ধর্মেন্দ্র থেকে রণবীর, অমিতাভ থেকে অভিষেক—যেসব তারকা-সন্তান বাবার উত্তরাধিকারকে নতুন উচ্চতায় নিয়েছেন; আর যাঁদের কাছে পৌঁছায়নি সেই পুরোনো তারকাখ্যাতি
শোবিজ টুডি ডেস্ক
বলিউডে উত্তরাধিকার নতুন কিছু নয়। কয়েক দশক ধরে সিনেমার পর্দায় এক প্রজন্মের পর আরেক প্রজন্ম এসেছে একই পরিবার থেকে। বাবার জনপ্রিয়তা, পরিচিতি, যোগাযোগ এবং চলচ্চিত্রে প্রবেশের তুলনামূলক সহজ সুযোগ—সবকিছুই পেয়েছেন অনেক তারকা-সন্তান।
কিন্তু সুযোগ পাওয়া আর তারকা হয়ে ওঠা এক কথা নয়।
কেউ বাবার ছায়া পেরিয়ে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। কেউ বাবার সমান জনপ্রিয় না হলেও অভিনয় দিয়ে সম্মান অর্জন করেছেন। আবার কেউ বড় ব্যানারে অভিষেক, তারকা পরিবার এবং একের পর এক সুযোগ পেয়েও দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেননি।
বলিউডের এই দীর্ঘ ইতিহাসে তাই একই পরিবারের দুই প্রজন্মের সাফল্যের গল্প যেমন আছে, তেমনি আছে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার গল্পও।
ধর্মেন্দ্রর উত্তরাধিকার সবচেয়ে শক্ত হাতে ধরে রেখেছেন সানি দেওল
বলিউডের অন্যতম সফল ‘স্টার সন’ হিসেবে সানি দেওল-এর নাম প্রথম সারিতেই আসে।
বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র ছিলেন হিন্দি সিনেমার অন্যতম বড় তারকা। তাঁর ছেলে সানি দেওল ১৯৮৩ সালে ‘বেতাব’ দিয়ে অভিষেক করেন। এরপর ‘অর্জুন’, ‘ঘায়াল’, ‘দামিনী’, ‘গদর: এক প্রেম কথা’সহ একাধিক ছবিতে নিজের জায়গা তৈরি করেন।
বিশেষ করে ‘গদর’ তাঁকে গণদর্শকের কাছে বিশাল তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। অর্থাৎ সানি শুধু বাবার পরিচয় ব্যবহার করে ক্যারিয়ার শুরু করেননি; তিনি নিজের অভিনয়শৈলী, অ্যাকশন-ইমেজ ও সংলাপ বলার স্বতন্ত্র ভঙ্গি দিয়ে আলাদা ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন।
ধর্মেন্দ্রর আরেক ছেলে ববি দেওল অবশ্য দীর্ঘদিন ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছেন। ‘বরসাত’, ‘সোলজার’, ‘বাদল’সহ সফল ছবিতে অভিনয় করলেও ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ তারকা হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি। পরে ‘রেস ৩’, ‘আশ্রম’সহ বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় ফেরেন।
সুতরাং একই বাবার দুই ছেলের ক্যারিয়ারেও সাফল্যের পথ যে এক নয়, দেওল পরিবার তার একটি বড় উদাহরণ।
রণবীর কাপুর: ঋষি কাপুরের ছেলে, কিন্তু নিজস্ব তারকা পরিচয়
কাপুর পরিবার বলিউডের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী চলচ্চিত্র-পরিবারগুলোর একটি।
ঋষি কাপুর ছিলেন নিজ প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক। তাঁর ছেলে রণবীর কাপুর ২০০৭ সালে ‘সাওয়ারিয়া’ দিয়ে অভিষেক করলেও প্রথম ছবিটি আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেনি।
কিন্তু ‘ওয়েক আপ সিড’, ‘রাজনীতি’, ‘রকস্টার’, ‘বরফি!’, ‘তামাশা’, ‘সঞ্জু’, ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ এবং ‘অ্যানিমেল’-এর মতো ছবির মাধ্যমে রণবীর নিজের অভিনয়ক্ষমতা ও তারকা-অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছেন।
বিশেষ করে ‘সঞ্জু’ ও ‘অ্যানিমেল’ প্রমাণ করেছে, তিনি শুধু কাপুর পরিবারের উত্তরাধিকারী নন; তাঁর নিজস্ব বক্স অফিস শক্তিও রয়েছে।
ঋষি কাপুরের জনপ্রিয়তার সঙ্গে রণবীরের ক্যারিয়ারকে তুলনা করা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু নিজের প্রজন্মের শীর্ষ হিন্দি চলচ্চিত্র তারকাদের তালিকায় তাঁর অবস্থান নিয়ে সন্দেহ কম।
হৃতিক রোশন: বাবার পরিচয় ছাপিয়ে নিজেই ব্র্যান্ড
রাকেশ রোশন ছিলেন সফল অভিনেতা ও পরিচালক। কিন্তু তাঁর ছেলে হৃতিক রোশন-এর অভিষেক যেন বাবার পরিচয়কে ছাড়িয়ে যাওয়ার গল্প।
২০০০ সালে ‘কহো না… পেয়ার হ্যায়’ মুক্তির পর রাতারাতি জাতীয় তারকা হয়ে ওঠেন হৃতিক। এরপর ‘কোই… মিল গয়া’, ‘লক্ষ্য’, ‘কৃষ’, ‘ধুম ২’, ‘জোধা আকবর’ এবং ‘ওয়ার’-এর মতো ছবিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।
তাঁর ক্ষেত্রে সফলতা শুধু বক্স অফিসে সীমাবদ্ধ নয়। অভিনয়, নাচ, অ্যাকশন এবং পর্দার উপস্থিতি—সব মিলিয়ে হৃতিক নিজের একটি স্বতন্ত্র তারকা-পরিচয় তৈরি করেছেন।
অমিতাভের ছেলে অভিষেক: সুপারস্টার নন, তবু ব্যর্থও নন
এখানেই ‘সফল’ ও ‘ব্যর্থ’ শব্দের সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে স্পষ্ট।
অমিতাভ বচ্চন ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সুপারস্টার। তাঁর ছেলে অভিষেক বচ্চন ২০০০ সালে ‘রিফিউজি’ দিয়ে অভিষেক করেন।
শুরুর কয়েক বছর একের পর এক ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। কিন্তু ‘যুবা’, ‘ধুম’, ‘সরকার’, ‘বান্টি অউর বাবলি’সহ একাধিক ছবিতে তিনি অভিনয়ের স্বীকৃতি পান। ‘যুবা’র জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কারও পান। তাঁর ক্যারিয়ার নিয়ে বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৪ সালে ‘যুবা’ ও ‘ধুম’-এর মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে।
অভিষেক কখনও তাঁর বাবার মতো সর্বভারতীয় সুপারস্টার হয়ে উঠতে পারেননি। কিন্তু তাঁকে ‘ব্যর্থ অভিনেতা’ বলাও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বরং তাঁর গল্পটি হলো—অসাধারণ বড় একটি নামের ছায়ার নিচে থেকেও নিজের আলাদা অভিনয়-পরিচয় তৈরি করার সংগ্রাম।
শহীদ কাপুর: বাবার নয়, নিজের পরিচয়ে দাঁড়ানো
পঙ্কজ কাপুর ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের অন্যতম সম্মানিত অভিনেতা। তাঁর ছেলে শহীদ কাপুর প্রথমদিকে মূলধারার রোমান্টিক নায়ক হিসেবে পরিচিতি পেলেও ধীরে ধীরে অভিনয়ের পরিসর বাড়িয়েছেন।
‘কামিনে’, ‘হায়দার’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘কবীর সিং’সহ নানা ধরনের চরিত্রে কাজ করে শহীদ নিজস্ব তারকা-পরিচয় তৈরি করেছেন।
তিনি বাবার জনপ্রিয়তার উত্তরাধিকারী হওয়ার চেয়ে অভিনয়ের নিজস্ব ভাষায় পরিচিত হয়েছেন।
এবার অন্য গল্প—যাঁরা তারকা পরিবারের সন্তান হয়েও থিতু হতে পারেননি
উদয় চোপড়া: বিশাল ব্যানার, কিন্তু সীমিত অভিনয়যাত্রা
যশ চোপড়ার ছেলে উদয় চোপড়ার জন্য বলিউডে প্রবেশের দরজা ছিল অন্য অনেকের তুলনায় অনেক বেশি খোলা।
‘মোহাব্বতে’ দিয়ে অভিষেকের পর ‘ধুম’ সিরিজে তিনি পরিচিতি পান। কিন্তু বড় ব্যানার ও সফল ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও একক নায়ক হিসেবে স্থায়ী তারকা-পরিচয় তৈরি করতে পারেননি।
পরবর্তীতে অভিনয়ের বদলে প্রযোজনা ও অন্যান্য ব্যবসায়িক কাজে বেশি মনোযোগ দেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের দীর্ঘদিনের মূল্যায়নেও তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারকে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফারদিন খান: পুরস্কার দিয়ে শুরু, থেমে গেল পথ
ফিরোজ খান ছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক। তাঁর ছেলে ফারদিন খান ১৯৯৮ সালে ‘প্রেম আগান’ দিয়ে অভিষেক করেন এবং সেরা নবাগত অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পান।
এরপর ‘জঙ্গল’, ‘প্যায়ার তুনে ক্যা কিয়া’, ‘ভূত’, ‘নো এন্ট্রি’, ‘হে বেবি’সহ বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেন।
ক্যারিয়ারে সফল ছবি থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘমেয়াদি শীর্ষ তারকা হয়ে উঠতে পারেননি। ২০১০ সালের ‘দুলহা মিল গয়া’র পর দীর্ঘ বিরতি নেন।
অর্থাৎ ফারদিনের গল্প সরাসরি ‘ব্যর্থ’ নয়; বরং সম্ভাবনাময় সূচনা থেকে অসম্পূর্ণ তারকা-যাত্রা।
জায়েদ খান: ‘ম্যায় হুঁ না’ দিয়েও জায়গা পাকাপোক্ত হয়নি
অভিনেতা সঞ্জয় খানের ছেলে জায়েদ খান ২০০৩ সালে অভিষেক করেন। ‘ম্যায় হুঁ না’-এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে শাহরুখ খানের সঙ্গে কাজ করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন।
কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাকে ধারাবাহিক তারকা-সাফল্যে রূপ দিতে পারেননি। ‘দশ’, ‘রকি: দ্য রেবেল’, ‘ব্লু’সহ বিভিন্ন ছবিতে কাজ করেও শীর্ষসারির অভিনেতা হয়ে উঠতে পারেননি। তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ার মূলত ২০০০-এর দশকেই বেশি সক্রিয় ছিল।
তুষার কাপুর: সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকলেও নায়ক হিসেবে সীমাবদ্ধতা
জিতেন্দ্র ছিলেন হিন্দি সিনেমার বড় তারকা। তাঁর ছেলে তুষার কাপুর ২০০১ সালে ‘মুঝে কুছ কেহনা হ্যায়’ দিয়ে শুরু করেন।
একক নায়ক হিসেবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলেও ‘গোলমাল’ সিরিজে তাঁর ‘লাকি’ চরিত্র অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়।
তাই তুষারকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা ঠিক হবে না। বরং তিনি প্রমাণ করেছেন—একজন অভিনেতার সাফল্য সবসময় প্রধান নায়ক হওয়ার ওপর নির্ভর করে না। চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও দীর্ঘ ক্যারিয়ার তৈরি করা যায়।
দেব আনন্দের ছেলে সুনীল আনন্দ: কিংবদন্তি বাবার ছায়া পেরোনো হয়নি
দেব আনন্দ ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম আইকনিক নায়ক। তাঁর ছেলে সুনীল আনন্দ অভিনয়ে প্রবেশ করলেও বাবার মতো জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেননি।
এটি বলিউডের সেই বহু উদাহরণের একটি, যেখানে পরিবারের কিংবদন্তি পরিচয় উত্তরসূরির জন্য সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা নিশ্চিত করতে পারেনি।
মিঠুনের ছেলে মহাক্ষয়: নামের ওজন ছিল, সাফল্য আসেনি
মিঠুন চক্রবর্তী-র ছেলে মহাক্ষয় চক্রবর্তী, যিনি মিমোহ নামেও পরিচিত, ২০০৮ সালে ‘জিমি’ দিয়ে অভিষেক করেন।
বড় তারকা পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ক্যারিয়ার মূলধারার হিন্দি সিনেমায় উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিশ্লেষণেও তাঁকে এমন তারকা-সন্তানদের তালিকায় রাখা হয়েছে, যাঁরা বড় পরিবারের সুবিধা পেয়েও প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছাতে পারেননি।
ইশা দেওল, তানিশা, সোহা—তারকা পরিবার মানেই সুপারস্টার নয়
নারী তারকা-সন্তানদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়।
ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর মেয়ে ইশা দেওল ‘ধুম’-এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করলেও মায়ের মতো দীর্ঘমেয়াদি তারকা অবস্থান তৈরি করতে পারেননি।
তনুজার মেয়ে তানিশা মুখার্জি এবং শর্মিলা ঠাকুরের মেয়ে সোহা আলি খান অভিনয়ে নিজেদের জায়গা তৈরি করলেও তাঁদের ক্যারিয়ার কখনও তাঁদের পরিবারের সবচেয়ে বড় তারকাদের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
এখানেও ‘ব্যর্থ’ শব্দটি সাবধানে ব্যবহার করা উচিত। কারণ অভিনয়জীবনের সাফল্য শুধু সুপারস্টারডম দিয়ে মাপা যায় না।
কেন কেউ সফল হন, কেউ হন না?
বলিউডে তারকা-সন্তান হওয়ার বড় সুবিধা হলো—প্রথম দরজাটি অনেক সময় অন্যদের তুলনায় সহজে খুলে যায়।
কিন্তু দ্বিতীয় দরজাটি খুলতে লাগে দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা।
কেউ নিজের জন্য উপযুক্ত চরিত্র খুঁজে পান। কেউ একটি নির্দিষ্ট ঘরানায় ব্র্যান্ড তৈরি করেন। কেউ সময়ের সঙ্গে অভিনয়শৈলী বদলান। আবার কেউ বারবার ভুল চিত্রনাট্য নির্বাচন করে হারিয়ে যান।
সাম্প্রতিক দশকগুলোর বিভিন্ন বিশ্লেষণে তাই দেখা যায়, চলচ্চিত্র পরিবার থেকে আসা তারকাদের মধ্যেও সাফল্যের হার একরকম নয়।
এক নজরে দুই প্রজন্ম
| বাবার নাম | ছেলে | মূল্যায়ন |
|---|---|---|
| ধর্মেন্দ্র | সানি দেওল | বড় সাফল্য |
| ঋষি কাপুর | রণবীর কাপুর | বড় সাফল্য |
| রাকেশ রোশন | হৃতিক রোশন | সুপারস্টার |
| অমিতাভ বচ্চন | অভিষেক বচ্চন | সম্মানিত অভিনেতা, তবে বাবার মতো সুপারস্টার নন |
| পঙ্কজ কাপুর | শহীদ কাপুর | প্রতিষ্ঠিত তারকা |
| ফিরোজ খান | ফারদিন খান | সীমিত/অসম্পূর্ণ সাফল্য |
| সঞ্জয় খান | জায়েদ খান | প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি |
| যশ চোপড়া | উদয় চোপড়া | অভিনয়ে সীমিত সাফল্য |
| জিতেন্দ্র | তুষার কাপুর | নায়ক হিসেবে সীমিত, চরিত্রাভিনয়ে সফল |
| দেব আনন্দ | সুনীল আনন্দ | বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেননি |
| মিঠুন চক্রবর্তী | মহাক্ষয় চক্রবর্তী | প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি |
| ধর্মেন্দ্র–হেমা মালিনী | ইশা দেওল | সীমিত সাফল্য |
সবশেষে যে সত্যটি থেকে যায়
বলিউডের ইতিহাস একটি বিষয় খুব পরিষ্কার করে দিয়েছে—বাবার স্টারডম উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া যায়, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যায় না।
একজন তারকা-পুত্র প্রথম ছবি করার সুযোগ পেতে পারেন। বড় প্রযোজক তাঁকে নিতে পারেন। প্রচারণা হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পর্দায় তাঁকে গ্রহণ করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত দর্শকের।
সানি দেওল, রণবীর কাপুর ও হৃতিক রোশনের মতো শিল্পীরা বাবার পরিচয়কে পেছনে ফেলে নিজের তারকা-পরিচয় তৈরি করেছেন। আবার অভিষেক বচ্চনের মতো কেউ বাবার সমান উচ্চতায় না উঠেও নিজের অভিনয়-স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠা করেছেন।
অন্যদিকে উদয় চোপড়া, ফারদিন খান, জায়েদ খান কিংবা সুনীল আনন্দের ক্যারিয়ার দেখিয়েছে—বিশাল পারিবারিক পরিচিতিও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়।
সুতরাং বলিউডে ‘স্টার কিড’ হওয়া হয়তো প্রথম সুযোগের টিকিট; কিন্তু কত দূর যাওয়া যাবে, সেই যাত্রার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিভা, নির্বাচন, পরিশ্রম এবং সবচেয়ে বড় কথা—দর্শক।
তথ্যসূত্র: IMDb, Filmfare-সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য, Times of India, GQ India, NDTV এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্রভিত্তিক প্রকাশিত প্রতিবেদন।




