কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নানা টুলস সব শিল্পখাতেই পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে। এসব পরিবর্তন নতুন চ্যালেঞ্জের ডাক দিচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে আয়োজিত এক আলোচনা এসব বিষয় তুলে ধরেন বক্তারা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিল্পক্ষেত্র ও কর্মক্ষেত্রে এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরার লক্ষ্যে শিল্পখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়। ২৪ জুন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির নওশের আলী লেকচার গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয় এই আলোচনা সভা।
আলোচনায় বক্তব্য রাখেন এডিএ ডেটা এআই সলিউশনসের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও নেসলে বাংলাদেশের বিজনেজ এক্সিলেন্স ও প্রজেক্ট সাপ্লাই চেইনের ম্যানেজার মোঃ তাজদিকুল ইসলাম। রিয়াজ উদ্দিন খান বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোনো দূরবর্তী ভবিষ্যৎ নয়, বরং আমাদের বর্তমান বাস্তব। এআইয়ের বিভিন্ন টুলস আমাদের ডেটা অ্যানালাইসিস এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আমূল বদলে দিচ্ছে। প্রতিটি শিল্পখাতেই এখন দ্রুত উদ্ভাবন ও কৌশলগত পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। বাংলাদেশের সেবা ও আইটি খাতেও এর বড় প্রভাব পড়ছে। এই নতুন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে এখন থেকেই এআই টুলস ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়াও ম্যানুফ্যাকচারিং এবং সাপ্লাই চেইনের মতো বড় শিল্পখাতগুলোতে এআই এখন কাজের গতি ও নিখুঁত কার্যকারিতা নিশ্চিত করছে। এবিষয়ে মোঃ তাজদিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন শিল্পখাতে ব্যবসায়িক উৎকর্ষতা ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে প্রতিনিয়ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাস্তব প্রয়োগ ঘটাচ্ছে। তবে প্রযুক্তির এই প্রসারে কর্মক্ষেত্রের ধরন বদলে যাচ্ছে, যা তরুণদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ও একই সাথে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। করপোরেট দুনিয়ায় নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিনিয়ত নতুন দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে।
আলোচনা সভার পরিচালনা করেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমসের সিনিয়র লেকচারার বুশরা হুমায়রা এষা এবং লেকচারার মুনিরা পারভিন। সিনিয়র লেকচারার বুশরা হুমায়রা এষা বলেন, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষা, ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ কর্মপরিবেশের জন্য প্রস্তুত করতে এবং শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত করার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন। এই প্যানেল আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।



