নিজস্ব প্রতিবেদক
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের আখড়ার প্রবেশপথের কাছে টাইমারযুক্ত বোমাসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার, ১৯ অক্টোবর রাতের দিকে নয়, ভোররাত প্রায় ১টার দিকে সন্দেহজনক একটি ব্যাগের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি পরীক্ষা করেন।
সন্দেহজনক ব্যাগ থেকে যা পাওয়া যায়
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আখড়ার প্রবেশপথের ডান পাশে একটি নারকেলগাছের কাছে ব্যাগটি পড়ে ছিল। ব্যাগের ভেতরে পেট্রলভর্তি দুটি ছোট বোতল, দুটি ধাতব নল বা কৌটা এবং বৈদ্যুতিক তারযুক্ত একটি যন্ত্র পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে যন্ত্রটিতে টাইমার ও ব্যাটারি থাকার কথা জানান। পরে পুলিশি দল উদ্ধার করা বস্তুগুলো নিষ্ক্রিয় করে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে আখড়ায় আসা ভক্তদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়। লালন শাহের ১৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে তিন দিনের উৎসব চলার সময় এ ঘটনা ঘটে। ফলে আখড়া ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়।
আগের ঘটনার সঙ্গে প্রযুক্তিগত মিল
বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে সিটিটিসি-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, উদ্ধার করা যন্ত্রটির প্রযুক্তির সঙ্গে গত জুলাইয়ে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া বোমার মিল রয়েছে। তবে দুই ঘটনার পেছনে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
আগের ঘটনার তদন্তে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নিউ জেএমবির কয়েকজন সদস্যের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু কুষ্টিয়ার আখড়ার পাশে উদ্ধার করা যন্ত্রটি কে বা কারা সেখানে রেখেছে, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদারের প্রশ্ন
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বস্তুগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং আশপাশে সন্দেহজনক ব্যক্তির চলাচল যাচাই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। পুলিশ এখনো কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জমায়েতের স্থানে এ ধরনের বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার উদ্দেশ্য বা দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা মহানগর পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের তথ্য।




