পোশাকের পাশাপাশি পাট, ওষুধ, চামড়া ও প্রকৌশল পণ্যে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি; দুই মাসে মোট রপ্তানি ৯.১৬ বিলিয়ন ডলার
ঢাকা | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে আগস্ট মাসে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (EPB) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে রপ্তানি আয় ১৩.১৪ শতাংশ বেড়ে ৪.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৩.৯২ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট পণ্য রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৯.১৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৪৩ শতাংশ বেশি।
আগস্টের এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এ মাসে পোশাক রপ্তানি ১৩.৯২ শতাংশ বেড়ে ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ১৪.৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক ১২.৭০ শতাংশ।
শুধু পোশাক নয়, অন্য খাতেও বাড়ছে রপ্তানি
বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িতে বহুমুখীকরণের যে প্রয়োজনের কথা দীর্ঘদিন বলা হচ্ছে, আগস্টের তথ্যে তার কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ৩৭.০৯ শতাংশ বেড়েছে। ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৮.৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪.৮৫ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ২৩.৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য জুতা ১৫.২৯ শতাংশ।
দুই মাসের হিসাবেও কিছু অপ্রচলিত খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে ওষুধ রপ্তানি ৩৮.৯৪ শতাংশ, মুদ্রিত পণ্য ৪১.৮৯ শতাংশ, অন্যান্য জুতা ২৭.৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য ২২.২৬ শতাংশ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রধান বাজার, নতুন বাজারেও বাড়ছে রপ্তানি
আগস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ২৬.০৯ শতাংশ। জুলাই-আগস্ট মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১১.৯০ শতাংশ।
যুক্তরাজ্য আবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারে উঠে এসেছে। এর পর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি আগস্টে ১৪১.০৩ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও সৌদি আরবেও যথাক্রমে ৪২.৩৭ ও ৪২.০৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এই বাজারভিত্তিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটি বা দুটি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজারে প্রবেশ করা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি কমাতে পারে।
তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত
রপ্তানির এই ইতিবাচক ফল এসেছে এমন এক সময়ে, যখন বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা একাধিক চাপের মুখে রয়েছেন। কিছু বাজারে চাহিদা দুর্বল, বিভিন্ন দেশের sourcing pattern বদলাচ্ছে এবং পোশাক উৎপাদনে প্রতিযোগিতা বাড়ছে।
EPB জানিয়েছে, বাংলাদেশি রপ্তানিতে শক্তিশালী চাহিদা, buyer confidence এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি value-added পণ্যের অংশ বাড়ানোর চেষ্টা প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে শুধু একটি ভালো মাসের তথ্য দিয়ে পুরো অর্থবছরের রপ্তানি পরিস্থিতি বিচার করা যাবে না।
পোশাকনির্ভর অর্থনীতিতে বহুমুখীকরণই বড় প্রশ্ন
আগস্টে অ-পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানির সবচেয়ে বড় অংশ এখনো তৈরি পোশাক। এ কারণে রপ্তানি আয় আরও টেকসই করতে পাট, ওষুধ, চামড়া, প্রকৌশল, জুতা এবং অন্যান্য পণ্যে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের পরামর্শও হলো—শুধু পোশাকের ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য ও নতুন বাজার বাড়ানো। আগস্টের পরিসংখ্যান সেই প্রচেষ্টার কিছু ইতিবাচক ফল দেখালেও পথ এখনো দীর্ঘ।
📊 রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
| সূচক | আগস্ট ২০২৬ | পরিবর্তন |
|---|---|---|
| মোট রপ্তানি | $4.43 বিলিয়ন | +13.14% |
| RMG | $3.89 বিলিয়ন | +13.92% |
| জুলাই-আগস্ট মোট | $9.16 বিলিয়ন | +5.43% |
| পাট ও পাটজাত | — | +37.09% |
| ওষুধ | — | +28.52% |
| চামড়া | — | +24.85% |
🧭 সামনে কী গুরুত্বপূর্ণ
রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশের সামনে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—প্রধান বাজারে চাহিদা ধরে রাখা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াও জরুরি।
আগস্টের ফল তাই বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য স্বস্তির খবর, কিন্তু এটিকে দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সময় এখনো আসেনি।
তথ্যসূত্র: Export Promotion Bureau (EPB), The Business Standard।




