গত বছরের আগস্টের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ১০.৮২ শতাংশ; অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট রেমিট্যান্স ৫.৮২ বিলিয়ন ডলার
ঢাকা | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আগস্টে ২.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের আগস্টের ২.৬৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এবার রেমিট্যান্স বেড়েছে ১০.৮২ শতাংশ বা প্রায় ২৯ কোটি ডলার। তবে টানা তৃতীয় মাসের মতো মাসিক রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে।
এর আগে জুনে বাংলাদেশ ২.৮২ বিলিয়ন এবং জুলাইয়ে ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছিল। বিপরীতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত প্রতিটি মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। ফলে আগস্টের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও মাসিক প্রবাহের গতিতে আগের তুলনায় কিছুটা শ্লথতা রয়েছে।
বছরের শুরুটা অবশ্য এখনো শক্তিশালী
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৫.৮২ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৪.৯০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ নতুন অর্থবছরের শুরুতেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় শক্তিশালী রয়েছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৫.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক রেমিট্যান্স প্রবাহ। ফলে গত অর্থবছরের শক্তিশালী প্রবাহের পরও নতুন অর্থবছরে প্রবাসী আয় তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে।
ব্যাংকিং চ্যানেলেই কেন বাড়ছে আস্থা
ব্যাংকারদের মতে, অনুকূল বিনিময় হার এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার পাওয়ার সুযোগ রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। আগস্টে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম ছিল আনুমানিক ১২২ থেকে ১২৩ টাকা। এর সঙ্গে রেমিট্যান্সে সরকারের ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনাও প্রবাসীদের আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।
এর অর্থ হলো, রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি শুধু বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশির আয় বাড়ার কারণে নয়; অর্থ দেশে পাঠানোর মাধ্যমের ওপরও তা নির্ভর করছে। অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের তুলনায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার থাকলে আনুষ্ঠানিক প্রবাহ আরও শক্তিশালী হতে পারে।
রেমিট্যান্স বাড়লেও ডলারের চাহিদা কম কেন
ব্যাংকারদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো—রেমিট্যান্স শক্তিশালী থাকলেও দেশে ডলারের চাহিদা তুলনামূলক কম। এর পেছনে দুর্বল বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তাঁরা। একই সময়ে ব্যাংকগুলোতে ডলার তারল্যও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে রয়েছে।
এটি অর্থনীতির জন্য একই সঙ্গে ইতিবাচক ও সতর্কতার বিষয়। একদিকে রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে বিনিয়োগ ও মূলধনী আমদানি দুর্বল থাকলে সেই ডলারের চাহিদা তৈরি হচ্ছে কম।
রেমিট্যান্স কেন দেশের অর্থনীতির জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ
রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। এটি আমদানি অর্থায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার বাজার এবং পরিশোধ ভারসাম্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। প্রবাসী আয় শক্তিশালী থাকলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বাড়ে এবং বৈদেশিক লেনদেনের চাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা উন্নত হয়।
তবে দীর্ঘমেয়াদে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং উৎপাদনশীল খাতে আমদানি ও বিনিয়োগও বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে প্রবাসী আয়ের অর্থ কীভাবে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে যায়, সেটি ভবিষ্যতের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
📊 রেমিট্যান্সের বর্তমান চিত্র
| সময় | রেমিট্যান্স |
|---|---|
| আগস্ট ২০২৬ | $2.97 বিলিয়ন |
| আগস্ট ২০২৫ | $2.68 বিলিয়ন |
| জুন ২০২৬ | $2.82 বিলিয়ন |
| জুলাই ২০২৬ | $2.86 বিলিয়ন |
| FY27 জুলাই-আগস্ট | $5.82 বিলিয়ন |
| FY26 মোট | $35.5 বিলিয়ন+ |
🧭 সামনে নজর কোন দিকে
আগামী কয়েক মাসে রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের মাসিক স্তর আবার নিয়মিতভাবে অতিক্রম করতে পারে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির সঙ্গে বিনিয়োগ ও আমদানি কার্যক্রমও শক্তিশালী হয় কি না, তাও অর্থনীতির বাস্তব অবস্থার মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক, The Business Standard।




