জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সুদমুক্ত ঋণ দিচ্ছে সরকার। দীর্ঘ ১১ বছর পর রাষ্ট্রীয় এই জ্বালানি সংস্থাকে বড় অঙ্কের সরকারি ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং দেশীয় বাজারে পুরোপুরি তার সঙ্গে সমন্বয় না হওয়ায় বিপিসির আর্থিক চাপ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে।
অক্টোবরের আমদানি নিয়ে চাপ
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের বাজেটের পরিচালন ঋণ খাত থেকে বিপিসিকে এই অর্থ দেওয়া হবে। ঋণটি ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ পাঁচ বছরে অর্ধবার্ষিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। জ্বালানি-সংক্রান্ত অনুমোদিত খরচ ছাড়া অন্য কোনো কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
বিপিসি এর আগে জানিয়েছিল, নতুন অর্থের ব্যবস্থা না হলে অক্টোবরের মধ্যে জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ঋণপত্র খোলার সক্ষমতা নিয়ে চাপ তৈরি হতে পারে। নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে আপাতত সেই ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের ধাক্কা
বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত আমদানি করা জ্বালানির ঋণপত্র নিষ্পত্তিতে তাদের প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে একই হারে দাম বাড়ানো হয়নি।
২০ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে। তবে জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক দামের চাপ পুরোপুরি ভোক্তার ওপর না দেওয়ায় বিপিসির আর্থিক ভার এখনো বড়।
সরকারি অর্থে বাড়ছে চাপ
সরকারি ঋণ পাওয়া বিপিসির জন্য তাৎক্ষণিক জ্বালানি আমদানি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও অর্থনীতিতে এর আরেকটি দিক রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের ঋণ বা আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়লে রাষ্ট্রের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা ও বাজেটের ওপরও চাপ বাড়ে।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও এলএনজি খাতে সরকারের জন্য মোট ৪২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির বাজেট রাখা হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও সামনে বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার ; বাংলাদেশ ব্যাংক ও জ্বালানি খাতের সাম্প্রতিক তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনসমূহ




