নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবিতে ঘোষিত আমরণ অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন আন্দোলনকারীরা। নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে বৈঠকের পর সোমবার, ১৯ অক্টোবর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বন্দর শ্রমিক আন্দোলনের নেতারা।
মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যেসব বিষয় উঠেছে
রোববার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন বন্দর শ্রমিক ও আন্দোলনকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের আলোচনায় এনসিটি পরিচালনার চুক্তি ছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, এনসিটি ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালে (সিসিটি) শূন্য পদে নিয়োগ এবং শ্রমিকদের অন্যান্য দাবি উঠে আসে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন জানিয়েছেন, মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এনসিটি পরিচালনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকার তাঁদের দাবিগুলো বিবেচনায় নিচ্ছে বলে তাঁরা আশা করছেন। তবে চুক্তি বাতিল বা সংশোধনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসেনি।
৮ অক্টোবর চুক্তি, এরপর আন্দোলন
গত ৮ অক্টোবর সরকার ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ইসা কাজিম চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তির বিরোধিতা করে কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করে আসছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিলে স্থানীয় শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা এবং বন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তাঁরা চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি শূন্য পদে নিয়োগসহ শ্রমিকদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
১২ অক্টোবর বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের সামনে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর ১৯ অক্টোবর আমরণ অনশনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বৈঠকের পর কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি।
এখন কী হবে
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আলোচনার অগ্রগতি এবং মঙ্গলবার চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনশন স্থগিত করা হয়েছে। আলোচনা থেকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত না এলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
এখন মূল প্রশ্ন, এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তি বহাল থাকবে কি না, শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে এবং বন্দরের ব্যবস্থাপনায় সরকার কী ধরনের পরিবর্তন আনবে। এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত চুক্তি নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে বলা যাবে না।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা আন্দোলনের বক্তব্য।




