Homeটুডে ওয়ার্ল্ডগাজা নিয়ে জাতিসংঘে তীব্র মতপার্থক্য, দুই রাষ্ট্র সমাধানের আহ্বান জোরালো

গাজা নিয়ে জাতিসংঘে তীব্র মতপার্থক্য, দুই রাষ্ট্র সমাধানের আহ্বান জোরালো

ম্যাক্রোঁর কড়া বক্তব্য, এরদোয়ানের চাপ; গাজার মানবিক পরিস্থিতি ও পশ্চিম তীরের বসতি নিয়ে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে গাজা ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত আবারও বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ২২ সেপ্টেম্বরের ভাষণে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও গাজার যুদ্ধ ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। (reuters.com; reuters.com)

জাতিসংঘের এই অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে-পরে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশের বক্তব্য আরও কঠোর হয়েছে। যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়িত্ব, বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও বাস্তুচ্যুতি এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে এসেছে। (theguardian.com)

ম্যাক্রোঁর অবস্থান

জাতিসংঘে নিজের শেষ সাধারণ অধিবেশন ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, গাজায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ কাঠামোর প্রতি নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। (reuters.com)

ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্য। ফ্রান্সসহ বেশ কিছু দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে সক্রিয়। অন্যদিকে ইসরায়েল নিরাপত্তা ও হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়কে নিজেদের প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরে আসছে।

এরদোয়ানের বার্তা

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারেরও আহ্বান জানিয়েছেন। গাজা প্রসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সমাজকে আরও চাপ প্রয়োগের কথা বলেন এবং যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। (reuters.com)

তবে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অবস্থান একরকম নয়। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে গাজা যুদ্ধের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে নিজের কূটনৈতিক উদ্যোগ তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে ম্যাক্রোঁসহ ইউরোপের কয়েকজন নেতা গাজার মানবিক সংকট নিয়ে আরও প্রকাশ্য চাপ দেওয়ার কথা বলেছেন। (reuters.com)

জাতিসংঘ মহাসচিবের শেষ ভাষণ

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও তার শেষ সাধারণ অধিবেশন ভাষণে গাজা, ইউক্রেন ও অন্যান্য সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন। এআই নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটও তার বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে। (reuters.com)

গুতেরেসের মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ দিনে শেষ হওয়ার কথা। তার বিদায়ী ভাষণে জাতিসংঘের বর্তমান সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্তিধর দেশগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রভাবও উঠে এসেছে। (theguardian.com)

সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন

গাজা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও মাঠের পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুদ্ধ থামানো, মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন করা, জিম্মিদের মুক্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধের পর গাজার প্রশাসন কীভাবে চলবে—এসব প্রশ্নের কোনো একক সমাধান এখনো সামনে আসেনি।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশন তাই ফিলিস্তিন প্রশ্নে রাজনৈতিক অবস্থান জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সমাধানের পথ কতটা বাস্তবভাবে নির্ধারণ করতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স; এপি; এএফপি; দ্য গার্ডিয়ান; আল জাজিরা; জাতিসংঘ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments