‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর পর ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’-এ নতুন জুটি; ২০২৭ সালের ঈদুল আজহায় মুক্তির লক্ষ্য, পরিচালনায় দুই তরুণ নির্মাতার অভিষেক
শোবিজ টুডে ডেস্ক
‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ দর্শকের প্রশংসা পাওয়া শরিফুল রাজ ও সাবিলা নূর এবার আবারও বড় পর্দায় একসঙ্গে ফিরছেন। নতুন সিনেমার নাম ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’। রহস্য, রোমান্স, সময় ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হতে যাওয়া এই চলচ্চিত্র দিয়ে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হচ্ছে আয়মান আসিব স্বাধীন ও সুস্ময় সরকার-এর।
সোমবার রাতে প্রকাশিত অ্যানাউন্সমেন্ট টিজারের মাধ্যমে সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। প্রযোজনা করছে বুড়িগঙ্গা টকিজ, আর প্রযোজনায় রয়েছেন তানিম নূর। প্রতিষ্ঠানটির জন্য এটি হতে যাচ্ছে তৃতীয় চলচ্চিত্র।
উৎসের পাতায় শুরু, এবার পর্দায়
‘কানাভুলা প্যারাডক্স’-এর গল্পের মূল অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে লেখক মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর ২০২৪ সালে প্রকাশিত একই নামের উপন্যাস থেকে। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি গতানুগতিক প্রেমের গল্প নয়; সময়, সম্পর্ক, স্মৃতি এবং রহস্যের সমন্বয়ে দর্শককে পরিচিত গল্প বলার কাঠামোর বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রযোজক তানিম নূর জানিয়েছেন, ছবিটি মূলত একটি রোমান্টিক সায়েন্স-ফিকশন হরর ঘরানার কাজ। গল্পে এমন একটি রহস্যময় সত্তার উপস্থিতি রয়েছে, যে সময় ও স্থানকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে প্রেমের গল্পের সঙ্গে এখানে যুক্ত হচ্ছে অস্বাভাবিক এক জগতের অভিজ্ঞতা।
রাজ-সাবিলার দ্বিতীয় জুটি, এবার চরিত্রও আলাদা
‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ প্রথমবার বড় পর্দায় জুটি বেঁধেছিলেন শরিফুল রাজ ও সাবিলা নূর। ওই সিনেমার পর তাঁদের জুটিকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ তৈরি হওয়ায় নতুন ছবিতে আবারও তাঁদের নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নির্মাতারা অবশ্য জানিয়েছেন, মূল কারণ চরিত্রের সঙ্গে তাঁদের উপযুক্ততা এবং অভিনয় দক্ষতা।
নতুন চলচ্চিত্রে দুজনকেই ভিন্ন অবয়ব ও চরিত্রে দেখা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ আগের সিনেমার সাফল্যকে শুধু পুনরাবৃত্তি না করে নতুন চরিত্র ও আলাদা গল্পের মাধ্যমে জুটিটিকে উপস্থাপনের চেষ্টা থাকছে।
দুই তরুণ নির্মাতার বড় পর্দায় অভিষেক
আয়মান আসিব স্বাধীন ও সুস্ময় সরকার সরাসরি পরিচালনায় আসার আগে দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র ও ওয়েব কনটেন্টের লেখালেখি এবং নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্বাধীন তানিম নূরের ওয়েব সিরিজ ‘কাইজার’ এবং চলচ্চিত্র ‘উৎসব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সুস্ময় ওই কাজগুলোতে গল্পকার ও প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। ফলে ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ তাঁদের জন্য একেবারে শূন্য থেকে শুরু নয়; বরং লেখালেখি ও নির্মাণের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর পরিচালনায় আনুষ্ঠানিক প্রবেশ।
শুটিং শুরু ২০২৭ সালের শুরুতে
প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে। এরপর একই বছরের ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
অবশ্য এখনো শুটিং শুরু হয়নি। ফলে সিনেমাটির চূড়ান্ত নির্মাণমান, দৈর্ঘ্য, অন্যান্য অভিনয়শিল্পী কিংবা বক্স অফিস সম্ভাবনা নিয়ে নিশ্চিত কোনো মূল্যায়নের সুযোগ নেই।
বাংলাদেশি সিনেমায় ঘরানা বদলের ইঙ্গিত
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের মূলধারার চলচ্চিত্রে প্রেম, পারিবারিক গল্প ও সামাজিক নাট্যের পাশাপাশি থ্রিলার, হরর, সায়েন্স ফিকশন ও সময়ভ্রমণভিত্তিক গল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ সেই প্রবণতারই আরেকটি উদাহরণ হতে পারে। বিশেষ করে সাহিত্য থেকে বড় পর্দায় রূপান্তর এবং দুই তরুণ চিত্রনাট্যকারের পরিচালক হিসেবে অভিষেক—এই দুই দিক সিনেমাটিকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে শেষ পর্যন্ত ছবিটির সাফল্য নির্ভর করবে গল্পের চলচ্চিত্রায়ন, অভিনয়, নির্মাণমান এবং দর্শকের গ্রহণযোগ্যতার ওপর।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, এনটিভি অনলাইন, দৈনিক বাংলা ও প্রকাশিত চলচ্চিত্র-সংক্রান্ত তথ্য।




