রাজধানীর রেল অবকাঠামো, গুদাম ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা; ইউক্রেন বলছে প্রায় এক লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জড়ো হওয়ার সময় ইউক্রেনে আবারও বড় ধরনের রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে কিয়েভসহ কয়েকটি অঞ্চলে রুশ বাহিনী হামলা চালায়। রয়টার্স জানিয়েছে, রাজধানীতে রেল অবকাঠামো, গুদাম এবং জ্বালানি স্টেশন লক্ষ্য করে ড্রোন আঘাত হানে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে অন্তত একজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর রাতে ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছিল বলে আল জাজিরা ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছে। ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে শিল্প স্থাপনা, গুদাম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর আসে। একই হামলায় প্রায় এক লাখ মানুষ বিদ্যুৎ সরবরাহ হারায়।
কূটনীতির সময়েই হামলা
রুশ হামলার সর্বশেষ দফা এমন সময়ে হয়েছে, যখন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। তার সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকে যুদ্ধ কমানোর সম্ভাব্য কিছু উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করে, তাহলে ইউক্রেনও রাশিয়ার একই ধরনের স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত। এ প্রস্তাবকে একটি সম্ভাব্য ‘এনার্জি ট্রুস’ বা জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে সীমিত যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে মস্কো এখনো এমন কোনো চুক্তিতে সম্মতি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেনি। ফলে হামলা এবং কূটনীতি একই সময়ে পাশাপাশি চলছে।
শীতের আগে বড় উদ্বেগ
ইউক্রেনের জন্য বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহের প্রশ্নটি এখন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শীত শুরু হওয়ার আগে বিদ্যুৎকেন্দ্র, ট্রান্সমিশন লাইন এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় হামলা হলে সাধারণ মানুষের জীবন ও শিল্প উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার সঙ্গে অন্তত জ্বালানি অবকাঠামো এবং কৃষিপণ্য পরিবহনকে হামলার বাইরে রাখার বিষয়ে সমঝোতা করার চেষ্টা চলছে।
রাশিয়ার ভেতরেও লক্ষ্যবস্তু
ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার খবর এসেছে। মস্কোর দাবি, তারা বহু ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করেছে। যুদ্ধরত দুই পক্ষের এমন দাবি স্বাধীনভাবে সব ক্ষেত্রে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুদ্ধের এই পর্যায়ে জ্বালানি অবকাঠামো ক্রমেই বড় লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। কারণ তেল শোধনাগার, গ্যাস ও বিদ্যুৎব্যবস্থায় হামলা সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি বেসামরিক অর্থনীতি ও জনজীবনেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
জাতিসংঘের আলোচনায় যুদ্ধ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে ইউক্রেন যুদ্ধও বড় আলোচনার বিষয়। জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন জোরদারের চেষ্টা করছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁও রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের উদ্যোগের কথা বলেছেন।
তবে সামরিক অভিযান থামেনি। নতুন ড্রোন হামলা দেখাচ্ছে, কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও যুদ্ধক্ষেত্রে চাপ অব্যাহত রয়েছে। ফলে একটি বড় যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর আগে সীমিত খাতে সমঝোতা সম্ভব হয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স; এপি; আল জাজিরা; ইউক্রেনীয় ও রুশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য।




