তুরস্ক-বাংলাদেশ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা; বৈঠক হয়েছে জাতিসংঘ প্লাজার তুর্কি হাউসে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে জাতিসংঘ প্লাজার তুর্কি হাউসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথাও এসেছে
একই সফর ঘিরে প্রকাশিত বাংলাদেশি প্রতিবেদনে তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনার কথা এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তবে বৈঠকের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নতুন চুক্তি বা নির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে আলোচনায় উঠে আসা সম্ভাবনাগুলো বাস্তব প্রকল্প, বাণিজ্য বৃদ্ধি বা নতুন বিনিয়োগে কতটা রূপ নেয়, সেটিই পরবর্তী ধাপের বিষয়।
জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের ব্যস্ততা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন এবং ২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে পৌঁছান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তার সঙ্গে ৩৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ দেওয়ার সূচি রয়েছে।
সফরের শুরুতেই তিনি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য আয়োজিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর পাশাপাশি জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার সূচি রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য নিউইয়র্ক সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বের আরেকটি দিক হলো রোহিঙ্গা সংকট। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের যোগাযোগ চলছে।
এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক তাই বাংলাদেশের বর্তমান কূটনৈতিক কর্মসূচির একটি অংশ। এখন দেখার বিষয়, বৈঠকে আলোচিত অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে পরবর্তী সময়ে বাস্তব উদ্যোগ কতটা এগোয়।
তথ্যসূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়; বিডিনিউজ২৪; বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; প্রথম আলো।




