নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে উপস্থিত থাকার ঘটনায় সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার, ১৯ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিএনপিকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না ফেলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই ঘটনায় তাঁর অস্ত্র বহনের বিষয়টি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
কী ঘটেছিল
ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে একটি কার্যক্রমে ইশরাক হোসেন ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ইশরাক নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজেও অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রমের সমন্বয় করতে গিয়েছিলেন। নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন বলে দাবি করেন। সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে এসেছে, তা নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত
ইশরাক জানান, ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং সরকারি পদ ছাড়লেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চান বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
তবে পদত্যাগের ঘোষণা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত অবস্থা নির্ধারণ করবে।
আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ঘটনায় ডিএমপির তদন্ত
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আইনের কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে জনপ্রতিনিধির ভূমিকা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সীমা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর উদ্দেশ্য থাকলেও কে কোন ক্ষমতাবলে তল্লাশি, আটক বা অস্ত্র প্রদর্শনের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, তা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত।
তদন্তের ফলের দিকে নজর
ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণা তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিলেও, অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনায় কোনো আইন ভঙ্গ হয়েছিল কি না, তা তদন্তের বিষয়। তদন্তের ফল এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে ঘটনাটির পরবর্তী অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা মহানগর পুলিশ।




