Homeটুডে ওয়ার্ল্ডগাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬৩০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার, সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ

গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬৩০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার, সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ

নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে; ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৮ হাজারের বেশি মানুষ থাকতে পারেন বলে ধারণা জাতিসংঘের

গাজা | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬৩০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এই পরিস্থিতি সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে গাজার বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংস হওয়া ভবনের নিচ থেকে এসব মরদেহ ও মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরো পরিবার একসঙ্গে নিহত হয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হাজারো মানুষ

জাতিসংঘের হিসাবে, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ থাকতে পারেন। দীর্ঘ সময় ধরে ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে মরদেহ পড়ে থাকায় সেগুলো শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

জাতিসংঘ বলছে, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, মরদেহ শনাক্তকরণ এবং দাফনের রেকর্ড সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ বিচারিক তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ

ভলকার টুর্ক আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের গাজার সব এলাকায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ধ্বংসস্তূপ সরানোর আগে সেখানে থাকা সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

জাতিসংঘের উদ্বেগ হলো, ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেললে মানবদেহের পাশাপাশি হামলার ধরন, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ইসরায়েলের অবস্থান কী

ইসরায়েল বরাবরই বলে আসছে, গাজায় তাদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে এবং বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করা হয়নি।

ইসরায়েল হামাসকে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের জন্য দায়ী করে। হামাসের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা থামেনি

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।

রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার উত্তর গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় এক শিশুসহ অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসরায়েল বলেছে, তারা সশস্ত্র ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ধ্বংসস্তূপ সরাতেই লাগতে পারে সাত বছর

জাতিসংঘের হিসাবে, গাজার বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরাতে সাত বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই কাজ শুধু পুনর্গঠনের জন্য নয়, নিখোঁজ মানুষের মরদেহ উদ্ধার ও সম্ভাব্য অপরাধের প্রমাণ সংরক্ষণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

গাজায় যুদ্ধের প্রায় তিন বছর পরও ধ্বংসস্তূপ, নিখোঁজ মানুষ এবং বেসামরিক হতাহতের হিসাব আন্তর্জাতিক তদন্তের বড় বিষয় হয়ে রয়েছে।

জাতিসংঘের সর্বশেষ আহ্বান তাই শুধু মানবিক সহায়তার প্রশ্ন নয়; যুদ্ধের সময় কী ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে তার জন্য কার দায় নির্ধারিত হবে—সেই প্রশ্নের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

তথ্যসূত্র: Reuters, Associated Press (AP), United Nations, Al Jazeera, The Guardian।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments