মূল্যস্ফীতির চাপ, দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের চাপের মধ্যে অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য নীতিসুদ ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রথম ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
মূল্যস্ফীতি কমলেও স্বস্তি মিলছে না
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান জানান, মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক কমার প্রবণতা এখনো স্থায়ীভাবে মূল্যস্থিতি ফিরে আসার যথেষ্ট প্রমাণ দিচ্ছে না। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক মুদ্রানীতির অবস্থান ধরে রেখেছে।
আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। জুনে এই হার ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আগস্টে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমে এলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও সারের দাম, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যে সম্ভাব্য বিঘ্ন, সাম্প্রতিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের পর সম্ভাব্য বাড়তি সরকারি ব্যয় মূল্যস্ফীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
ঋণ কমছে, ব্যাংক খাতে চাপ
মুদ্রানীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি আনুমানিক ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে। অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ২ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। একই সময়ে শিল্প উৎপাদন শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ কমেছে।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিও আগস্টে মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ ছিল। ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের হার জুনে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে। উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বাজারের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নীতিসুদের পাশাপাশি স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটির হার ১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির হার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, কেবল মুদ্রানীতির মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়; ব্যাংক খাতে কাঠামোগত সংস্কার, মূলধন পুনর্গঠন, সুশাসন ও ঋণ ব্যবস্থাপনার উন্নতি প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস) ; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর




