বাংলাদেশে এলপিজি আমদানি মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও বাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তাদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আমদানি আছে, বাজারে সংকট কেন
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের হিসাবে, জুলাইয়ে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৫ টন এবং আগস্টে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি দেশে এসেছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২২ দিনেই আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন। অর্থাৎ সামগ্রিক আমদানি পরিমাণে বড় ধরনের ধসের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির প্রকৃত আমদানি ব্যয়, জাহাজ ভাড়া এবং অন্যান্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান নির্ধারিত দামে বাজারে পণ্য ছাড়তে অনেকে অনীহা দেখাচ্ছেন।
ভোক্তার ওপর বাড়তি খরচ
সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু দ্য ডেইলি স্টারের কথা বলা অন্তত ১০ জন ভোক্তা জানিয়েছেন, তারা ২ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনেছেন। কেউ কেউ ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৬১৫ টাকা বেশি।
প্রথম আলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আবার বলা হয়েছে, কিছু এলাকায় বাজারে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে এবং ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ আমদানি ও খুচরা পর্যায়ের সরবরাহ পরিস্থিতির মধ্যে একটি পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
অক্টোবরে নতুন দাম ঘোষণা
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জানিয়েছে, অক্টোবরের এলপিজির নতুন দাম ৪ অক্টোবর ঘোষণা করা হতে পারে। এর আগে বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি, মজুত এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও নজরে এসেছে।
বাংলাদেশে নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। দেশের মোট এলপিজি ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশই আবাসিক রান্নায় ব্যবহৃত হয়। ফলে সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ পরিবারের মাসিক ব্যয়ে।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার ; প্রথম আলো




