি আস্থাবর্ধক সময়ের কথা রয়েছে। এর লক্ষ্য জুনে হওয়া সমঝোতার আরও বিস্তৃত সংস্করণে দুই পক্ষকে ফিরিয়ে আনা।
প্রস্তাবের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথাও রয়েছে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব
বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। সংঘাতের কারণে এই জলপথের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি পরিবহন, বীমা ব্যয় এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। আল জাজিরার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ এখন বিকল্প পথ ব্যবহার করে গন্তব্যে যাচ্ছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত খুব শিগগির শেষ হতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি বা সমঝোতার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। ফলে আলোচনার এই নতুন ধাপ বাস্তবে যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে গড়াবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ; আল জাজিরা




