মস্কোতে তিন ঘণ্টার বেশি আলোচনা; ‘উপকারী’ বৈঠক বলেছে ক্রেমলিন, রোববার কিয়েভে যাচ্ছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা
মস্কো/কিয়েভ | ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শনিবার মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক করেছেন। ক্রেমলিন আলোচনাটিকে ‘অত্যন্ত উপকারী’ ও গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছে। তবে কোনো বড় সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।
রোববার মার্কিন প্রতিনিধিরা কিয়েভে গিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।
বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হলো?
ক্রেমলিনের কর্মকর্তা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সম্ভাব্য যৌথ প্রকল্পের বিষয়ও উঠে এসেছে।
তবে বৈঠকের মূল বিষয় ছিল যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায়। মার্কিন পক্ষ একটি সম্ভাব্য সমঝোতার কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে, কিন্তু তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
রাশিয়া বৈঠককে ইতিবাচক বললেও কোনো তাৎক্ষণিক breakthrough হয়নি।
আলোচনার টেবিলে বড় বাধা এখনো একই
রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ভূখণ্ডের প্রশ্নে বড় ধরনের ছাড় চায়। বিশেষ করে দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে মস্কোর অবস্থান শক্ত।
ইউক্রেন অন্যদিকে কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি নয়। একই সঙ্গে কিয়েভ ভবিষ্যতে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চায়।
ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়েও রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বড় মতপার্থক্য রয়েছে।
আলোচনার মধ্যেই তিন দিনের সীমিত বিরতি
মার্কিন দূতদের মস্কো সফরের সময় রাশিয়া ও ইউক্রেন রাজধানী এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়ে তিন দিনের একটি সীমিত সমঝোতায় যায়।
এর ফলে কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের নিরাপদে যাতায়াত সহজ করার একটি সুযোগ তৈরি হয়।
কিন্তু এই বিরতি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নয়। ফ্রন্টলাইনের অন্য অংশে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রেও চাপ বাড়ছে
রুশ বাহিনীর হামলায় শনিবার ইউক্রেনে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কিয়েভের আশপাশ এবং ডনিপ্রো অঞ্চলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে আক্রমণ অব্যাহত থাকা অবস্থায় কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনার মূল্য কোথায়?
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা বলে আসছে। ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক উদ্যোগ দেখাচ্ছে, সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে একটি নতুন সমঝোতা তৈরির চেষ্টা আবার সক্রিয় হয়েছে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে একই সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষকেই আলোচনার পথে ধরে রাখতে হচ্ছে।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা বাড়ালে ইউক্রেনের নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। আবার ইউক্রেনের শর্ত পুরোপুরি মেনে নিলে মস্কো আলোচনায় কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
যুদ্ধ শেষ হলেও ইউক্রেনের নিরাপত্তা কে নিশ্চিত করবে—এটি এখনো বড় প্রশ্ন।
ন্যাটো সদস্যপদ না থাকলেও যদি ইউক্রেন শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পায়, সেটি মস্কোর জন্য কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা পরিষ্কার নয়।
এই প্রশ্নের সমাধান না হলে যুদ্ধবিরতি হলেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি করা কঠিন হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য এই শান্তি উদ্যোগের অর্থ কী?
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘ হলে খাদ্যশস্য, সার, জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয়ের ওপর চাপ থাকে।
যুদ্ধ কমলে কৃষ্ণসাগরীয় বাণিজ্যপথ এবং আন্তর্জাতিক শস্য সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। এতে বাংলাদেশের আমদানিকারক ও খাদ্যবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
📊 আলোচনার বর্তমান চিত্র
- মস্কো বৈঠক: ৩ ঘণ্টার বেশি
- মার্কিন প্রতিনিধি: স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার
- পরবর্তী বৈঠক: কিয়েভ
- সীমিত যুদ্ধবিরতি: ৩ দিন
- প্রধান অমীমাংসিত প্রশ্ন: ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা
🧭 সামনে কী?
রোববার কিয়েভে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেনের অবস্থান এবং ওয়াশিংটনের প্রস্তাব কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, তা স্পষ্ট হবে।
মস্কোর বৈঠক শান্তির দরজা পুরোপুরি খুলেছে—এমন নয়। তবে কয়েক মাসের স্থবিরতার পর উচ্চপর্যায়ের এই যোগাযোগ নতুন একটি কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: Reuters, The Guardian, Al Jazeera, Kremlin




