Homeটুডে ওয়ার্ল্ডইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার বড় হামলা, শীতের আগে বাড়ছে উদ্বেগ

ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার বড় হামলা, শীতের আগে বাড়ছে উদ্বেগ

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবারের এই হামলায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। হামলার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং শীতের আগে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রায় ১৯০ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

রয়টার্স জানিয়েছে, রাতের হামলায় প্রায় ১৯০টি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, তারা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৫৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তারপরও রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত লাগে।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেতস্কি বলেছেন, গ্রীষ্মের পর থেকে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো প্রায় নিয়মিতই হামলার মুখে পড়ছে। তবে আগের শীত শেষ হওয়ার পর এই প্রথম এত বড় মাত্রার সম্মিলিত হামলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রভাব

কিয়েভের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে জানিয়েছে, হামলার পর প্রায় আট হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ পুনরায় চালু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার পূর্ণ চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

রাশিয়া হামলার কথা স্বীকার করে বলেছে, কিয়েভের একটি তথ্যকেন্দ্র, কিয়েভ অঞ্চলের কয়েকটি বিদ্যুৎ স্থাপনা, ওদেসা অঞ্চলের একটি শিল্প কমপ্লেক্স এবং ইজমাইল বন্দরের অবকাঠামো তাদের লক্ষ্য ছিল। মস্কোর দাবি, এসব স্থাপনা ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।

শীত ঘিরে নতুন চাপ

গত শীতে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ, গরমের ব্যবস্থা ও পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে জরুরি বিদ্যুৎব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিকল্প বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে ইউক্রেন সরকার।

হামলার প্রভাব শুধু ইউক্রেনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার একটি ড্রোন মলদোভার আকাশসীমায় প্রবেশ করে বিস্ফোরিত হয়েছে। পোল্যান্ড ও রোমানিয়াও সতর্কতামূলকভাবে যুদ্ধবিমান আকাশে তোলে। পোল্যান্ডের লুবলিন ও রজেসফ বিমানবন্দরেও সাময়িকভাবে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

ইউক্রেনে শীত যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষার সক্ষমতা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে নতুন হামলা যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও চাপ বাড়াচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ; অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ; আল জাজিরা

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments